
পার্থজিৎ চন্দ-র কবিতা
ছত্রাক
সূর্য ঢলে যাবে কালো জলে। নৌযানে
কামটের দাঁতে ছিন্নভিন্ন কয়েকটি খুলি, হাড়ের জ্যামিতি, কবর খোঁড়ার অস্ত্রশস্ত্র।
যে দেশে এসেছি সেখানে ক্যানোপি ও বন্দরে, মাংসকারখানায়
আমাদের কাহিনির সন্তান-সন্ততি হবে।
ক্রমশ পাতার ভেতর লুকিয়ে পড়বে ধণেশপাখির রঙিন পালক, পৌত্তলিকতা,
জঙ্গল থেকে এসে যে নারী দাঁড়াবে বালুতটে
আরও আলোপাথরের পথে নিয়ে যাবে-
তার শ্রোণী, বাহু ও স্তনে আঁকা থাকবে আমাদের
জেগে ওঠা তামাকের ক্ষত। শরীর দ্বগ্ধ করে ধোঁয়া উঠবে
আকাশের দিকে
কথা দিচ্ছি তোমাদের আদি-জননীর প্রতি রোমকূপ
একদিন ভরে উঠবে বিষাক্ত ছত্রাকে
ইয়টের রাত
প্রসূতিসদনে নেমে আসবে ঈশ্বরের শাদা দুটি হাত
চেতনানাশক ক্লোরোফর্ম করিডোরে ঘুরতে ঘুরতে
প্রথমে ছিনিয়ে নেবে লন্ঠনের শরীর ও আত্মা
তারপর অন্ধকার সিজারটেবিলে ঝুঁকে আসবে কালো পোশাকের
শল্যচিকিৎসক; দক্ষ হাতে তিনি পৃথক করবেন
নিষ্ক্রান্তের মাথা ও শরীর
তখন শিশুখুলি বুকে রাত্রি-কোলে শুয়ে আছে যৌন-সার্কাসের তাঁবু
আর শল্যচিকিৎসকের পাথরের মুখে আলো ফেলবে ইয়টের রাত্রি-চিৎকার
দৃশ্য
ফেলে যাওয়া কার্তুজের খোলগুলি
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠে যাওয়া ট্রেন। শিরোস্ত্রাণ
জঙ্গলের মধ্যে বন্ধুদের টেন্ট, গরমের ছুটিতে তারা
বেড়াতে গিয়েছে; দীর্ঘ কমব্যাট বুটে
জ্বলজ্বল করছে শাদা ইঁদুরের লাল চোখ
অলিভপাপাতার দিন এটুকুই
বিকেলে দুজন শিশু জং ধরা বেয়নেট নিয়ে, আবার
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতেছে
মাশরুম
মানুষের নরকে কি পশুদের যাতায়াত আছে? না হলে নরকের কসাইখানায় কারা মানুষের মাথা কেটে পাথরের স্ল্যাবে সার দিয়ে রাখে? সেখানে কি নালিপথ আছে? রক্ত গড়িয়ে কোন সে নরকে যায়?
এ কথা সম্ভবত জানতেন শিল্পী ইয়োশিমুরা; হিরোশিমা বিস্ফোরণের দিনে তাঁর বয়স মাত্র আঠারো বছর; জলের কাছে তিনি দেখেছেন চামড়া ছাড়ানো, তৃষ্ণার্ত মানুষের ঢল
আজ রবিবার, প্যাকেটে জড়ানো মাশরুম হাতে এক বিষণ্ন মানুষ পেরিয়ে চলেছে তেজস্ক্রিয় জল
তার অভুক্ত, ছোট ছোট শিশুদের শব, হালকা তুলোর মতো, মুক্তি পেয়ে কী আনন্দে আজ উড়ছে আকাশে; মাশরুম মেঘের মাথায়

