
গুচ্ছ কবিতা – সুপ্রতীক ঘোষ
১. রাধা
চুম্বন শেষে নেমে আসি নদে
ধুয়েনি লাল দাগ, ঠোঁটের।
ওপারে দাঁড়িয়ে জরা ব্যাধ
ধুয়ে নেবে লাল দাগ, রক্তের।
আমার দুজনেই জানতাম না—
নদের নাম রাধা।
২. মায়ের বাড়ি
ফিলোসফি টিউশনের শেষ দিন
আমি হরহর করে বমি করে দিলাম তোমার গায়ে
গঙ্গা মাটির মতো নরম শরীরটা ভিজে গেল তোমার
আঁশটে গন্ধে ভরে উঠল গোটা ঘর
একটা লাল আরশোলা দেখলে যে মেয়ের গা রিরি করে উঠত
সে মেয়ে এক চুলও নড়ল না সেখান থেকে
নড়ল না সেখান থেকে
নড়ল না সেখান থেকে।
না নড়ে জয়রামবাটী তৈরি করা যায়
বুঝলাম সেই দিন।
৩. ভুবনমঙ্গল
চিতার ওপর শুয়ে আছে দেশলাই কাঠি।
আমি কতকাল ভেবেছি, এ দৃশ্য আমি আমার প্রেমিকাদের দেখাবো।
পারিনি।
আজ ভুবনমঙ্গলের এই রাতে আমি ওদেরকে আনতে পেরেছি।
বহু কষ্টে আনতে পেরেছি।
চিতার ওপর শুয়ে আছে দেশলাই কাঠি।
আমার প্রেমিকারা চিৎকার করে, কবি কবি কবি।
৪. নাভীকুন্ডে যে রাজহংসী
ক্যালেন্ডারে দেবতার মাথায় যে পূর্ণবৃত্ত বিভা থাকে
তার মতো জাল ফ্যালো।
নাভীকুন্ডে যে রাজহংসী ডুবে আছে, তাঁকে তুলে আনো।
আমার সামনে বসাও, ওঁকে জবাই করো
ওঁর পেট কেটে বের করো, জয় কালী।
৫. মাধুকরী
ও কে, কে ও সাঁই, সাঁই গো মাধুকরী করো শ্মশানে, গোরস্থানে
হাড্ডি, মুন্ডি রেঁধে খাও।
তেতো লাগে? লাগে না বলো। হাসি মুখে চলে যাও।
ও সাঁই, সাঁই গো, আমাকে নিয়ে যাবে একদিন
ঘুরে ঘুরে মাধুকরী করি।
আমার মহাপ্রভুর হাড্ডি মুন্ডি নিয়ে আবো,
আমি ও বিষ্ণুপ্রিয়া দিদি রেঁধে রেঁধে খাবো।
৬. তুমি যদি হও প্যালেস্টাইন
তুমি যদি হও প্যালেস্টাইন
আমার কালো শার্ট, লেখা আছে যাতে ইহলোক
পড়ে থাকবে স্টকহোম, নোবেল শান্তির মঞ্চে।
তারপর সেই শূন্যস্থানে,
তুমি আমি মিশে যাব কাশবনে।
দেশে দেশে যত সমবেদনার মতো পার্থিব-চুল
এনে দিতে পারি তোমার বাদামি বাদামি চোখে।
দিতে পারি তোমাকে বারুদ মাখা সাতান্ন চুম্বন
দিতে পারি কন্ঠমনি থেকে নিঃসৃত পৌরুষ ঘামের গন্ধ
আর কোমল বিস্ফোরণ।
অব্যয়ের মতো অমর হব আমি, তোমাকে ভালোবেসে
তুমি যদি হও প্যালেস্টাইন, আমি হব বেঞ্জামিন
ভ্রষ্ট প্রেমিক তবে।
৭. শ্রীহংস
সমুদ্রের জলে ভেসে যায় হলুদ হাঁস।
ডানা থেকে ঝেড়ে নিচ্ছে পুকুরের ঘাট।
আর ঘাটে ওঠা হবে না, ঘরে ফেরা হবে না, ধান খাওয়া হবে না।
হবে না কোনও বেগুনি ফুলের সাথে চিরদিনের দেখা।
সমুদ্রের জলে ভেসে যায় হলুদ হাঁস।
ওপারে ডিম নয়, জন্ম দিও হাঁস।
৮. কালাপাহাড়
আমি বিসমিল্লাহ বলে চুম্বন করি ঠোঁটে।
যে ঠোঁট ভাঙ্গা মন্দির
তাকে চুপিচুপি বলি, “আমি কালাপাহাড়। কালাপাহাড় আমি।”
আমি বিসমিল্লাহ বলে চুম্বন করি শুধু ঠোঁটে।
“কী, এত ভয়?
আয় আয়, স্তন দ্যাখ, যোনি দ্যাখ, নিয়ে যা
রাজীবলোচন রায়।”
৯. কলতলাময়
হাঁস, ওর শরীর থেকে খুঁটে খুঁটে ফেলে দিচ্ছে পালক
কলতলাময় পালকে পালকে সাদা হয়ে গেছে।
বগা পঞ্চমীর এই সন্ধ্যে বেলা
কোনও বিধবা সাদা নারী শুয়ে আছে যেন ভিজে কলতলায়
পাশে বসে ওর উলঙ্গ ছেলে।
১০. ধানকন্যা
তোমার শরীরের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে আমার দু-হাতের তীক্ষ্ণ নখ
আলের মতো আঁচর কেটে দেবে।
সেই আল পথ ধরে হেঁটে যাবেন ঈশ্বর
হাঁটতে হাঁটতে একদিন, পৌঁছে যাবেন আমার কাছে।
ধানের গোলা পরিপূর্ণ আজ
উনি এলে রেঁধে দিও গরম ভাত।
CATEGORIES কবিতা

