
ইলোরা ভট্টাচার্য-র কবিতাগুচ্ছ
১
রাত্রির ফুলদানি
কত রঙের সুগন্ধ, উপচে পড়া নরম মাধুর্য ভিড় করে আছে মিশে যাবে, গলে যাবে রুপোলি চিঠির আতরে — মৌমাছি বাতাসে মধু আর মধু ভিজিয়ে দিচ্ছে, মুছে নিচ্ছে বিধুর ডানার কিনারা। সোনালি শব্দের নির্ঝর ঋতুমতি গা বেয়ে গড়িয়ে পড়ে পেলব দক্ষিণ…
তোমার দিকে প্রসারিত করি জপমালা— আঙুলের চাঁদ-চিহ্ন, বাঁশির ভ্রমর
আয়োজন পূর্ণ হয়েছে আজ, নিঃশ্বাসে জোয়ারের লবণ-বাতাস, ঋষি-গন্ধা নদীর বাঁকে বাঁকে ধরা দিল সুহৃদ পঞ্চম। স্বপ্ন দেখো, স্বপ্ন দেখো ছুঁয়ে মধ্যম পুরুষ।
২
যাওয়া
সমস্ত আশা ভরসা একটা সাদা ডিমের ভেতরে রেখে গোছগাছ সেরে ফেলল সে। কিছুকাল পরে যাত্রা শুরু করবে তার চৈতন্যের উদ্দেশে।এইসকল হননকাজ সমাধা হয় কিনা জানা নেই তার।শ্বেত-সংকুল পাহাড়ের দেশে মিলিত হবে তারা।সীমান্ত পাকিয়ে ধোঁয়া ওঠে নীলাভ-ধূসর। আততায়ী গোধূলিতে স্বপ্নহারারা ভিড় করে আসে। উড়ে যাও শঙ্খচিল মৃত্যুবুকের গভীরে। ডানা মুড়ে বসো। ঝিঁঝিঁট রাগে শিশুর আনন্দময় হাতেখড়ি হলে গোলাবর্ষণ সমাপ্ত হবে হয়তো।
এবারেও পাতালে ফুল ফুটেছে রাশি রাশি।
.
নন্দিত নাভির কাছে বারুদের ঘ্রাণ।
৩
পাল্টে যাওয়া সময়
.
প্রতিটি পাল্টে যাওয়া সময়
আসলে দুঃসময়, যা আগেও ছিল পরেও থাকবে। তার হাত ধরেছ, বেশ করেছ। এবার তার মাথায় বেশ করে তেল দিয়ে, চুলের গলিঘুঁজি, গ্রন্থি, আড়ে লম্বায় মালিশ করে রিবন বেঁধে দাও, যেন কচি খুকীটি, অথচ ন্যাকামি জানে খুব। তোমার চোখে স্বপ্ন ফুরোলে তুমিই আবার মাটি মাটি আগুন, দেশদ্রোহে ছয়লাপ। হাওয়ায় বারুদ ভরে সে কী গজরানি! আহা আহা! অতবার পাল্টিও না তাই বলে। যতদূর পারো প্রেম গজিয়ে তোলো গায়ে মাথায়। তা বলে দিগম্বর হওয়া কি ভালো দেখায়?

