
করমপরব: ফসলের আবাহন বেবী সাউ
গাছের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আজকের নয়। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর আবিষ্কারের আগে থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতায় গাছ পূজিত হয়, গাছকে ঘিরে মানুষের সাহিত্য, শিল্প, চিত্র ইত্যাদিও তৈরি হতে থাকে। আবার অব্যক্ত এই বন্ধুর উপরেই যে মানুষের সভ্যতার অত্যাচার তুঙ্গে ওঠে, সে বিষয়েও সন্দেহ নেই। সারা বিশ্ব জুড়েই চলে এই অত্যাচার। বিশেষ করে আধুনিক বিশ্বের আধুনিকতার প্রসারের এক নৃশংস অঙ্গই মনে হয় গাছ কাটা, ভালো বাংলায় বৃক্ষচ্ছেদন। কারণ? মানুষের নাগরিক সভ্যতার প্রসার, যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য রাস্তা নির্মাণ, আসবাবের জন্য কাঠ, কড়ি-বরগা ইত্যাদি তৈরির জন্যে। কোটি কোটি টাকার কাঠের ব্যবসা, ফুল, ফলের নাম ব্যবসা, – আরও কত কী! একটি লাভজনক ব্যবসা। প্রতিনিয়ত গাছ কাটার যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চলছে উন্নয়নের নাম করে সারা বিশ্বেই, তাতে শিউরে উঠতে হয়। বিভিন্ন তথাকথিত উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতেও সেই গাছ নিধন যজ্ঞকে ডেকে আনছে। কিছু দিন আগে সমস্ত ন্যাশনাল হাইওয়েগুলিকে ফোর ওয়ে করার যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তাতে যে কত কত গাছকে হত্যা করা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। অবশ্যই উন্নয়ন সমর্থন যোগ্য কাজ; তা বলে পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে নয়। কিন্তু এই আত্মহত্যাপ্রবণ সভ্যতার প্রসারে সভ্যতার সংকট বেড়েছে, আর সেই পরিবেশ দূষণ রোধে মানুষ নিজেই নিয়ে এসেছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এই সব কিছুই আমরা জানি। কিন্তু দেখা যাক কী জানি না!
শ্রাবণ মানেই জলের মাস। ভরে ওঠার মাস। জেগে ওঠা এবং জীবনের মাস। বাঙলার মাঠ ঘাট ভরে ওঠে সবুজে। নদী ভর্তি জল। শুকনো পুকুরে থইথই করছে জীবন। আর কৃষিপ্রধান দেশের হৃদয় নেচে উঠছে কৃষিকাজের আনন্দে। আসলে সুবজ মানেই তো জন্ম। প্রাণ শক্তির প্রাচুর্য। সাধারণত যখন দেখা যায়, বৃক্ষ রোপনের উৎসব চলছে বিভিন্ন স্কুলে, কলেজে, পঞ্চায়েতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে; মনটা উৎফুল্ল হয়ে ওঠে । এই সব উৎসব সারা বছর ধরে চলেও কোথাও কোথাও। যদিও বৃক্ষ রোপন এর কোনও দিনক্ষণ ধার্য করা নেই, (যে হারে বৃক্ষনিধন চলছে, বিশ্বায়নের ছাপ পড়েছে প্রকৃতি এবং পরিবেশে তাতে রোজ একটা করে গাছ লাগালে কতটুকু কী হবে, এটাই প্রশ্ন!) কিন্তু যেহেতু কোনও হুজুগ ছাড়া মানুষের ঘুম ভাঙে না, তাই একদিক দিয়ে এই সব ক্ষনিকের কর্মসূচিও ভালোর জন্যই।
