
শহরের কবিতা সব্যসাচী মজুমদার
সূর্যাস্তের আগে
সূর্যাস্তের আগে তোমার দু’মুখো সাপ
একটা ভাঙাচোরা বাড়ি থেকে ঢুকে পড়ল কাছের জঙ্গলে। তখন তুমি তক্ষকের চোখে দেখেছিলে তার রামধনু।কেবল বুঝতে পারনি গাছের ছায়ায় কোন রঙ থাকবে।
তারপর শূন্য থেকে ঝাঁপ দিয়ে নামলে ঠিক ঘাস জমিতে। তোমার কিরণমালা কেউ দেখল না। শিকারে শিকারে একাকার বাতাসে চেটে নিচ্ছ থাবা। তোমার কমলা শরীরে রোদ। রোদের ভেতর থেকে ইঁদুর বেরিয়ে অন্ধকার হয়ে যায়…
ধ্বংসস্তূপের শহরে
ধ্বংসস্তূপের শহরে
যারা কোকিলের মতো ডাকতে পারত—
ফিরে আসছে একে একে
যেন, তাদের কেউ নিয়ে যায়নি কোথাও
আকাশে সুনির্মল রোদ
বৃষ্টি হয়ে গেলে যেমন প্রসন্ন…
ইটকাঠের ভেতর থেকে দুটো একটা হেলে…
ধ্বংসস্তূপের শহরে নৌকো ঢেকে গেছে
ধূসর শুঁয়োপোকায়
তুমি অন্য দিকে গিয়ে ভাবছ
কি করে উদ্বাস্তু হয়
কি করে উদ্বাস্তু ফুরায়
তোমার কিছুতে দেখা হয় না
প্রতিক্রিয়া ভাঙছে প্রতিক্রিয়া
আর মানুষের ভূত ক্ষিদের তাড়ায়
আরও করুণ, আরও দাঁড়াশ হয়ে যাচ্ছে
তাদের ওপর নেমে আসছে বিরাট হাত
টুকরো টুকরো ছড়িয়ে থাকে
ছোট আয়না
যোগিন সরকার
এখন দূরের আকাশে তারা
সঙস্কৃতির মতো তারা ঘটে যাচ্ছে ক্রমশ

