
সুদেষ্ণা মৈত্র-র কবিতা
রেহাই
ত্রিভুবনে নরম সন্ন্যাসী, প্রেমভাব ছেড়ে হাতে
খুলি নিয়ে বসে আছে দেখি
এ দেখায় জপ করি রোজ
মুণ্ডমালায় রাখি প্রেতিনীর শোক
“আহা! ও এমন কবে হলো?”
রঘুনাথ দাস কহে,
“আমি যে স্বয়ং ওকে নিয়ে
গোপালের মধুবনে কৃষ্ণ খুঁজেছি?”
আহা! এ কোন প্রতারক, এমন বসন খুলে নিলো?
খুঁজি রোজ প্রতারক আমি।
মহর্লোক, প্রেতলোক, ভূর্বলোক ছেনে
সামান্য বাঁচা-মরা ছুঁয়ে ফেলি, বলি-
” প্রেমভক্তি, শুদ্ধজ্ঞান, ব্রহ্মলোক সব
আসলে পালিয়ে বাঁচা নিজের ভিতর।”
সুনামগঞ্জ
সুনামে ধন্য হলো বালিহাঁস
পলান্নে আর ভয় নেই।
হাতভর্তি গৃহীর সুবাস ঢেলে
গলে যাব পাখনাবিলাসে
হৃদিসরোবর, মন্ত্রমুগ্ধ কোনো
ছুরি দেখে ছুটেছে হঠাৎ
রঙ নাও, খোল নাও,
চোখেমুখে বালির প্রহার
সতর্কবার্তাহীন চই চই, আসি
আঙুলের ডগাটুকু, ঠোঁট ঠেলে
প্রবেশগরিমা
সুনামগঞ্জ থেকে ভালোবাসা রেখে আসি
সুস্বাদু মাথার ভিতর।