যদি আমরা ভেবে থাকি বৃক্ষরোপণের প্রাসঙ্গিকতা কেবলমাত্র এক আধুনিক বিষয়, তা কিন্তু নয়। তা আসলে এক আবহমান বিষয়। দেখা যায়, লোকায়ত জীবনে প্রকৃতি জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। বাহা, সরহুল, করম, জাওয়া, টুসু বিভিন্ন উৎসব গাছকে কেন্দ্র করে। গাছকে দেবতা জ্ঞানে ভক্তিভরে পুজো। এটি একাধারে যেমন প্রকৃতির কথা বলে তেমনি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একাত্মবাদ কেও ফুটিয়ে তোলে। কথা প্রসঙ্গে কথা বেড়ে যায়। যাইহোক, সমস্যা তো থাকেই তারমধ্যে চিরন্তন ধারার মতো বইতে থাকে আমাদের প্রাচীন সংস্কৃতি, সংস্কার। এইরকম কিছু সংস্কার, সংস্কৃতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ- পশ্চিম অঞ্চল। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম, পশ্চিম সিংভূম জেলা এবং ছত্রিশগড় জেলার কিছু অংশে ‘করম পুজা’র প্রচলন। বলাবাহুল্য, করম পুজোর অনুষঙ্গ হল বৃক্ষ। গাছ। আর
এই পুজোর বিধিনিয়ম একটি প্রবহমান লোক-সংস্কৃতির জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। করম পুজোর যেমন নিজস্ব কিছু নিয়মরীতি আছে; তেমনি আছে করম পুজোর মন্ত্র– করম গান। গানগুলি অপূর্ব সুরসংযোগে গীত হয়। নাচের মাধ্যমে, মাদলের ধিমি ধিমি তালে বেজে ওঠে গ্রাম্যজীবন, সংস্কার, সংস্কৃতি। এই উৎসব নতুন ফসলের আবাহনের। প্রকৃতির জীবনীশক্তিকে উজ্জীবিত করতে।
“ভাদর মাসে করম পরব
মুদের ঘরে ঘরে
বাঁজা মাটি গাভিন হবেক
বীজের ফোড়্যে ফোড়্যে
দাঁতন কাঠি বাঁশের টুপা
বালি ভরা ডালা
ডালা ঘিরে বিটি ছিল্যার
জাওয়া গানের পালা
তেল হলুদে কুত্থি জুনার
সিঁদুর কাজল লাগা
শাল পাতায়্যে বাঁট্যে দিয়ে
বাঁশ কঞ্চির দাগা
সিনান সারে ঝিঙাপাতায়”
এই পুজোর রীতি হল গ্রামবাসীরা জঙ্গলে গিয়ে পুজোর জন্য কাঠ,ফুল,ফল সংগ্রহ করেন। করম গাছের ( এই গাছটি চাকলতা, সুবর্ণরৈখিক ভাষায় কইম, আসামে হলদু গাছ নামে পরিচিত) থেকে তারা একটা ডাল কেটে নিয়ে আসে। ঐ ডালটিকেই তারা ‘করম ‘দেবতা মনে করে।
“ধলভূমের রাজা বড় জমিদার রে
ঘোড়ার টপে বাঁধা রুমাল রে
গাঁয়ের ধারে যাতে যাতে
ফিরিয়া তাকায় রে ”
ডালটিকে ঘিরেই সাঁওতাল গ্রামবাসীরা গান-নাচ করতে থাকে। সারারাত ধরে যে নাচ চলে তাকে করম নৃত্য বলা হয়। যে ডালটাকে জঙ্গল থেকে কেটে আনা হয় তাকে ‘করম রাজা’ বলা হয়। ডালটিকে মাটিতে শাবল দিয়ে গর্ত করে পোঁতা হয়।তাতে জল দেওয়া হয়। দিয়া-বাতি জ্বালিয়ে দুধ,ঘি দিয়ে ডালটিকে পুজো করা হয়।
পরের দিন করম ঠাকুরকে ফুল দিয়ে পুজো করা হয়। চাল এবং দই প্রসাদ হিসাবে দেওয়া হয়। প্রসাদের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। লাল রঙের ঝুড়িতে গম রাখা হয় ,তাতে হলুদ এবং শশা দেওয়া হয়। পুজোতে যারা উপোস থাকে পুজো শেষে তারাই এগুলো খায়। যুবক আদিবাসীরা বার্লির বীজ হাতে নিয়ে রাখে। সারারাত ধরে চলে আরাধনা। পরের দিন করম ডালকে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
” আয় আয় করম রাজা
ঘরে দুয়ারে
কাল তবে করম রাজা
নদীর কিনারে”
প্রাচীনকাল থেকে ভারতে এই প্রকৃতিকে পুজো করা, মান্যতা দেওয়া একটা ঐতিহ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। আর প্রকৃতির ভালোর জন্য একে একে বিধিনিয়ম, পুজো পার্বণ চালু করেছেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। দেখা যাই তার বেশিরভাগ এখনও পালন হয় গ্রামবাংলার জনজাতিদের নিজস্ব ঘরানায়। তাই সন্ধের সময় তুলসী তলায় পুজো করা, বিভিন্ন ফণিমনসার গাছে পুজো, বেলপাতা; দূর্বাঘাস ইত্যাদি বিভিন্ন ঔষধি গাছ বাড়ির উঠোনে লাগানো হয়ত প্রকৃতির সঙ্গে একপ্রকার একাত্মতার মেলবন্ধন। তেমনই এই বর্ষার দিনে পালিত