
মধুপর্ণা বসু-র কবিতা
পুণ্যহীন
মাটির রেকাব জুড়ে আলো হয়ে ছিলে তুমি,
ছুঁয়েছি সেই অস্তরাগ বুকের অমৃত যোগ সন্ধিতে।
যুগ পূর্ব প্রগাঢ় টান,তোমার অনন্ত নাভিকূপ
রসাতল খুঁজেছে যে তৃষিত হিয়া তারই তো যোগ্য-
অন্ধ ব্যাকুল মন তন্নতন্ন খোঁজে অদেখা অমৃত কুম্ভ
হাতছানি দিনরাত্রি সূক্ষ্ম সরসতা তোমার ঠোঁটের কষে,
ডুবে ডুবে ওঠে কণ্ঠাগত প্রাণ, নিমজ্জন শ্রেষ্ঠ আশ্রয়;
ইশারা ছুঁয়ে তুমি বলো, আরও গভীরে যাও! আরও গহীনে
ঈশ্বরীর সুগন্ধি রেশমে এলায়িত আয়েস সারবত্তা যদি,
এহেন শ্রান্তি দূরতর, এমত পাপ পুণ্য ঊর্ধ্বে অমৃত পান।
(২)
ভেদ অভেদ
কতদূর অজান্তে হেঁটেছি নিজের ভেতরে মূক দর্শকের মতো
পাহাড় খুঁজে নিরাশ হয়ে অবশেষে
সাগরের তট ছুঁয়েছে অনুসন্ধান।
মুখর ঢেউয়ে টুকরো রোদের আয়নায় হাজার মুখ
তুমি আর তোমার প্রতিধ্বনি
তুমি আর তোমার প্রতিধ্বনি
অস্তিত্ব শুদ্ধতা খুঁজে নেয়!
এবার অগাধ আস্হা শূন্যতায় নিজেকে পুনর্বাসন
সব কি মুক্ত করে দেওয়া যায়?
এবার অগাধ আস্হা শূন্যতায় নিজেকে পুনর্বাসন
সব কি মুক্ত করে দেওয়া যায়?
শরীর থেকে আলাদা এক-
অন্য কিছু যা একমাত্র আমার!
সে আমার অজানা আমি;
অসংযত, অস্থির ভীষণ এক থেকে অন্যে ছুটে মন
ভেতরে উত্তাল সমুদ্রে দৈত্যাকার ঢেউয়ে সর্বনাশ
ভেঙে গুঁড়িয়ে সব নিয়মের বাইরে খোলস ছেড়ে আমি-
নিজেকে পরম যত্নে নগ্ন করা
অসংযত, অস্থির ভীষণ এক থেকে অন্যে ছুটে মন
ভেতরে উত্তাল সমুদ্রে দৈত্যাকার ঢেউয়ে সর্বনাশ
ভেঙে গুঁড়িয়ে সব নিয়মের বাইরে খোলস ছেড়ে আমি-
নিজেকে পরম যত্নে নগ্ন করা
তোমায় মিশে যাওয়ার জন্য,
বিশ্বাসে এই সত্যিকে ছুঁড়ে ফেলেছি তোমার গভীরে,
রয়ে গেছে যতটা বিচ্ছিন্নতা, ততটাই সংবদ্ধ নিজস্ব।
বিশ্বাসে এই সত্যিকে ছুঁড়ে ফেলেছি তোমার গভীরে,
রয়ে গেছে যতটা বিচ্ছিন্নতা, ততটাই সংবদ্ধ নিজস্ব।
আসলে এই খেলাঘর সার্থক না হলেও অকপট বস্তু চিত্র,
আমি তুমি আমরা হাততালি কুড়িয়েছি
আমি তুমি আমরা হাততালি কুড়িয়েছি
শুধু রঙ্গমঞ্চে,
জল সইতে সইতে শেষে অবশ শরীর ছেড়েছি অনন্তে।
জল সইতে সইতে শেষে অবশ শরীর ছেড়েছি অনন্তে।

