
দু’টি কবিতা বেবী সাউ
রাজনীতির ভাষা
মৃদুল দাশগুপ্তের কবিতা যেন আজকের এই রাত! গেরিলাদের তীব্র তীক্ষ্ণ চিৎকার শোনা যায় দূরে! বাতাসে বাদাম গাছ আর শাল-সেগুনের শরীরে শরীর লেগে তৈরি হচ্ছে যুদ্ধের মহড়া। আকাশে কর্কশ শব্দ ভাসে। ঘুম ভেঙে যায়।
চাঁদ ক্লান্ত। টকটকে লাল যোনি এবং জরায়ু। শহিদ দিবাকরের হৃদয়ে লাগা গুলির দাগের মতো!
রাতের আঁধার বাতাস দরজা ভাঙে! মৃত্যুর ওপাশে জেগে থাকা গোখরোর চোখে ঝুলছে চেতাবনি।
মেরুদণ্ডহীন আমি… তাও কেঁপে কেঁপে উঠি! কেঁপে ওঠে নদী, মাটি, বন-জঙ্গল!
ভাবি, যে ভাষায় কান্নার গান গায় আমাদের চির-দুখী মা, সে ভাষায় গায়েও কামড় বসাবে এই নির্মম গোখরের দাঁত! আশ্চর্য তো!
সনাক্তকরণ
যতই সস্তা ভাবা হোক না কেন, রাষ্ট্রের কাছে তুমিই একমাত্র ভয়!
ভয়ের পারদ চড়তে চড়তে ঘুম ভাঙে। পাখিদের সঙ্গে উড়ে যায় ভাঙার খবর। পরিচয়পত্র হারিয়ে যায়। হারিয়ে যায় ভিটেমাটি, জমানো কৈশোর-যৌবন, স্মৃতিসমূহ। নদীর জলে ভেসে যাওয়া সূর্যাস্তের রং যেন হিমোগ্লোবিন!
এত এত মৃত্যু চারপাশে, এত এত বাস্তুহীন, বেআব্রু রাষ্ট্র আমাদের, সাধারণ হিসেবে গর্ববোধ করি!
সময়কে উদাসীন প্রামাণিক করে তোলো, হে প্রমিথিউস!

