
চৈতালী চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা
প্রেম নেই
অলকলগনে তার জেগে উঠবার কথা ছিল।
স্বপ্ন দেখল সে আমেরিকা ইরানের যুদ্ধ বেধে গেছে।
লালরঙা পথ দেখে পলাশ পলাশ বলে চেঁচিয়ে উঠতে গিয়ে সে দেখেছে নীল প্যান্ট রক্তে ভিজে যায়।
কত আর আনন্দ তুলে আনবে শান্তিনিকেতন থেকে!
বনপুলকের গন্ধে অ্যামোনিয়ার ঝাঁজ মিশছে, সে টের পেয়েছে।
চুম্বন হল না তাই। দধিকর্মও হল না।
অলকলগনে তার জেগে উঠবার কথা ছিল
ধ্বংস
প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে উড়ে এসে আরশিতে রক্ত লেগেছে,আমার ঘরের।
প্রতিবেশী দেশ থেকে কান্না আসে। ভেঙে-পড়া তানপুরা,সুর ও মূর্ছনা ভেসে আসে।
এমনকী, সদ্যোজাত শিশুটিরও গায়ে দেখি,বর্ডার পার হয়ে ছুটে-আসা,টাটকা মৃত্যু লেগে গেছে!
গান তো কালজয়ী! কোনো হিংসা দিয়ে তাকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা যাবে না


দুটি কবিতাই ভালো, দ্বিতীয়টি একটু বেশি ভালো । কবিতা দুটি নিঃসন্দেহে যুদ্ধবিরোধী লেখা । কিংবা অপরভাবে দেখতে গেলে, সভ্যতার ইতিহাসে মেয়েদের অস্তিত্ব লড়াইয়ের যে যুদ্ধ, তার সঙ্গে এই লেখায় যুক্ত করা ঔপনিবেশিক যুদ্ধের উপাখ্যান। পৃথিবীতে একশ্রেণীর ক্ষমতাবানেরা যেমন চায় ঔপনিবেশিক যুদ্ধ চলতে থাকুক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভুত্ব কায়েম হোক, তেমনি পুরুষতান্ত্র চায় মেয়েদের ওপরে একধরণের লিঙ্গতান্ত্রিক প্রভুত্ব । এই দুইয়ের বিরুদ্ধে এই কবিতার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন কবি । ভালো লাগল চৈতালিদির এই লেখা দুটির ভাবনার দৃষ্টিকোণ ।