
ভবানী বিশ্বাস-এর কবিতাগুচ্ছ
আশ্রয়
বিস্মিত পাখির মতো
তোমার দিকে তাকাই
ভেসে ওঠে কৃষ্ণচূড়া
ভরদুপুরে লাল আলোর আভা যেন
এত আলো,এত আগুন,এত শোক
আগে দেখিনি কখনো
তবুও কিছু ছায়া আছে, মায়া আছে
আছে স্নেহ
আবার তাকাই
দেখি স্বপ্ন,দেখি সুখ
বুকে টেনে রাখা–
অপেক্ষা
রাবার গাছে কচি পাতা,
সেগুন এখন কঙ্কাল–
বিকেলে বাগানের ভেতরদিয়ে
গোধূলির সূর্যাস্ত দেখি–
সব শূন্য লাগে।
ভাবলে দুঃখ কমানো যায় না
অপেক্ষা করতে পারি
গোধূলি শেষে আরেকটা গোধূলির
সূর্যাস্ত পরে আরেকটা সূর্যাস্তের।
ঘর্ষণ
ভাঙতে ভাঙতে এখন
নামের পরিবর্তন হল–
মানুষ থেকে পাথর।
তোমার আগুন প্রয়োজন
আমি পাথর হলাম
ভাসান
এখন এত ডাকাডাকি মানায় না,
তার চেয়ে বরং ঢালো
যতটা ঢাললে
ভেসে যায় সব
যেদিন দেখেছিলাম প্রথম চাঁদ
সেদিনও ডেকেছিলে।
বলোনি কিছু
তাকিয়েছিলে শুধু
অথচ ভেসে গেল ছিল যা কিছু
পাইনি,খুঁজিনি
শুধু ভাসিয়ে দিলাম
ঋতুসুখ
চলো, বর্ষা বুনি
প্রতিটি বিন্দু দিয়ে মালা গাঁথি
এ আসলে মালা নয়,ঘর।
ঘরের ভেতর আবার জল।
জল মানে বর্ষা
বর্ষা আসলে তুমি।
তোমার চরণ ধরি
জলফুল দিই
স্নান করাই,
মনের মতো অপরূপ সাজাই।
জড়ের মতো বসে থাকো
তবুও দেখি, প্রাণ আছে
আছে সকল কিছু
চলো, জলের মালা বুনি…
আক্ষেপ
নদী পেরোলেই বাড়ি
মুহুরী, গোমতী,হাওড়া
মন যায়–
ছোট্ট মাটির ঘর
উপরে তালগাছ
যেতে পারি না
দেখি সব
নদী পেরোলেই বাড়ি

