
সোম রায়চৌধুরীর কবিতা
সমুদ্র
সমুদ্রে এসেছি গতকাল
ঝাউ ,বালি, হাওয়া, উইকেন্ড যাপন
এসেছি যখন, স্নান করবোই
কিন্তু ,নুলিয়া যতটা সমুদ্রের
আমি ঠিক ততটা নই ।
হাত ডোবালেই কাদা উঠে আসছে
‘একটু এগোলে কাঁচের মত জল ‘
বলেই যে মেয়েটি সমুদ্রে খোলা বই
সে যতটা সমুদ্রের
আমি ঠিক ততটা নই ।
ফিরে আসা ,একা একা,মোহনা বিকেল
এখানে জরুরী নয় খুঁজে নেওয়া
মীমাংসাহীন যে কোন প্রশ্নই
ফিরে আসার সময়
সমুদ্র যতটা উদাসীন
আমি ঠিক ততটা নই…
গৌতমদা
নদী যেখানে সমুদ্রে মিশেছে সেখানে এক সাইকেল গোধূলি নিয়ে
গৌতমদা দাঁড়িয়ে আছেন ।
কুয়াশা ঘিরে আছে ক্যারিয়ার জুড়ে , শিশিরের বিন্দু বিন্দু ঘামে ভিজে
গেছে পিতলের বেল ,মৃদু রিনরিন শব্দে কোথাও অল্প ভেঙে গেল ঢেউ
বালির ওপর , চিতি কাঁকড়া মাথা ডুবিয়ে টুপ
ডুবে গেলে সমুদ্রের গন্ধ প্রবণ হয়ে উঠলো খুব !
গৌতমদা স্থির সিল্যুয়েট, প্যাডেলে একটি পা ,ঘন এবং চিত্রার্পিত
আর কোন নির্ঘুম ভোরের উত্থান নেই আপাতত ,নেই দ্রুত সকাল ফেরি !
গৌতমদা ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে যেখানে জন্মান্তর খুলে দেয় উঠোনতলা
স্বপ্নের ভেতরে অজস্র কার্নিশে কার্নিশে ঝরে পড়ে প্রভাতী সংবাদ
শেষ অমীমাংসিত কাগজ এবং এক ব্যালকনি বিষাদ নিয়ে এই প্রথম,
গৌতম দা দাঁড়িয়ে পড়েন অনন্ত জলরাশির সামনে,প্যাডেলে একটি পা ,
ঘন এবং চিত্রার্পিত ……
প্রেত
কিভাবে যে বলি তাকে পথ ঘুরে গেছে বাঁকে
যে বাঁকে সহজ নয় ঘুরে যাওয়া আজ
যেখানে যেটুকু জয় সেটুকু তোমার নয়
কিভাবে নামিয়ে রাখা চোখ আজ শতভাষা
প্রতিপদে জাগে ক্রোধ প্রতিপদে ভয়
কিভাবে যে সম্মত হয়ে আজ খুব দ্রুত
পায়ে পায়ে প্রতিভাত হলো অসময়
যেখানে যা সঞ্চয় সে জানে আমার ক্ষয়
কিভাবে খুলেছে চুল প্রতিরাতে নির্ভুল
একা প্রেত পেরিয়েছে প্রেত হওয়ার ভয় …
অমীমাংসিত
আসলে আমার কোন গন্তব্য নেই , মথের মত সাদা দেওয়ালে ডানা মুড়ে বসে থাকা ছাড়া আর কোন ইজাজত নেই , আমার কোন গান নেই , উড়াল নেই , শুধু এক সমুদ্র সাদা দেওয়ালে আমি এসে গেঁথে গেছি।
কখনো অতীত ছিলো কি ? কোন রূপান্তর ! সহজেই পাল্টে যেতে না পারার যে মনস্তাপ , ছিলো কি ? নাহলে এই বিষণ্ণ ব্যালকনি কিভাবে জেনে গেলো আলো জ্বলে উঠলে ইচ্ছেরা মরে যায় আরো দ্রুত !
এখন এত অসহায় ! আমার কোন স্নেহ নেই ,কোন উদযাপন । আমি কি শরীর খুঁজেছি পরজীবি ? অবনত মন ? নিজের গ্লানির ভেতর দাঁড়িয়ে আমি কি খিল তুলে দিইনি চরাচরে ? রূপান্তরহীন এই অনন্ত সাদা দেওয়ালে দিন রাত্রি প্রবাহিত হয় , রোদ আর ছায়া পড়ে ঘুরে ঘুরে , শুধু প্রবাহহীন আমি একা নিথর , ভাঙা নৌকোর মত খোল নিয়ে পড়ে থাকি এই অমীমাংসিত মোহনায় …
সহজ
এখন যেমন নদীর ধারে কুহক প্রবণ
এমনি দিনে তারেই বলা যেমন সহজ
সহজ কি খুব ? টান পড়লে মিথ্যে কথায়
চেনা কেমন অচিন সুরে বাজতে থাকে চরাচরে ।
এখন যেমন নদীর ধারে
নিজেই কুড়োই উড়ন্ত ছাই
নিজের শরীর খুঁড়তে থাকি ।
পাওয়ার মধ্যে আছে কি ছাই !
একটা নাভি ,মালসা ঠোঁটে একটা চড়াই
তাকেই ডাকি
উড়তে উড়তে ব্যাকুল হাওয়া
যে সব আমার মস্ত ফাঁকি ,যে সব আমার অপেক্ষমাণ
প্রহর শেষে ‘কেউ আসেনি ‘
কুড়িয়ে নিয়ে পেরিয়ে গেল যেমনটি রোজ
পেরিয়ে যাওয়া আবহমান যেমনটি হয়
এমন দিনে তারেই বলা সহজ কি খুব
আগুন ছুঁয়ে ঘরে ঢোকা এমন কি ভয় !

