
পিয়াল রায়ের কবিতা
ক্লান্তমাধুরী
তোমার নষ্ট গলিতে যাব না শ্যাম
আমার প্রতিটা শ্বাস উৎসর্গ করব না
মায়াবী কুহকে তোমার
ভারি দুষ্টু হয়েছ আজকাল
গলির ভেতর টেনে নিয়ে যখনতখন
বিবস্ত্র ডুবিয়ে মারো
আমি কি এতই ফেলনা?
আমি কি এতই মহার্ঘ?
নিজের ছলনায় নিজেই ভুলে মাঝেমাঝে
আমাকে নিরাকার করো
আমাকে করো যখের ধন
বোধহয় বোঝো না ছলের মহিমা সমর্পন
তোমার জ্বালাতন আর সইব না, সইব না
তোমার ঘাটে আর যাব না স্নানে
আগে কেন বোঝোনি বল তো
প্রেমের জুয়ায় তোমাকে হারিয়ে চিরকালই
জিতে গেছে কিছু উচ্ছিষ্ট ভোগ?
গোঠের রাখাল, মনোধীশ হতে পারলে না কেন?
নষ্টসময়
যা দিয়েছ ভালবেসে
ফিরিয়ে নিয়েছ সবই
এ খেলা তোমার বড়ই প্রাণঘাতী
আমি তো মরেছিই
তুমিও মরেছ কতবার বিনা রক্তপাতে
ফিরে গিয়ে বারবার
পুনরায় পট্টবস্ত্র, পুনরায় আধাআধি কোপ
কাকে কখন টানছ
কাকে কখন দিচ্ছ ভাসিয়ে অকুল তরণীহীন
আরম্ভ আছে যার শেষ কি নেই?
অথবা শেষকেই শুরু থেকে ধরে রাখা ভালো!
ভিতরে কে তোমার নড়েচড়ে বেড়ায় ?
কে তোমার পাকাপোক্ত রক্তে দেয় মই?
অন্ধ হও, অন্ধ হও বৈরাগী পুতুল
দেওয়া-নেওয়ার এ খেলা অবিরাম
নতুবা বাঁচতে দেবে না তোমাকে

