
মৃত্যু, বাংলাভাষা অর্ণব সাহা
১
আমার মোবাইল ফোন ছুঁড়ে দিও চিতার আগুনে,
অশুভ আত্মার ডানা ভস্ম হবে মলিন হলকায়
আমার কবিতা-লেখা ডায়েরিগুলো কেজি-দরে বেচো!
অসমাপ্ত আত্মকথা। অর্থহীন ভুল গিবেরিশ…
শালপাতার ডোঙা ভেবে উঠে পড়েছি নোয়ার নৌকোয়
প্রত্যেক মুহূর্তে ছিল নিরপেক্ষ ঝড়জলের রাত…
থেঁতলে-যাওয়া ব্রেন নিয়ে আমি এক নরকের প্রেত
কয়েক প্রজন্মব্যাপী ফিরে আসব তোমার দরজায়!
২
রিওয়াইন্ড করে উৎসে পৌঁছতে চাই, ১৯৯০-এ যে ব্ল্যাকহোলে
ঢুকে পড়েছিলাম সেই চিরকালের মতো হারিয়ে-যাওয়া দরদালান,
অন্ধকার পিছল সিঁড়ি, হাটখোলা ছাদের দরজা, একটা অদ্ভুত বাতাস
বইত সারাদুপুর, বৃষ্টিভেজা নারকেল গাছের জলজ পাতা আমি তোমাদের
কাছে আজীবন ঋণী, পুজোর আগে ধাঙরবউ মায়ের কাছে বায়না করত:
“দিদি, তাঁতি লিব না, ছাপা লিব”—সকলেই অন্যযুগের সখা, যারা
পিতৃপুরুষের ভিটেয় জন্মে সেখানেই মৃত্যুর সৌভাগ্য পায়, আমি তাদের
দলে নেই, ক্রমাগত ঠাঁইনাড়া জীবন, এক অস্থিতিশীল পথের কিনারে
দাঁড়িয়েও সাদা-কালো টেলিভিশনের গন্ধ টের পাই, ঠাকুর্দার এয়ারগান
বোধহয় বাবার ফ্ল্যাটে রয়ে গেছে, ছর্রার গরম হাওয়া আমার ধূসরতায়
আঁচড় কাটে, আমায় খুব দ্রুত মরে যেতে বলে, মশাল নিভিয়ে দেবার
প্ররোচনা দেয়…

