
শিশির আজম-এর কবিতাগুচ্ছ
১ লাইনের কবিতা
জগতের সব জ্ঞানী আর গুরুজনেরা বলেন
স্বপ্ন দেখতে হলে বড় বড় স্বপ্ন দেখাই ভাল
অথচ আমার স্বপ্নে আসে
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পিঁপড়ে আর ছোট ছোট নদী
ছোট ছোট গাছ
ছোট ছোট আকাঙ্ক্ষা
ফ্রয়েড কী বলেন
আমার আকাঙ্ক্ষা কি খুব ছোট
এশিয়ার দক্ষিণে শস্যশ্যামল এক দ্বীপে আমি বড় হয়েছি
দ্বীপটা ছোট
কিন্তু সমুদ্র তো অনেক বড়
দেখো একদিন আমি লিখবো ১ লাইনের কবিতা
লিখতে পারবো
আর ঐ ১ লাইনের কবিতা
১ লাইনে
তোমরা পারবে না পড়ে শেষ করতে
দুপুরের কাক
প্রতিদিন দুপুরে আমার বাড়ির দোতলার ব্যালকনিতে
তিনটে কাক এসে বসে
তিনটে কেন
এই প্রশ্ন নিজেকে আমি করি
ওদের আমি খেতে দিই
ওরা খায় একদমই চেঁচামেচি করে না
কেন চেঁচামেচি করে না
আমি বিস্মিত হই আর কিছুটা আতঙ্কিত
ওদেরকে আমি ডাকি ওরা কথা বলে না
এমন কি ওরা নিজেদের ভিতরও কথা বলে না
এইটা কেন
আমার কি আরও সতর্ক হওয়া দরকার
রুশদেশে পিকাসো
ভাবো আমি রুশদেশে গেছি পিকাসোকে দেখতে।
এটা হয়?
পিকাসো কি কখনই গেছেন রুশদেশে?
কিন্তু উনাকে তো আমরা রুশি বলতেই পারি।
উনি তো প্যারিসিয়ানও
এবং অবশ্যই স্প্যানিশ।
কেন উনি পারছেন না ওনার ক্যানভাসের মেয়েগুলোকে
ক্যানভাসের সীমানায় আটকে রাখতে?
কীসের যন্ত্রণা ওদের
কীসের অবাধ্যতা
না কি ওরা পিকাসোর প্রতিই বিরক্ত?
পিকাসোর যে প্রতারিত প্রেমিকাগণ এখন পিকাসোকে ক্রমাগত
অভিশাপ দিচ্ছে
শত শত বছর যাবৎ এরা ছিল কোথায়
জানো তোমরা?
ষোড়শ লুইয়ের প্রাসাদ থেকে যে ওদের বাঁচিয়ে এনেছে
সেই তো পিকাসো।
হ্যা, পিকাসোকে খুঁজতে মস্কোয় লেনিনগ্রাদে সাইবেরিয়ায়
অথবা ভলগার তীরে
আমি যেতেই পারি।
লেনিন ওকে ডেকেছেন আর দিয়েছেন বন্ধুত্বের সম্মান।
আর জানো তো লেনিন আমারও বন্ধু।
Long Live America
বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার একটা সামরিক ঘাঁটি থাকা উচিৎ
আমেরিকার একটা বঙ্গোপসাগরও থাকা উচিৎ
আর সাগরের তীর ঘেসে জনপদ
তারপর জনপদ ধরে আধুনিক রাস্তাঘাট
হাসপাতাল স্কুল উপাসনালয়
কারখানা ডাকঘর মিউজিক ইন্সটিট্যুট
লাইব্রেরি পতিতালয়
এগুলো এবং আরও যা যা সব আমেরিকার থাকা উচিৎ
যেহেতু আমেরিকা সভ্য
হ্যা
আমেরিকাই সভ্য
অজানা আখ্যান
চারদিকে বেনো জল। টইটুম্বুর খানাখন্দ।
— অন্ধ! অন্ধ!
ভালোমন্দ চুলোয় যাক গে, ভিজেপুড়ে জ্বর হোক।
নক্ষত্রের পেটে জেগে থাকো দূরন্ত অশোক।
সভ্যতা বা সংস্কৃতি যা বলো, সব যৌথ কলাকাজ।
ক্রোধ আর ভালোবাসা শর্তহীন সাজিয়েছে তাজ।
এ-হলো তাহিতিগাথা, এ-হলো ঋত্বিকভূমি, শুনি
বাঁধা আছে বেতসলতায় ছোটখাট তিনশো জননী।
তাম্রশলাকায় টাঙানো প্রকৃতিচিহ্ন।
মরুশেয়ালেরা সারাদিন খুঁজে বেড়িয়েছে অপরাহ্ণ।
ছাদে ছিল ছেঁদো তৃষ্ণা।
— স্রোতে মরুমাতোয়ারা। কেউ তোরা মাটিতে নামিস না!
কতো মেঘহাম্বা, কতো কুটুমভাসানো জল
খালি বুকে ফিরে যায়। কে দেখেছে বেদনামাদল?
জলসিক্ত পাতাগুলো দুয়োরে দাঁড়ালো।
সে-আঁধার মায়াপুরবাস। কে মাড়ালো? কে মাড়ালো?
রাজারাণি অন্ধ।
ঝড় থেমে গেল। চাদ্দিকে উড়ছে অস্থিপোড়া গন্ধ…
CATEGORIES কবিতা

