
কোহিনূর মিত্রের কবিতাগুচ্ছ
১
তুমি বললেও ভাষা বদলাব না
নির্বিকার সময়ের রাঙতা খুলে
পড়ছে,আমি মুখ ঢাকছি
বুকে নামছে ধারা
কিছু পঙ্গু লোলুপ
সন্তান সেজে পান করছে
আমি দেখতে দেখতে
শীতের ফিকে হাওয়ায় মিশে যাচ্ছি
ভাষা বদলাচ্ছি না
যতক্ষণ না কব্জি শক্ত হয়
মেরুদণ্ড মানে দেশ
কথাটি সিঁধিয়ে যায় প্রত্যক শরীরে
ততদিন ভাষার মুখে
আসন পেতে রইলাম
২
তবে কী কেউ নেই
সাথে চলবার মতো
মায়াময় হাত বুকে পিঠে
মেলায় ঘুরে দেখি
কোন সে গহন থেকে
কুড়িয়ে এনে রূপকথা
ছড়িয়ে দেয় এরা
সবটা বলতে নেই
শেকল ঘেরা সবুজ জলে ভাসে
পাতাওড়া উঠোনের ছবি
শেষে তবে এই সত্যি
ছায়া ছাড়া মানুষের আর কেউ নেই
ছিল না কোনোদিন
৩
নীরবে কেটেছ শিব সতী
এক এক অধিষ্ঠান দিয়েছ
সংসার পীঠে নিত্যদাসী
তবু মহতি আচ্ছাদনে
মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যায়
প্রতিদিন নেমে আসে
সহস্র ঘন্টাধ্বনি শাঁখ
সিঁদুর সেবার মার্জনা
লুঠ হয়ে যায় শক্তিদ্যুতি মূর্চ্ছনা
পুরুষ দেবতা তুমি
তোমার অমৃত নাম
লেখা হোক প্রতিপক্ষ পাতায়
৪
দরজা ফাঁক
আধখোলা ঠোঁট
চুম্বন অথবা প্রত্যাখ্যান
কিছুই নয়
হাত বাড়াতে হলে
সজ্জা যেন থাকে
বুকে তীর
পা দুটি আলতা ডোবানো
৫
আয়নার দিকে তাকাতে ভয় করে
মনে হয় জলের বৃত্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে
মানুষ যেমন মুখ থেকে বুদবুদ ফেলে
সেভাবেই আছি
জলজ প্রাণী আর আগাছার ওপর
ভাসমান পা দুটি নিয়ে
তোমার বাড়ানো হাত আয়নার মতো
অস্ত্র শেষে শুধু রক্ত
ঘাতক অবয়ব ,আর রেখা ভ্রান্তি
ঝলকায়
৬
গম্বুজের আড়ালে চলে গেল কে
ঝাঁক ঝাঁক পায়রার মাঝখান থেকে
হেঁটে যাচ্ছে যারা হেসে উড়িয়ে দিচ্ছে
প্রাসাদের অভিমান জামরঙের
সামিয়ানার নিচে তীরন্দাজ
কাঁচুলির আয়নায় ঘোড়সওয়ার
মার্বেলের সিঁড়ি বেয়ে নামছে আলেয়া
এর থেকে দূরে
জন্ম নিচ্ছে কেউ তিলক মুছে
জন্মাচ্ছে বামুনের ঘরে চাঁদ হয়ে
একটা সাম্রাজ্যের ইতিহাসে
চাবুক মারছে সময়
শিশুটি কেঁদে উঠছে
ভেঙে পড়ছে জ্যোৎস্না
আহ্লাদী উঠোনে
৭
গতিই মঙ্গলময়
অন্তরে বাইরে সুখে অসুখে
কেবলই পেরিয়ে যাওয়া
ক্ষেতকে কুয়াশা অন্ধকে বর্ণনা
আর বিরহীকে কৃষ্ণ দাও
ওরাও সাঁকো পার হবে
সময়ের ভরসায়