হয় করম উৎসব। করম আসলে একপ্রকার বৃক্ষ রোপণ এর উৎসব। প্রকৃতিকে ভরিয়ে তোলার উৎসব। নাচে গানে অঙ্কুরোদগম বীজের বুননে নেচে ওঠে ধরিত্রী। এই করম দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত বাংলার মানভূম অঞ্চলে বেশি প্রচলিত। ঝাড়্গ্রাম জেলা; পুরুলিয়া; বীরভূমএর কিছু অংশে এই পুজো সাড়ম্বরে পূজিত হয়। যেহেতু রুক্ষ শুষ্ক মালভূমির এলাকায় গাছ বাঁচে কম, ফলনের মাত্রাও পর্যাপ্ত নয় তাই এখানে করমপুজোর আয়োজন করে এখানকার মানুষজন দেবতা করমের কাছে প্রার্থনা করেন গাছেদের বাঁচিয়ে রাখতে এবং মাঠঘাট যেন ভরে থাকে সবুজ শস্যের গন্ধে।
‘ সাঁঝে ফুঁটে ঝিঙ্গাফুল/সকালে মলিন /আজ কেনে বঁধুর / বদন মলিন হে ?/ সাঁঝে ফুটে ঝিঙ্গাফুল /সকালে মলিন।’
বর্ষাকালীন এই শস্য উৎসবটি, করমপরব, সমাজের কাছে নিয়ে আসে প্রাণের বার্তা। ভাদ্র মাসের শুক্ল পক্ষের পার্শ্ব একাদশীতে সমগ্র পশ্চিম সীমান্ত বাংলার জনসমাজ করম পরবে মেতে ওঠে। এই তিথির তিন, পাঁচ কিংবা সাতদিন পূর্বে ‘জাওয়া’ পরব শুরু হয়। জাওয়া হচ্ছে সাত রকম শস্যের অঙ্কুর হওয়া পর্যন্ত যে নিয়ম। অর্থাৎ জাগরণ। ‘জাওয়া’ নামের উৎপত্তি সম্বন্ধে ডঃ সুধীর কুমার করণ মহাশয় জাওয়া গীতিকে ‘জন্ম’ অর্থে ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন— ” যে সমস্ত চারাগাছ আলোকের স্পর্শ লাভ করে উর্দ্ধ গতি হতে থাকল ক্রমশ, তাদেরও নাম জাওয়া। জাওয়া মানে জন্ম, জাত। এই জাওয়ার দেবতা করম গোঁসাই”। বঙ্কিমচন্দ্র মাহাত তাঁর ‘ঝাড়খণ্ডের লোকসাহিত্য’ গ্রন্থে বলেছেন– ” জাত-ক শব্দ থেকে জাওয়া শব্দটির উদ্ভব। এই তত্ত্বটিকেই আমরা অধিকতর গ্রহণযোগ্য মনে করি”।…” জাওয়া আসলে করম ব্রতেরই অঙ্গবিশেষ”। তিনি এও বলেছেন- “ …জীবনের প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে শস্য এবং সন্তান কামনায় যাদুক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতির অনুকরণ আরম্ভ হলো। এইভাবে দীর্ঘকাল মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে যাদুক্রিয়ার অনুসরণের পর একসময় আদিম মানুষ উপলব্ধি করল শস্যের বৃদ্ধি, বংশবিস্তার এবং প্রকৃতির পরিবর্তন কেবলমাত্র তাঁদের যাদুক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল নয়, এর মধ্যে নিহিত আছে আরো গভীর কোনো কারণ, আরো নিগূঢ় কোনো শক্তি। এই নিগূঢ় শক্তিই প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে আর দেবতারা হলেন এই শক্তির অধীশ্বর। এইভাবে আদিম যাদুক্রিয়ার সঙ্গে নিগূঢ় শক্তির অধিকারী দেবতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য যুক্ত হল বিভিন্ন আচার- অনুষ্ঠান।”
বৃক্ষের সংগে এই অঞ্চলের আদিবাসীদের আত্মার সম্পর্ক। বিভিন্ন রকম আচার ও গীত এর মাধ্যমে জাওয়া অঙ্কুরিত হয়। প্রত্যেক দিন রাতে একই রকম আচার, গীত ও ঝুমুর এর মধ্য দিয়ে জাওয়াতে জল দেওয়া ও জাগানো হয়। অর্থাৎ প্রকৃতির বন্দনা করা হয়। নিয়মিত পরিচর্যায় বীজগুলো এ সময় দুই পাতা বিশিষ্ট হলুদাভ সবুজ চারাগাছে পরিণত হয়। প্রতীকী অর্থে বৃক্ষ রোপণ করার পর তার পরিচর্যাকে বোঝানো হয়। গানের আসর বসে। মেয়েরা গান গেয়ে প্রকৃতির আকাশ বাতাস ভরিয়ে তোলেন। “বাঁধ বাঁধালে না বাঁধালে ঘাট হে /ডালিম লাগাই বধু গেল পর দেহ হে।”
