
চিন্ময় গুহ-র কবিতা
প্রেম
১
তোমার আঙুল ঠোঁটে নেবার সময় তাঁর আস্বাদ আমায় এক মৃদু নদীর কাছে নিয়ে গিয়েছিল। সেই নদীর জল বিষণ্ণমধুর। স্রোতের শিহর তুলে উড়ে গেল নীলরক্তবান পাখি।
ইস্পাতের নদী পর্যন্ত গিয়ে শেষ পর্যন্ত আমি ফিরে এসেছি। দাবদাহে পুড়ে যাওয়া পাতার স্তূপ, আগুনের ক্ষেত, ধুলোবালি। মৌসুমী হাওয়ায় তোমার উদাত্ত অগ্নিজলধারা।
২
ধুলোকাঁকরের পথ আমায় টেনে নিয়ে গিয়েছিল জন্মের দিকে। সেখানে রক্তের হলকার ভেতরে কে তুমি দাঁড়িয়ে? পৃথিবীর নিথর অঙ্গার তোমাকে ঘিরে। সেখানে চারাগাছের ছন্দ লতিয়ে ওঠে মাধবীলতার মতো। লাঙলের ফালে আমি আবিষ্কার করেছিলাম পাতালজলকে। বিস্ফোরণের আগের রাত কি এতটাই রক্তদীপময়?


দুটি কবিতাই ভীষণ ভালো
বর্ণদীপ্ত মানসচিত্রদুটিই স্নায়ুমগ্নতাময়। লাঙলের ফালে পাতালজল আবিষ্কারের ঘোর যেন জানকীকথার অ্যাল্যুশন! একটি শব্দ চোখে লাগল—প্রথম পঙ্ক্তির ‘তাঁর’—অনভিপ্রেত মুদ্রণপ্রমাদ মনে হয়। অন্যথায়, রাবীন্দ্রিক ঐশ্বরিক পূজা পর্যায় খানিক পুরাতনতার ইঙ্গিতবাহী হতে পারে হয়তো-বা।