
শ্যামশ্রী রায় কর্মকার-এর কবিতাগুচ্ছ
ফাইল চর্যা
হাজার চুরাশি মেয়ে? তারও বেশি ডুবে গেছে গোপন ফাইলে
গণিত সরল বড়। কৌতুকের বর্গমূল করে অশ্রু হয়
তুমি ভাবো দূরে, প্রতিটি দেশেই সংগোপনে যে অক্সিলিয়ারি
শক্ত করে হাত, পোষ্য ঘাতকের মতো, কর্মফলে টিঁকে রয়
ক্রমে ক্রমে সেই রাজা হয়তো বা, স্মৃতি বড় সুযোগসন্ধানী
সুরক্ষা পেলেই মাথা হেলিয়ে সে শঙ্খ ফোঁকে প্রণব প্রণব
আত্মার সূচক যত ঊর্ধ্বগামী আজ এই মহিষ-বাজারে
শিখতে পারোনি? হা হা! এই জন্মে তবে হয়ে থাকো জড়দ্গব
চক্রবৃদ্ধি হারে ক্রোধও বাড়ে। পুন্না! মানুষের অস্ত্র এই ক্রোধই
যদি নাও নিজ হাতে দণ্ড চক্র ধনু বজ্র ত্রিশূলের মতো
ফ্যালো নিজ পদতলে শিং উঁচিয়ে ছুটে আসা আস্ত জাহান্নামও
ধুলোই অদম্য ঝড় হতে পারে, সেনাপতি হয় সে সংগত
তুমি শষ্প, তুমি অগ্নি, শোণিত, উত্থানছন্দ, তুমিই কবিতা
তুমি সেই নিরঞ্জন। হাবুডুবু ফুঁড়ে ওঠা বিশ্বাস-সংহিতা
রাজা-রানি চর্যা
বাদাম মাখার মতো উজ্জ্বল কিশোর, পথে, শিব সংকীর্তনে
চায়ের দোকানে রোজই পাপড়ি ছড়িয়ে থাকে ধর্মত কিশোরী
গোপন ফাইল ফেটে গড়াগড়ি যায় কত সম্রাটের ডানা
প্রিয়দর্শী দেশে, গর্জমান কাপে কাপে তারই অগ্নি উড়োউড়ি
ওসব শোনে না মেয়ে, অনাহত ডমরুর শব্দ তার কানে
পুকুর পাড়ে যে তাকে প্রতিদিন ছুঁয়ে যায় নটসজ্জা আঁখি
সারাদিনই সেই ঘোরে ঝাড়ু পোছা কালি তোলা নরম আঙুলে
দশবলরূপ রত্নে বিবিধ বন্ধন ছেড়ে যেতে চায় পাখি
নগর বাহিরী, যদি সাঙা করে, গড়ে নেয় কুঁড়ে নিজ হাতে
একুশের দেশে তারা দুই দেহনগরীর রাজা আর রানি
মহানদী পার হবে ভেবে এক বুক জলে নেমে পড়ে যদি
ত্রিশরণ ডিঙাদুটি ভাসায়, কীসের কোপে ফোঁসো হে সন্ধানী?
বামে চন্দ্র টেনেও তো ডাহিনে সূর্যের বিষধারা ছাড়ো কত
গুপ্ত সরস্বতী জানে, কাকে পুণ্যস্নান দিতে সে হবে সম্মত


দুটি কবিতাই ভালো লাগলো।