
শাশ্বত বোস-এর কবিতা
১. ক্ষরহীন এক পাশাখেলা
খোপ খোপ দাগ কাটা সাদা কালো ঘরে
যুদ্ধবাজ নরকের আড়ালে
চিরচেনা সেই পান্ডব-কৌরব খেলা করে।
যুদ্ধ! যুদ্ধ! সেকি যুদ্ধ!
পোয়াতির বুকে শুকিয়েছে দুধ।
নাগরিক জীবনের লহমা নদী সমুদ্র ফেলে,
গহীন অরণ্যপথে আক্রমণ শানায়…
বোমা ছুরি কামান আর তরোয়ালের গল্পে।
প্রখর জৈষ্ঠ্যের তাপে, কারিগরী পাশ
যে মেয়েটার চামড়া পোড়ে চৌরাস্তার ক্রসিংয়ে,
তার একটা উপযুক্ত চাকরী চাই।
চাকরী একটা যুদ্ধ! যুদ্ধ সর্বত্র!
জ্যান্ত জীবনের সাথে দক্ষিনমুখী খোলা জানালার যুদ্ধ!
মিইয়ে যাওয়া হেমলক জীবনে
শান দেওয়া কথা আর ব্যঙ্গোক্তির যুদ্ধ!
ভোট, ফোট আর দামামার যুদ্ধ!
নিস্তব্ধ রাস্তায় চুপচাপ হেঁটে যাওয়া
কবির আত্মার সাথে বুকচাপা অপমান আর মনখারাপের যুদ্ধ!
বালিঘড়ির শেষে একটা গোটা মহাকাল পড়ে থাকে…
এ যুদ্ধ তবু থামে না!
২. মৃত্যু, যুদ্ধ এবং শেষ অনন্তকাল
মৃত্যু,
অপেক্ষার বারান্দা জুড়ে যার
আসা যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট গতিপথ নেই…
সার সার থ্যাঁতলানো শরীর মিলেমিশে
কাটাকুটি খেলে, একটি গ্রহ আর তার দুইটি মেরুর মাঝে।
সূর্য্যের লাল একটি ফোঁটা…
বোমারু বিমানের গা ঘেঁষে, তারার ছায়ার মতো
ধীর গতিতে নেমে আসে।
অতি সাবধানে পা ফেলে ফেলে…
যুদ্ধ,
জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি মানুষের
কামনার নক্সীকাঁথায় যার অবাধ যাতায়াত!
এক আয়নার তলদেশে সাঁতার কেটে চলেছে
গোলাপী শিশুদের মুখ। ওদের জানাজায় হেঁটে গেছে
বহুরূপী ক্যাকটাস, সবুজ বৃক্ষ মোড়া এক অদৃশ্য পৃথিবী!
ধূসর জাহাজের গায়ে মিনার গড়ে
ঝাঁক ঝাঁক সাদা পায়রা আর ঘোলাটে পাখিদের রং…
পরজন্মে ওরা সবাই হয়তো কবি হবে!
৩. যুদ্ধবাজ বসন্ত
বসন্তের শুরু এখন…
আবির মেখেছে শরীর, আবির মেখেছে
কবরের উপরিভাগের নাম ফলক…
পাশাপাশি রেখে শোয়ানো রণক্লান্ত সৈনিকের যূথবদ্ধ মৃতদেহ।
তারই মাঝের ছিদ্র দিয়ে গলে যাচ্ছে
জীবনের নানান রং! যেন অচেনা কোন এক সন্ধ্যায়…
হাহাকার মেশানো কোন সরাইখানায়,
সহস্র যুদ্ধজাহাজ ভেসে আসে,
দ্বন্দ্বমূলক অতীত বেয়ে…
সেখানে আগাম পাপের অনুরোধ
মৃত্যুর বেশে এসে ভিড় করে…
স্বর্গ-নরক-বাস্তব-অবাস্তব, ফুল হয়ে ফুটে থাকে একই বৃন্তে।
বোমার আঘাতে পুড়ে গেছে জননীর গর্ভনালী!
তার নীলাভ যোনিপথে এখন শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গম লিপ্সা!
নিরন্ন কংকালসার চেহারাগুলো তো
অনিমিখ সুন্দর ছিলই এতদিন!
ঠিক উজ্জ্বল আকাঙ্খাস্নাত সাদা কবিতার মতো…
বেশ অনেকটা অ্যাবস্ট্রাক্ট মিশে ছিল তাতে!
দেখে অন্তত মিস্টিরিয়াস লাগতো!
পৃথিবী ভরে যেত লাল শিমুল আর কবিতাদের জিপসি বিভঙ্গে…
আজ ঠিক ভোরের আগে কবরে মিলিয়ে গেল ওরা…
কুয়াশা ভেজা বারুদের অক্ষর আর আড়মোড়া ভাঙা বসন্তকে
বুকে করে…
মেঠো বাতাসের ইথারে তখন ওলটপালট করুণ পাপিয়ার সুর!

