
পৌলমী গুহ-র কবিতাগুচ্ছ
জুলাই-মঙ্গল
১
তোমাকে ব্যথা দিতে গিয়ে
ব্যথা বেড়ে গেছে কেবল
এখন শূন্যতা মনোরম লাগে।
মায়াময় সব ব্যথা চলে গেল
যেমন পিকনিকে তুলে আনা
একগোছা কুঁচফল, হারায় মাধুর্য
ব্যথারাও,
আশ্রয় না পেলে ডুবে যায় তর্পণে।
অথচ, ব্যথা দেব বলে এতদূর
আমি তোমায় ছুঁয়ে রেখেছি আদরে।
২
আমাদের যে ন্যাকাপনা ছিল তা কি একেবারেই গেছে
কিছুই কি নেই বাকি?
যেমন বেদানার খোসা ছাড়িয়ে, ভাত বেড়ে
তোমার ঠোঁট-ওল্টানো থেকে আহ্লাদ গড়িয়ে
নিটোল বিকেলের হয়ে ওঠা
অথবা, রঙ্গনের ঝাড় দেখে হতাশ তুমি বলে উঠছ,
“এবারও আমাদেরটা দেরি করে ফুটছে…”
আমি সংসার-রাগে ভোর হয়ে উঠি যদি
তুমি কি দুঃখিত করবে ফের?
৩
শহরে ঘুরে ঘুরে ফাঁদ এড়িয়ে যাই এখন
আমাকে লাগে কোনও গর্বিত ফাঁসুড়ে-র মত।
একা, অথচ খেদহীন কবির ধিক্কারে আমি
বিচলিত হবার ক্ষমতা হারাচ্ছি ক্রমে ক্রমে
আমার পোশাকে লেগে থাকে চাটুকারের অন্নজল,
গণ্ডূষে প্রতিদিন আমি নিজের বিপদ গিলে নিই
তারপর নিজের বিধাতা সেজে নিজেকেই
লাথ মেরে ফুটপাতে ফেলে দিই, বাকিদের মত।
৪
আমাকে বোঝোনি তুমিও।
আমার অগোছালো ঐশ্বরিক মোহে
ধাঁধাঁ লাগা পোকার মতো তুমিও
ভেবেছ এ কোনও প্রেমের সূচনা।
আমার রক্তে শাসকের দালালি
ওষ্ঠে নাগরিক বিদ্বেষ তুমি কি
দেখোনি চোখ চেয়ে একবারও?
আমি যে হায়েনা-র মতো লালা ফেলে
এ শহরে ঘুরে বিপ্লব বেচি আর
অগস্টে তেরঙা, দেখোনি তুমিও?
আমার পচে যাওয়া মগজে কী
ধর্মীয় উৎকন্ঠা, কী বিষণ্ণ ঘৃণা কেবল
তা তুমিও জানোনি মহতরমা
অনাবাদী জমিতে প্রৌঢ় কবিরা
শুধু কবিতাই লিখেছে? থুতু কি ফেলেনি?
৫
আমি প্রেমে ঈশ্বর হয়ে উঠি না আর।
আমি ভীরু বনস্পতির মত জাঁক করে
বলি না আমি আশ্রয় দেব
আমি পারি না সব কোমল-নিষাদ আর
মা মা ধ্বনির ভেতর দিয়ে কোনও
গভীর অর্থের কাব্য লিখে ফেলতে।
আমাকে ভণ্ড বলেছ,
বিপ্লবী বলেছ,
কবি বলেছ,
বলেছ চাটুকার, বিদূষক
আমাকে ঈশ্বর বলোনি তো!

