
শিবালোক দাস-এর কবিতাগুচ্ছ
দীর্ঘ
দীর্ঘ আঙুলের সাদৃশ্যে শীতলতা খর্ব,
তবুও অগ্নিমুখে রাখি সদ্যোজাত দূর্বা,
ভুলে যাই জঙ্গম আমার ঘনায়মান হিম…
খুলে রাখি চোখ,
রুমালের পশমে যদি গুঁড়িয়ে দাও,
তবে নীল সত্যে পরিণত সে ঘুণ মিলিয়ে
নাও সমস্ত নরম স্ফীতির নিবিড় নিরীক্ষণে।
আজও বসে আছি দেখো তরবারির মসৃণতায়
অদৃশ্য করুণ সর্প ও পল্লব খুঁজে নিতে !
মানুষ
যদিও অবশেষ নয়, রক্তিম হতে বেছে
নিই লবণাক্ত স্বাদের অন্তর…
এইমাত্র নেমে এল মুখে;
রয়ে গেছে ছেঁড়া শ্বাস,
শ্বাসের ভেতর বীতংস, বীতংসের কাছাকাছি
বাঁকা হাড়…
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর সবকিছু পবিত্র।
শুধু নখাগ্র ভুলে যায় অর্ধমৃত চাঁদে
মানুষ হবার কথা।
শ্যামল
তুমুল গন্ধকের পাশে নীরব হও,
তুমুল স্বেদের পাশে এতদিন যে হত্যা
তোমাকে চিনিয়েছে অঞ্জলি ও গ্রন্থির দ্বন্দ্ব,
অস্বীকার কোরো না…
আড়ালে বাজাও বাঁশি।
সহস্র ফুঁ, তোমার অপরিহার্য চিহ্নের দিকে এগোয়।
এগোতে এগোতে, কখনো থমকে দাঁড়ালে;
হংসধ্বনি কি শেষ রক্তবিন্দু পিষে দেয় না ?
তবুও,
শ্যামল হতে কেন নিজ উত্তাপে করতল রেখেছ ?
বন
থিতিয়ে পড়, থিতিয়ে পড়…
এ ঘুমের কথা কেউ জানবে না।
বিশেষ করে উত্থিত শেষ কালপুরুষের ত্রুটি
ছড়ানো অনিবার্য কিছু ধুলোয়;
অবরুদ্ধ হতে তুমি যতখানি শব্দ রাখো;
তার বেশি কিছু তৈরি হয়নি গোপনে।
শুধু ঘন হয়েছে কাছাকাছি কয়েকটি
হলুদ ও তার আড়ালে হাত বাড়িয়ে রাখা
অহেতুক পোষাক…
আমি তাকেই হতে বলি চঞ্চল !
অসময়ের বিনির্মাণে
যে চোখে দীর্ঘ গমক পড়ে আছে,
যে হাতে পড়ে আছে সুদীর্ঘ প্রলাপ,
তাদের জন্য চাঁদ ছুঁয়ে যাই।
ছুঁয়ে যেতে যেতে অবশেষে সেই
দিন আসে, একবার অসময়ের বিনির্মাণে
পাপ হতে।
জন্মকে আমি কখনো জানাইনি ধিক্কার,
সাদা লালায় ভিজে আছে অমসৃণ শীতলতা…
কুষ্ঠে কেন খুঁজি পূর্ণিমা ?

