
৯৩
রাজা মুখোপাধ্যায়

২০২০ সালে এইদিন শেষবার যখন কথা হল, তার আগেই ঘটে গেছে এক মহা বিপর্যয়। স্মৃতি বিশ্বাসঘাতকতা না করলে মনে হয় ওইদিন সকালেই চলে গিয়েছিলেন কিটিদি। আপনাকে এমন বিপর্যস্ত আর অসহায় অবস্থায় তার আগে একবারই দেখেছিলাম। আরও পনেরো বছর আগেকার নভেম্বরের কনকনে একটা দিনে বৌদি যখন সব বন্ধন ছিঁড়েখুঁড়ে বিদায় নিয়েছিলেন। এমনকি মাসিমা, যিনি ছিলেন আশৈশব আপনার সৃজন-প্রতিমার কারিগর, কলকাতা-দিল্লি-হির্শবার্গ এই ত্রিভুজ যাপনেও শেষদিন পর্যন্ত যাঁকে অতন্দ্র আগলে রেখেছিলেন বৌদি আর আপনি, তাঁকে হারিয়েও আপনি ছিলেন আপাত – অচঞ্চল।
কিন্তু সেদিন, ৬ অক্টোবর ২০২০, যখন ফোনে পাচ্ছি না আপনাকে, কেমন যেন আড়াল করছেন নিজেকে, মনের কোণে উঁকি দিয়েছিল অশনি সংকেত। অন্য সূত্র মারফত জানতে পেরেছিলাম অপরিমেয় ব্যক্তিগত এই ক্ষতির কথা।
পরের দেড়মাস নিজের চারপাশে রচনা করে নিয়েছিলেন দুর্ভেদ্য এক ব্যুহ। যেখানে প্রবেশাধিকার ছিলনা কারও। প্রিয়তম ছাত্র, অগণন মন্ত্রশিষ্য এমনকি দেড় দশক ধরে আপনাকে প্রবাস জীবনে বাঁচার যাবতীয় রসদ যিনি জুগিয়েছিলেন, সেই সঙ্গিনীরও।
এক মহামারির পৃথিবী থেকে ছুটি নিয়েছিলেন আপনি। রেখে গিয়েছিলেন মেধাবী এক উত্তরাধিকার।স্বপ্নেও কখনও কল্পনা করেননি নিতান্তই অপদার্থ এক উত্তরপ্রজন্ম এত দ্রুত পদদলিত করবে যা কিছু শোভন, সমস্ত সৃজন, আমাদের প্রিয়তম বলয়টি।

তবুও দমকা হাওয়ায় বিস্মৃতির পর্দা এলোমেলো হয়ে যায় এই দিনটি এলেই। চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই একটি ঘরের মধ্যে ইতিউতি কয়েকটি টেবিল। সেখানে অনুবাদ নিয়ে একটি কর্মশালা পরিচালনা করছেন আপনি। নানান বয়সের একাধিক উৎসুক মুখ ঘিরে রয়েছে আপনাকে। একটি সময়ের স্থিরচিত্র যেন!
চিরপ্রণম্য আপনাকে শুভ জন্মদিনের শ্রদ্ধা!

