
সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
হাওয়া বাতাসের লেখা
১
কে আমার লেখা পড়ে?
আলো, হাওয়া, জল বাতাসেরা?
কে আমার শব্দচিহ্ন শুধরে দেয় দিন প্রতিদিন?
এমত সহজ প্রশ্নে আমি জাগি। নিহত উড্ডীন,
নিয়ত নিজেকে রোজ ফেলে রাখি ঘাসের সমীপে।
ক-বর্গ চ-বর্গ শব্দ আতশ কাচের নিচে
আমাকেই তাক্ করে, মাপে…
সরবে প্রশ্ন রাখে, তুমি কে হে নিরক্ষর? বোধবুদ্ধিহীন
আমি বুঝি। মেনে নিই। নিতান্তই অবস্থা সঙ্গীন
আমার অস্থির বাক্য, আমার সন্ত্রস্ত বাক্য সব
নিজেরাই মিশে যায় ক্রমাগত জল হাওয়া ঘাসে
দিন নিভে আসে…
২।।
রাত্রিটিও জেগে ওঠে। নিরঙ্কুশ। প্রত্যক্ষ। একাকী
আমি তার হাতে হাত রাখি…
সে আমার চোখে ঢালে ছায়াপুঞ্জ, তারা খসা আলো
আমার না লেখা বাক্য জমা হয় মেঘে মেঘে এসে
নীহারিকাময় সেই কক্ষপথে, সহসা সকাশে
দেখি বাক্য লেগে আছে শব্দ,ব্রহ্ম, যতিচিহ্নময়
হাওয়া বাতাসের লেখা, মাটি ও ঘাসের লেখা,
সন্ত্রস্ত অস্থির লেখা
লেগে আছে তারায় তারায়…


অপূর্ব! অসাধারণ দুটি কবিতা পড়তে পেলাম। শুধু একটি কথা বলার ছিল – “নিতান্তই অবস্থা সঙ্গীন” – এই অংশটির কি খুব প্রয়োজন ছিল? কারণ এর আগেই আসছে -“আমি বুঝি। মেনে নিই।” আসলে যে অনন্যোপায়, তা বুঝিয়ে দিচ্ছে পরের পংক্তি -“আমার অস্থির বাক্য, আমার সন্ত্রস্ত বাক্য সব নিজেরাই…” – এই ‘নিজেরাই’ এত প্রবল শক্তিশালী যে, এর সাপেক্ষে এমন মনে হল।
কী অপূর্ব দুটি কবিতা!