
মণিশংকর বিশ্বাসের কবিতাগুচ্ছ
কুহকিনী
এই নামে কী অন্য কোনো কবিতা লিখেছি কখনো
জীবন অনেক পুরস্কার চায়, চায় এমন অনেক যৌনতা
যা কখনো হবে না
ছিপি খুলে সকাল বেরিয়ে এসেছে
রোদের ফেনায় একটা-দুটো পাখি লেগে আছে
কী অকৃত্রিম এই চায়ের দোকান
ট্রাম লাইনে পড়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া
কাগজে মোড়া পিরিচের মতো
অন্ধকার স্বাস্থ্যে
কল ব্রিজ খেলছে বিষণ্ণ পরীটির মা
অভিযোজন
গভীর অশান্তির ভিতর বাস গুমটি। সেখানে চায়ের দোকানে ছোট এক আলোর
জ্যোতির্বলয়ে বসে রুখু পয়সা গুনছে।
কলকাতা শহরের একজন নার্স হাফ ডজন কমলালেবু নিয়ে বাড়ি ফিরল
রাত্রি সাড়ে দশটা
মা খেতে ডাকছে। হাতে মুখে জল দিতেই মেয়েটির কমলা রঙের ফিলামেন্টে জ্বলে উঠলো।
এভাবে ভালোবাসা নিভু নিভু করেও নিভে যাচ্ছে না শহর থেকে
যদিও বাতাসে নিত্যনতুন বিষ
তবু মানুষ আশা করে আছে—
এই সব পার করে যাবে
পুরনো কোনো আদর্শ, অন্য ধারার কোনো পলিটিক্স বা নতুন কোনো পতঞ্জলির প্রোডাক্ট দিয়ে
অনেক দিন আগের কথা
আমাকে সংকেত দাও
আকাশ থেকে সহজ ফুলগুলি এসে ঝরে পড়ুক খবরের কাগজে
মৃত কোনো স্টিমারের ভোঁ শোনা যাবে এইমাত্র
আমি কেন এত দূরে সবকিছু থেকে?
শেফালি তো ফুলের নাম, স্পর্শের নাম
আমি তবু চাপা পড়ে যাই ওই বোঁটার কাছে সামান্য লালচেহলুদে
এত চাপ, এত মেট্রিক টন চাপ
আমি নিতে পারিনি কখনো
শুধু সামান্য হা করে তাকিয়ে থেকেছি বৃষ্টিতে, সন্ধেরাতের দিকে
ঈষৎ কেঁদেছি
মায়া
মায়ার অপূর্ব সংসারে ব্রা ঝুলছে ব্যালকনিতে
আমাদের ৩৪% জানাশোনা হল
আরও ঘনিষ্ঠ হবার রোল চেয়ে জানালায় এসে
পুনরায় জাগ্রত হয় বোরোলিন ও বিষাদ
আমাকে আমার আর ভালো লাগে না আজকাল
কী যে অপরূপ মায়া তবু!
নীরবে নঞর্থক জীবনের সূর্যাস্তের সংখ্যা কমে আসা!
খরগোশ
আপার মিডল ক্লাস ড্রামার মতো ঘুরে দাঁড়াতে বলেছে সবাই
সেফটিপিন বা শান্ত জল—
ঠিক কোন পয়েন্টে এসে ঘুরে দাঁড়াব আমি ?
বাথরুমে ঋতভাষ জীবন থেকে সাবান পিছলে যায়
হাতে চুলের ক্লিপ
কিশোরবেলার হিচহাইকিং
মাধবী কাকিমার ঘাড়ের কাছের অদ্ভুত ফর্সায়
অশান্ত জাহাজডুবির দুপুর
আমি কিন্তু অভিযোগ করছি না কোনো
সাবান খুঁজছি, কাকিমার জামাই আদর খুঁজছি
যদিও জানি কাকিমার মেয়ে মিলি
কাঠপোলের ওপারে একটা বিশাল বটগাছের ভিতর হারিয়ে গেছে
বিনয় মজুমদারের সঙ্গে আমার কোনো ছবি নেই
আমার হারানো স্বজ্ঞার প্রতি
সূচালো কথকতা ও ৬০ ওয়াটের
জাম্পকাট হল
যেরকম মনখারাপ আমাকে অ্যাডাপট করেছিল ওই বয়সে
তাতে রবীন্দ্রনাথের গানগুলি আমাকে সরিয়ে নিচ্ছিল
ঠাকুরনগর স্টেশনের দিকে
বাংলা মদ ও বাংলা কবিতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ঘরে ফিরে আমি দেখেছিলাম
শ্যামক দাবরের ছেলেরা নাচছে
পিনাজ মাসানি হ্যাপি নিউইয়ার গাইছে
বাবা ঘুমিয়ে পড়েছে অনেকক্ষণ
চক্রবর্তী যদি ‘চাকা’ হয়, যা সামনে, বা পিছনের দিকে গড়িয়ে যেতে পারে
তাকে ফিরে আসতে বলাটা
সে বয়সে খুব বিরাট কৃতিত্বের বলে মনে হয়নি
বরং ‘প্রকৃত সারস’ আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল
৮০-র দশকে টেলিভিশন সেটের ভিতরে ছোট ছোট আলোগুলির মতো

