
গৌতম কুমার গুপ্ত-র কবিতা
নীল উপাখ্যান
ধনুকে ভাঙোনি পণ অগ্নিতেজ সমান
সেও তো মোহজাত দ্রবণের ঐচ্ছিক ফেনা
চোখের ওপরে ভাসাও কমনীয় শ্রীমুখ
আমি তাকে ঘৃণা বলি না, বলি প্রিয়তা
অঙ্গীভূত করি তাই সমূহ ছাই ও ব্যথা
উড়ে যায় অসম ও তফাত প্রাচুৃর্য ভিন্নতা
ভালবাসা যদি এভাবে উচ্চারিত হয়
জলাশয়ের অথবা ভিজে যাওয়া শব্দে
মিশে যাবো তোমাতে প্রাণিত দৈব বৈভবে
আমার যা ফেলে দেওয়া ধূলো অথবা কাদা
কুড়িয়ে নেবো, শুধু তোমাকে নয় ঈশ্বরী
আমাকেও ভালবেসে নিজস্ব জলীয় সহজে
এও তো ঐশ্বরিক ভালবাসার অর্জিত মেধা
দেহে মনে মিলে যায় আমার সব অর্জিত দ্বিধা
…………………..
উ প কা হি নী
সৌর প্ররোচনা থেকে হালকা
হলো না ক্ষতের নিরাময়
প্রারব্ধ মন্দ -সন্ধ্যা দেবে না উপশম
এখনো গভীর লহমা বাকি রাতের ওষ্ঠ ধারায়
লালসা চেপে রাখে একটি চারিত্রিক ঔদার্য্যে
উনুন থেকে ছাই সরিয়ে
আগুনের গন্ধমাখা ভাত হার্দ্য নিমেষে সজাগ থাকে
প্রশান্তি মেখে ছায়াসুন্দর বিবেকের ভেতর
একটি পালক সন্ত্রস্ত সুড়সুড়ি রাখে গোলাপে
মলমের প্রলেপে ক্ষত ভুলিয়ে রাখে
এই অমানবিক প্রদাহ থেকে সুপ্ত থাক
সবিশেষ সৌরগন্ধী দিবারাত্রের উপকাহিনী
………………….
প্রাক্তন
অভ্যাসের ঘর থেকে বের হয়ে গেলে
পড়ে থাকে অবশেষের অংক
শূন্য চেয়ারে বসে আছে ছায়া
ছায়া দেখছে হাসছে কথা বলছে
শূন্য দৃষ্টিতে অস্তরাগের বিকেল
পাখিদের ফিরে যাওয়া সাঁঝবেলা
এখনো পড়ে আছে খাতা পেনড্রাইভ
কাগজপত্র ফাইলের পুরোনো গন্ধ
চেনা জানালার পর্দা পাইনগাছের সারি
ঝাউ দেবদারু দেয়ালের গায়ে ক্যালেন্ডার
অপরিচিত ঠেকছে ফিরিয়ে দিচ্ছে তাকে
পরিচিতের মাঝখানে এক আগন্তুক সে
দেনা পাওনার হিসেবে পড়ে আছে
শ্যাওলা চোখের অর্ন্তভেদীর দৃষ্টি
পরাজিত নয় তবু নিয়মনিগড়ে বাধা
পাঁজরের ইতিহাসে শ্মশানের হাড়গোড়
……………..
সমানুপাতে
যেদিন টুঁ শব্দে ডেকে নিয়ে যাও
সেদিন আনমনা ভাঙে
ঘুমের পাশ থেকে সাড়া দিই
বালিশের আড়ালেই প্রথম আলাপ
আজ তার ঊনকোটি দিবস
এখনও শুয়ে আছে নিরামিষ বৈরাগী বেলা
কিভাবে আমিষ করে নিতে হয় এই দ্যাখো
এগিয়ে দিয়েছি শরীর
যে কোন অংশ খুবলে নিতে পারো
এখন ভালবাসাটা করায়ত্ত করেছি ভীষণ
নিজের বদলে অন্য পরের অংশ
এভাবেই গড়ে ওঠে বিনিময়
তুমি যা চাও আমিও তো তাই
ভালবাসা বুঝে নিতে চায়
কে কখন কতটুকু রয়ে গেল কার দখলে
সমানুপাতে আমাদের বেলা বয়ে যাক
………………
গণদেবতা
বাঞ্ছিত নয়, অবাঞ্ছিত?
আকাশের নিচে মেধাদের চীৎকার
মগজের এতো ধার কথা আর গানে
কেঁপে ওঠে ভিত হাজার পায়ের দামামায়
চোখ বুঁজে দেখি আমার তন্ত্রের বিপন্ন সীমানা আজ।
কী নিঁখুত ছুঁড়ে দিলে কষ্টের আনন্দ
বিশ্বলয় অবাক।
যাপনের এতো ধার? এতো তীক্ষ্ণ বিচারের দাবি?
এতো সত্য লুকিয়ে ছিল ফিনাইলের তী্ব্র রসায়নে?
আমরা সাধারণ্যে ভিড় করে আছি,
কথা ও কবিতায় শান্তির মিছিলে দ্রুততা ধরেছি
পায়ে পায়ে
আপামর জেনেছে তাই মোমবাতির নিরীহ আলো
যে শুধু চিরন্তন শোকের আবহে জ্বলে।
ওরা গান গায় অশ্রুসজল হয়
গলার রগে ফুটে ওঠে ক্রোধের অশান্ত গরলে
চলমান ধরে রাখে হাতে হাতে মানববন্ধনে
বাতাসও বধির নয় আজ ও কাল
পৌঁছে দেয় জন জনে আগুনের নিরন্তর মর্মকথা
আমরা পীড়িত নই আজ রোদে তাপে জলে
হে আগুন! উড়ে পুড়ে খাক করো এই জীবিত দহন
……….
বরফঘুম
একটি অকাল মৃত্যুর শরীরে বরফঘুম
নিন্দার্হের ক্ষতবিষাদ
আমরা জেগে থাকি তাই দেখে নিরীহ উত্তাপে
চেয়ে দেখি আরও নির্ঘুমের রাতজাগা চোখ
আকাশের নিচে বিচার খোঁজে বিষণ্ণ পিপীলিকা
চোখে চোখে বিনিময় দৃষ্টির লেলিহান
আগুনের চিবুক জুড়ে মানুষের বজ্রকঠিন করোটি
উর্দ্ধগামী শত শত মুষ্টিবদ্ধ হাত
প্রেরণা জমে আছে আঙুলে নখের প্রহেলিকায়
ওখানে কারা সব ফিসফাস গুঞ্জ্নের ভীমরুল
ভঙ্গুর দেওয়ালে কী সব লেগে ছিল
লুকানো ষড়যন্ত্রের দাগ ছিল?
বীর্য ও লালারস থুতুর ঘেন্নাও?
কেন ভেঙে দিয়ে বোঝাল ওখানে জরুরি ছিল প্রাকার গঠন
আমি এক বোকাসোকা হতবুদ্ধির ড্যাবড্যবে চোখ
আমার কান্নামুখের যোগ্যতায় সন্দিহান রক্তশোষক মাছি
এ শোণিতে বড়ো সুখ টসটসে উনিশের যৌবন
ভনভন করো আর উল্লাসে ওড়ো
দেখি আর ভাবি এছাড়া
কী আর দিতে পারে নিছক কলমের শ্রমজ অক্ষর?
CATEGORIES কবিতা

