
খুকু ভুঞ্যা-র কবিতাগুচ্ছ
তবুও মুহূর্তেরা ঢেউ তুলুক
ঝরে যাওয়া এক অসুখ
আমরা সবাই এই অসুখের পাশে বসে সবুজ পাতাগুলো নাড়িয়ে যাই
ভেতরে শীত এসে চুপ করে বসে থাকে
টের পাইনা কেউ
কি করে বুঝব, আমাদের কেউ আড়াল থেকে দেখছে
এবং প্রতিদিনের প্রিয় ক্ষণ খুঁটে নিয়ে
পাতার মর্মরে লিখে দেয় ভাসান
দরজা খুলে হেসে ওঠা মুখ পুড়ে যায় চিতায়
তবুও যতক্ষণ টের পাব বেঁচে আছি-
ভাত রাঁধছি কবিতা লিখছি –
প্রিয়জনের বুকে মাথা রেখে পেরিয়ে যাচ্ছি অস্থির সময়-
যদি কাল আসে মহাকাল
আজ তোমাদের মাঝে বলে যাব অমরতা পাক এই শুভক্ষণ
চিতার হুল্লোড় নাইবা বিছালাম-
ধান ফুলছে মাঠে–
দ্রোহদহে
কারুর ভেতর আর আগুন নেই
কেমন চুপচাপ
নতুন কিছু হচ্ছে না, তো হচ্ছে না
কোথাও প্রতিশ্রুতি রাখা নেই
কোথাও মানত নেই
নিজের বৃত্তের ভেতর যত হাহুতাশ ক্ষোভ খেদ
রংচটা শাড়ির মতো ঝুলছে পুরোনো বাঁশে
যারা এগিয়ে গেছে অনুসরণ করা যেত
ক্লান্তি অবসাদ আর সংসারের কিছু কঠিন সত্যের ঝটকা সামলাতে সামলাতে
কলসির অন্ধকার চাঁদ দেখেনি কতদিন
এই শূন্যতার বোঝাপড়া কার সঙ্গে করি
বাইরে টিকে থাকা আর টিকিয়ে রাখার লড়াই-
বাদুড় খাওয়া ফলের মতো চারপাশ
আমাকে আরো ঝাঁঝরা করে দেয়–
আর কত দহনের পরে তোমাকে জোসনা দিয়ে ধুতে পারব
হে আমার অলিখিত অক্ষর রাত
আমাকে নিমজ্জিত করো দ্রোহদহে
বিনির্মাণ
খুব পুরোনো এক অন্ধকারে হাঁটতে গিয়ে দেখি
একটা অস্পষ্ট ছায়া আমাকে এড়িয়ে চলে যাচ্ছে দূরে-
তার হাত নেই
অথচ আমি ধরতে চাই –হাঁটতে চাই অন্তহীন–
মিলিয়ে গেল হুস করে
তারপর একা একা নিজেকে নিয়ে নদীর রচনা
চোখের অশ্রুতে লু ঢেউ
উফ – চেষ্টা বুঝি এমনি ই–
নিজেকে ভেঙে আত্ম বিনির্মাণ
ফিরে এলাম চেনা কুয়াশায়
ভোর হয়ে গেছে
কাক ডাকা গন্ধের ভেতর দেখি
আমাকে পড়ছে আসন্ন অন্ধকার
জিতে গেছি
হৃদয়ে বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি চোখে গেরস্ত ধানমাঠ
ঘাম আঁচল থেকে গড়িয়ে পড়ছে আঁটি আঁটি কবিতা —

