
রাহুল দাশগুপ্ত-র কবিতা
একটা চেয়ারের কথা
একটাই জানলা, ফাঁকা ঘর, জানলার পাশেই
চেয়ারটাকে রেখেছিলাম
কেউ এসে বসেছিল চেয়ারটায়
সে উঠে চলে গেছে
কেউ এসে বসার কথা ছিল চেয়ারটায়
সে আসেনি
চেয়ারটা ফাঁকাই পড়ে আছে
কে এসে বসেছিল ওখানে, উঠে গেছে তারপর?
ওখানে কার এসে বসার কথা ছিল?
আমি জানলার সামনে গিয়ে দাঁড়াই
একটা রাস্তা যা ক্রমেই ধূসর হয়ে গেছে
একটা দৃশ্য যা ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশায়
কে এসে বসেছিল? কেন সে চলে গিয়েছিল?
ওই চেয়ার কী বসার যোগ্য ছিল না?
যে আসার কথা ছিল, সে কেন এল না?
ওই চেয়ার কী বসার যোগ্য ছিল না?
যে চলে গেছে, সে ফিরে এলেও
আমি তাকে ফিরিয়ে দেব
যে আসেনি, সে যদি আসতে চায়
তাকেও আমি ফিরিয়ে দেব
অতটা যত্নের ছাপ, তবু তারা ফিরেও তাকায়নি
দূরে কোলাহলে মিলিয়ে গেছিল তাদের কণ্ঠস্বর…
একটা চেয়ারের কাছে যাওয়া অত সহজ নয়
একটা চেয়ারে গিয়ে বসা অত সহজ নয়
একটা চেয়ারের দাম বোঝা অত সহজ নয়
গোটা একটা হৃদয়ের ভার বহন করছে ওই চেয়ার
গোটা একটা হৃদয়ের উষ্ণতা
কান পাতলেই ওরা শুনতে পেত
সেই স্পন্দন, কম্পন আর উষ্ণতা…
মাঝখানের গলি
একদিকে টি এস এলিয়ট, অন্যদিকে জীবনানন্দ দাশ
মাঝখান দিয়ে একটা সরু গলি চলে গেছে
সেই গলি দিয়ে সে হেঁটে চলেছে
দু’দিকেই স্তব্ধতা, দুরকম, দুদিকেই অন্ধকার
আর নিরন্তর বৃষ্টির শব্দ
গলিটা সরু হয়ে আসতে চাইছে ক্রমশ
মিশে যেতে চাইছে একে অপরের সঙ্গে
দুপাশ থেকে এগিয়ে আসছে একটু একটু করে
চাপ বাড়ছে, টের পাচ্ছে সেই বেড়ে ওঠা চাপ
কেউ কথা বলছে ফিসফিস করে? কারা?
এলিয়ট কিছু বলতে চাইছেন জীবনানন্দকে?
জীবনানন্দ এলিয়টকে?
ভাষা নয়, তীব্র হয়ে উঠেছে শুধু ইশারা
দমচাপা পরিবেশ, ঘন অন্ধকার, মাঝে মাঝে ফুটে ওঠা ছবিরা
সমুদ্রের দিকে ওরা এগিয়ে দিয়েছিল একটা কাচের গ্লাস
আর বলেছিল, এসো
সমুদ্রকে ওরা ঢেলে নিতে চেয়েছিল সেই গ্লাসে
আর সবাইকে দেখিয়েছিল গ্লাসভর্তি জল
বিভ্রম সৃষ্টি করতে চেয়েছিল ওরা
সমুদ্রকে তারা সমুদ্র বলে স্বীকার করতে চায়নি
হাতির কাছে গিয়ে আঙুল তুলে দেখিয়ে বলেছিল, ছারপোকা
নিজেরা পোকা বলে ওরা শুধু পোকাদেরই দেখতে পেত
আর যখন ওদের চোখ–ধাঁধিয়ে যেত
ওরা অস্বীকার করতে চাইত যা কিছু মহৎ, উজ্জ্বল, বিপুল
যা কিছু ওদের চেয়ে বড়ো, তাকে
আর তাকে ঠেলে দিতে চাইত একটা গলির ভিতর
আর সেই গলির দুপাশে সে খুঁজে নিয়েছিল
এলিয়ট আর জীবনানন্দকে…

