
বাপ্পাদিত্য রায় বিশ্বাস -এর কবিতা
রবীন্দ্র সরণি
মাঝদুপুরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে
খোলা জানলার দিকে তাকিয়ে দেখেছি
হা হা করছে অন্ধকার
বন্ধ খড়খড়ির দিকে ফিরলে চোখে পড়ে
কলাপাতা, লাল-পাড় পিঠ
দেয়ালে সিঁদুর, আঁচলে হলুদের ছোপ।
মনে হয় ওই তো ওপারে
কাঁসাপেতলের থান
আর জলধোয়া লাল মেঝে জুড়ে
আছে দুধে ভেজা আশ্রয়মাটি।
মেঘে মেঘে
হাজার বছর নয়, হয়তো বা দশ বিশ বছরের ঘেরে সেই মেয়েকে দেখেছি আমি, হয়তো হাওয়াও তার গাল ছুঁয়ে ফেরে যেখানে জলের কল, যেখানে গভীর রাতে কাক ব’সে কেবল্-এর তারে দোতলার খোলা জানলার দিকে স্থির চোখে চেয়ে অন্ধকার গোনে। কাকেদের এজলাসে অন্ধকার ক প্রকার সেকথা জানতে চেয়ে প্রতর্ক চলে, তারপর কাঙ্ক্ষিত নম্বরে থিতু হলে দ্রিঘাংচুর মেধা, সিলেবাস সাজেশনে নতুন জায়গা পায় অন্ধকারনামা। অন্ধকার মরা চাঁদে কাকেদেরও কী প্রকারে বক মনে হয় সেইসব গুঢ় বিশ্লেষণ সাদা কাগজের পিঠে লিখে আলাদা নজর কাড়ে মেধাবী মনন। কালে কালে ঢাকা পড়ে মেয়ে – সাইকেলে, ট্যাবে, রূপে, রেশনের গম-ডাল-চালে। রাতের দীঘল হাওয়া গাল ছুঁয়ে নেমে যায় বুকে… চাপাকলে… চটকলে… লোহা কাটা মেশিনের ঘরে। হুইসেলে সাইরেনে কেটে গেল দশ বিশ বছরের ঘের, ধাওয়া করে জলকল, ক্রমশ বাড়তে থাকা কাকেদের কন্ঠার ধূসর-বাহিত চাঁদ নেমে আসে কেবল্-এর তারে।
শরণং
কালো জিনিসের তালিকায় লিখি রাতকে
সাদা বস্তুর ফর্দ-য় থাকে তারা-রা
চাঁদকে কোথায় রাখবো ভাবতে ভাবতে
ধূসর বালিতে খুব তেতে ওঠে সাহারা
কালো পাথরেরা স্বপ্নে আসছে আজকাল
চুনাপাথরেরা সস্তায় গড়ে মূর্তি
ময়লা পাথর পড়ে থাকে একপ্রান্তে
অরাজক রিপু উসকিয়ে তার ফূর্তি
কালো ভ্রমরেরা ফল করে সব ফুলকে
সাদা প্রজাপতি কাগজের কাজ পাক না
কালিমাটি গুলে রেখাকে টানতে টানতে
বসন্তসেনা, অমিতাভকেই ডাক না?

