
শিবু মণ্ডল-এর কবিতা
ইচ্ছেবাতি
ভুলে যেতে পারলে ভালো হতো, তবুও
ক্ষণস্থায়ী শিশির এসে জমে কণ্ঠে
স্মৃতির অবশেষ আর কল্পনার নির্যাস
কতভাবে যে ভেসে ওঠে আমাদের স্ক্রিনে
অচেনা লাগতে শুরু করে হঠাৎ, দূর
ডিঙ্গি নৌকা, সামুদ্রিক ঢেউ উত্তাল
ফেলে আসা চিরকুট, এসওএস সিগন্যাল
রূপান্তর হতে হতে নিরুত্তর এক যাত্রা
এমনি করেই নোনা ধরে পুরনো সম্পর্কে
ফুটে ওঠে প্রেমের পরিভাষা ধীরে ধীরে
সম্পর্কের বাইরেও তাকে ঘিরে এক ইঙ্গিত
কথা বলে চলে নীরবে আমার সাথে
কিছুই ডুববে না কোথাও কোনোদিনই
একে একে ভেসে থাকবে সব ইচ্ছেবাতি!
আরও কিছুদিন যদি বেঁচে যাই
আরও কিছুদিন যদি বেঁচে যাই
তোমার শরীর থেকে খসে পড়া গন্ধ মেখে
নিয়ম করে মাঠে যাবো
রোজ বিকেলে সূর্যের সাথে সাথে
ডুবে যাওয়া অভ্যাস করবো
তুমি কিছুটা ইঙ্গিত পাঠিও
না বলা যত কথা, স্পর্শ, চুম্বন
সোহাগ, আদর আর সপাটে ধাক্কা
যে মায়ায় আটকে রেখেছিলে
চুলের ক্লিপের মতো
ঘুমোতে যাবার আগে চুপ করে
খুলে রেখে দিও জানলার কাছে
আর কিছুদিন যদি বেঁচে যাই
যদি জানলাটির কাছে যেতে পারি
তোমার অশরীরী গন্ধটুকুর আভাস যদি পাই…
স্মৃতি ছায়া
স্মৃতির ছায়া ছেড়ে
কতদূর চলে যাওয়া যায়,
সেই শীতসন্ধ্যা মনে পড়ে?
অনিশ্চিত অসংখ্য পালকের প্রশ্রয়ে
মাংস পিণ্ডের স্পন্দন
কাশ্মীরি পশমিনায় ঢাকা
নরম কবুতরের গন্ধমাখা সেই চিঠি,
সেই সুদূরের সংকেত
তুমি চাইলে আমায় মেরে ফেলতে পারতে
শূন্যে ভেসে থাকা একটি দোচালা ঘর
মহাকর্ষ ঘনীভূত হওয়া আমাদের ঠোঁট
ব্রহ্মাণ্ডের জন্মমুহূর্তের সেই বিস্ফোরণ
ঝিনুকের মতো চোখ- গভীর
সমুদ্রের ঢেউ- এসব ছেড়ে
কতদূরেই বা চলে যেতে পারতাম!
তোমাকেই দেখে যাবে চিরকাল
একটু দূরেই আমি মাছ হয়ে যাবো
তুমি সাঁতার জলের ফাঁকে ফাঁকে গড়া
যতটুকু ভুল করেছি ততটুকু ভালো
আরেকটু আলো যদি ফেলো জলে
ওই আড়তের সুন্দর মৃত মাছ; তার
স্থির দুটি চোখ শুধু তোমাকেই দেখবে
তোমাকেই দেখে যাবে চিরকাল…
যদি
কৃষ্ণচূড়ার মতো উড়ন্ত উনুন
একটু রান্না হোক
কতদিন উপোস এ জীবন – এসো
একটু স্বাদ তুলে নিই দু’জনের জিভে
একটু ঘুঙুর, বাঁধা কোমরের তাগা
সেখানে চুম্বন ফেলতে পারলে
আমিও আরেকটু তুমি হতে পারতাম
পূর্বাভাস
ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস
এখন মধ্যরাত্রি
অন্ধকার আকাশে ভেসে আছে
দিশাহীন এক নদী
তুমি কি জেগে আছো সেই
নীরব বৃক্ষটির নিচে?
আমাকেও নিয়ে চলো
যেখানে আর কোনও পূর্বাভাস নেই!

