
ভবানী বিশ্বাস-এর কবিতাগুচ্ছ
১.
স্বভাব
কঠিন কথা বলতে পারি না, লিখতেও না।
যদি বল, এ আমার দোষ–
তবে তাই।
যদি বল, এ আমার গুণ–
তবে তাই।
এ রাত জানে বানানো নয় কিছু,
স্বভাবমাত্র।
২.
প্রশ্ন
যখন থাকব না, তখন খুঁজে পাবে আমার লেখা– ধানক্ষেতের আলে,পুকুরপাড়ের ওই পেয়ারা গাছটিতে, গ্ৰামের যেকোনো প্রান্তে দাঁড়ালে দেখতে পাবে চারপাশে ছড়িয়ে আছি…
তখন একটু যত্ন নিও, বুকে নিয়ে আদর দিও, ফুল চন্দনের ফোঁটা দিও,খুঁটে খুঁটে দেখো কা’র নামের চিহ্ন আঁকা
দেখবে আমাদের হেঁটে যাওয়া পথ, একসাথে কাটানো মায়াবী বিকেল। আরেকটু গভীরে গেলেই দেখবে শুকনো পাতায় লেখা তোমার আদুরে নামখানা…
এতসব দেখার পরও কী তুমি বিচ্ছেদ চাইবে! গঙ্গায় ভাসিয়ে দেবে সব!
৩.
স্পর্শ
ইচ্ছে হলে কথা বলতে পারো। যেখান থেকে খুশি শুরু করো। যদি মনে করো, এখনও গালমন্দ বাকি! তবে তাই করো। অথবা যদি মনে করো, শান্ত পথে হাত ধরে হাঁটবে– তবে তাই হোক।
ধরো,নীরবতাই বেছে নিলে। আমি পাশে বসে থাকব, টু শব্দটিও করব না।
ধীরে ধীরে হাওয়া বইবে। তেমনই বয়ে যাবে নদীর জল। পাখির ঘরে যাওয়া দেখা যাবে অথবা নদীর পারের ক্ষেত। হয়তো এসব কিছুই হল না। সংকোচ ভেঙে শুধুমাত্র হাতখানা আমার হাতের উপর রাখলে। আর এই স্পর্শে কেমন মাতাল হয়ে গেলাম…
৪.
পরিকল্পিত পথ
তুমি আসবে
এটুকু ভাবলেই দুঃখ থাকে না আর।
আসার পথটি ধরে
বসে থাকি।
যাওয়ার পথে বিছিয়ে রাখি ফুল।
কারোর আসার চেয়েও
যাওয়ার পথ পরিকল্পিত হয়।
যেন এসে মায়া দিয়ে
আবার দূরে যেতে পারে…
৫.
আফসোস
ভাবি, নিরুদ্দেশ যাব
নিজেই নিজের সফরসঙ্গী হয়ে
পেরিয়ে যাব গ্ৰামের পর গ্ৰাম
পাহাড়ের পর পাহাড়–
নিজের সাথেই সফর করব নর্মদা’র
উত্তরতট!
বারবার ধ্বনি দেব, হর হর নর্মদে
মিশে যাব তাঁর কোলে…
সঙ্গী নয়,পথই তখন আশ্রয়। পথই দেবতা।
৬.
শিবের ব্রত
চতুর্দশীর কথা মায়ের মনে নেই,
জানি না আগে রাখতেন কীনা!
ব্রত করেছিলেন বোধহয়
কোনো একদিন
কোনো এককালে!
জানি না…
বাবা এখনও তামাক টানেন
খক্ খক্ কাশি দিয়ে
বাড়ি কাঁপান
উঠতে বসতেই বিড়বিড় করেন।
মা প্রতিদিনের মতোই সব সেরে
সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালান।
এখানেই প্রণাম করেন
মায়ের কাছে প্রতিদিনের সংসারই
শিবের ব্রত