দেখা যাচ্ছে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতে সহজ সরল মানুষ, প্রকৃতিকেই বেছে নিল দেবতার প্রতিনিধি হিসেবে। তারা পুজোর ছলে বাঁচিয়ে রাখল গাছ। ছড়াল বিভিন্ন শস্যের কণা। গান গাইতে গাইতে তারা আহ্বান জানাল গাছের শেকড়কে। এই পর্বটিকে জাওয়া পরব বলা হয়। অর্থাৎ জন্ম— Germination. সাতদিনের ‘জাওয়া’ তে যখন অঙ্কুরোদ্গম হয়; পরের দিন সকালে বন থেকে নিয়ে আসা হয় করম গাছের ডালা। তারপর পুজো করে মানত করা হয় অধিক সবুজের; অধিক শস্যের। “আয় আয় করম রাজা/ ঘরে দুয়ারে/ কাল যাবি করম রাজা/ নদীর ভিতরে”।
করমগানগুলিও মাটির কথা, শিকড়ের কথা ব্যক্ত করে। কেউ কেউ বলেন– করমপূজায় যে তিনটি ডালকে একত্রে বেঁধে পূজা করা হয়, সে তিনটি হল ঈশ্বর-প্রকৃতি আর মানুষের প্রতীক। করম পুজোর সাহায্যে প্রার্থনা করা হয় প্রচুর বৃষ্টি পাত এবং গাছদের সমৃদ্ধির। ঠিক যেন সেই ইউরোপের ক্যারিনথিয়া প্রদেশের পালিত উৎসব St. George’s day এর মত। মানত করা হয়, যেন জেগে উঠেন প্রকৃতি তাঁর অফুরন্ত ভাণ্ডার নিয়ে। কৃষি বিপ্লব ঘটে পৃথিবীর বুকে।
নারীসমাজের বাস্তব চিত্র, জীবনবোধ এবং প্রকৃতি প্রেমের কথা এই গানগুলিতে যেমন খুঁজে পাওয়া যায়, তেমনি আজকাল পরিবেশ দূষণের হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করার উপায় ধর্মীয় অনুষঙ্গের মাধ্যমে হলেও গুরুত্ব পেয়েছে। বৃক্ষ এখানে ঈশ্বর; দেবতা। কৃষিকাজের উন্নতি এখানে মুখ্য চাওয়া। এই বিশ্বায়নের যুগে প্রতিটি মানুষের কাছে এই গানগুলি, করমপরবের নিয়মাবলী একটি সুন্দর বার্তার কাজ করতে পারে। প্রকৃতিকে বন্ধু হতে শেখায়। প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে শেখায়। নারীদের কষ্ট দুঃখ, অধিকারবোধ এই গানগুলির মধ্যে যেমন প্রকাশ পাচ্ছে, তেমনি নারীরা তার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে, অত্যাচার মেনে না নিয়ে বরং একটি প্রতিবাদী দৃঢ় চরিত্রের পরিচয় দিচ্ছে। গানগুলির মাধ্যমে নিজেদের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছে। দাবী, চাহিদা, না-পাওয়া গুলিকে প্রকাশ করছে। সমাজের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে তাদের বাস্তব অবস্থাটি। গানগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক রচনা। কোনও প্রতিষ্ঠিত কবির রচনা না হওয়ার ফলে, সমাজের প্রকৃত রূপটিকেও পাওয়া যায়। গানগুলিতে তাই স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বেশি লক্ষ্য করা যায়। যেমন পুরুলিয়ার দিকে গানগুলি বেশির ভাগ কুরমালি ভাষায় রচিত। উচ্চারণের ভঙ্গিমা ও তাই। আবার ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর অঞ্চলের গানগুলি সুর্বণরৈখিক ভাষাতে রচিত। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গানগুলি ঝাড়খণ্ডী বাংলাতে। উচ্চারণের কাঠামোটাও পরিবর্ধিত হয়েছে। কিন্তু রীতি-রেওয়াজ একই। উদ্দেশ্যও এক। প্রকৃতিকে ভালোবেসে অধিক ফলনের আশা। তাই মাঠঘাট, প্রকৃতির সঙ্গে নিজের আত্মার অস্তিত্ব সন্তানের মেলবন্ধন ঘটেছে গানগুলির মধ্যে। করম গানগুলিতে প্রকাশিত হয়েছে প্রকৃতির বন্দনা, আত্মোপলব্ধি এবং মানবতার সুর।

