অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের কবিতা : শুশ্রূষা আর পরিচর্যার জগৎ <br />  রজতকান্তি সিংহচৌধুরী

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের কবিতা : শুশ্রূষা আর পরিচর্যার জগৎ
রজতকান্তি সিংহচৌধুরী

আজ কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের ( ৬ অক্টোবর, ১৯৩৩ — ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ) ৯৩ তম জন্মদিন। অলোকরঞ্জন নাম-রূপ যুক্ত অস্তিত্বটি শরীরী অবস্থান হারিয়ে প্রবহমান কালচক্রের ব্যতিক্রমহীন নিয়মানুসারে আজ অপুনরাগমন, অতীত। রয়ে গেল তাঁর সোনার তরী ভরা কবিতার অর্ঘ্য, আমাদের দৃকপাতের অপেক্ষায়। অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের কবিতা উত্তররৈবিক বাংলা কবিতার তো বটেই, আবহমান বাংলা কবিতার নিরিখেও আমাদের এক সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার। তাঁর কবিতার প্রকৃত মূল্যায়ন আজও হয়নি। অধিকাংশ কবিতার বই ছোট ছোট প্রকাশন থেকে বেরনো বলেই হয়তো দুর্লভ। কোনও কোনওটি আবার বড় প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েও ছাপা নেই। কবিতা সংগ্রহের মাত্র তিনটি খণ্ড প্রকাশিত, ‘রক্তমেঘের স্কন্দপুরাণ’ (১৯৯৩) অবধি বইগুলোর লেখালেখিই যাতে ধরা আছে। এমনকি পাওয়া যায় না তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতাও। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নবীন পাঠক যে তাঁর কবিতা এক ঝলক দেখে নেবে, তার কোনও ব্যবস্থা আমাদের বহু গর্বের কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া এখনও রাখেনি।
আবির্ভাবের সময় থেকেই শঙ্খ ঘোষ, আলোক সরকার, কবিতা সিংহ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত, তারাপদ রায়, নবনীতা দেবসেন, উৎপলকুমার বসু -খচিত পঞ্চাশের বুধমণ্ডলীতে তিনি ভাস্বর। কবিবন্ধু শঙ্খ ঘোষ স্মরণ করেছেন, ১৯৫৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট হলের সেই পুরাণপ্রতিম কবিসম্মেলনে জীবনানন্দ দাশ থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় অবদি বাহাত্তর জন কবি কবিতা পড়েছিলেন ; সেখানে একুশ বছর বয়সী তরুণ অলোকরঞ্জনের পঠিত কবিতা অনায়াসেই সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সময় ছিল কলকাতা আর জার্মানির ভেতরে দ্বিধাবিভক্ত। তবু আমৃত্যু তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব এবং পাশপোর্ট রক্ষা করেছিলেন। প্রবাসী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর প্রতিভা নিষ্ক্রমণমুখী নয়, স্বভূমি এবং মাতৃভাষার সঙ্গে নিরন্তর সংলাপরত। সাহিত্য, শিল্পসংস্কৃতি, পরিবেশ বা রাজনীতি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক স্তরের আন্দোলনগুলি তাঁরই হাত ধরে আছড়ে পড়ে বাংলার অজস্র লিটল ম্যাগাজিনে। আজীবন কত ছোট ছোট কাগজে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন তাঁর মুক্তোপম কবিতা আর গদ্য।ছোট ছোট সদ্যোজাত প্রকাশককে বই করতে দিয়েছেন পাণ্ডুলিপি।
কাব্যভাষার অকুতোভয় প্রয়োগে নতুন বাকরীতির, বাকস্পন্দের জগৎ রচনা করে কবি শ্রীমধুসূদনের পর বাংলা ভাষার আকম্প্র সীমান্তরেখাকে আর কেই বা এমন হাট করে খুলে দিয়েছেন?

 

(এক)
অলোকরঞ্জন মূলত দু’ধরনের কবিতা লেখেন – শাশ্বত কবিতা, পূর্ব পর্বে যার প্রতাপ অধিক আর সমীপকালে শামিল কবিতা, উত্তরপর্বে যার বৈভব সোচ্চার।

‘জবাবদিহির টিলা’ (১৯৮১) কবির সপ্তম কবিতার বই। পঞ্চাশের দিনগুলিতে ‘বাংলা কবিতার যুবরাজ’ ইতিমধ্যেই ‘যৌবনবাউল’-এর (১৯৫৯) রিখিয়া-শান্তিনিকেতন পর্বের পথের কলস-ভরা ‘কানায় কানায় আলো’ আর ‘একলা খুশির পালক ছড়িয়ে’ কাঁপা ‘কোপাইয়ের জল’ পেরিয়ে এসেছেন। আঙ্গিক বদলের কবিতা-বই ‘নিষিদ্ধ কোজাগরী’তে (১৯৬৭) কখনো রাজনীতি, কখনো শারীরিকতার দিকে ঝুঁকে কবিবন্ধু শঙ্খ ঘোষকে উৎসর্গ করা ‘রক্তাক্ত ঝরোখা’য় (১৯৬৯) নিত্যব্যবহার্য জীবনের রক্তিমতায় এসে দাঁড়ালেন কবি। ভাবাসঙ্গে বলা যায়, এ যেন ইয়েটসের মতো স্বপ্নমদির প্রথম পর্ব পেরিয়ে উত্তরপর্বে নিষ্ক্রমণ।

অথচ সংবেদনশীল কবিকে আগাগোড়াই অভিযুক্ত হতে হয়েছে। কখনো তাঁর কবিতায় ঈশ্বরচেতনার জন্য, কখনো বা নিসর্গমগ্নতার জন্য, আবার কখনো ছন্দে লেখার জন্য। ‘জবাবদিহির টিলা’-য় উপনীত কবি তাই বলছেন :
আর আমার কোনো নিসর্গ নেই, মানুষজন যখন ঘুমিয়ে পড়ে আপাতমৃত লোকালয়ের মধ্য দিয়ে যেতে-যেতে অনুভব করি অনন্ত নিসর্গের আস্বাদ
যেন দেবদারুর দূতীরা ঢেলে দেয় আমার মুখে অমৃত আঃ আমার ঘুম পায় আর দুদিকে খাটিয়া পেতে ঘুমিয়ে থাকে কাতারে কাতারে নরনারী তাদের মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাবার পথটাই আজ আমার নিসর্গ।

(দুই)
‘ছৌ-কাবুকির মুখোশ’ (১৯৭৩) বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে ট্রুডবার্টা হেসলিঙারকে, যিনি অচিরেই হয়ে উঠবেন কবিপত্নী শ্রীমতী ট্রুডবার্টা দাশগুপ্ত, কবির সারা জীবনের আশ্রয়। ইতিমধ্যে কবির ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। প্রেসিডেন্সি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ১৯৫৭ সাল থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত অদীনপুণ্য কবি জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। এখন থেকে পরবর্তী পাঁচ দশক জুড়ে তার সময় কলকাতা ও জার্মানির মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত। এক বৃহৎ যৌথ পরিবারের সব ছোট ছোট ভাইবোনেদের ‘বড়দা’ আলোকরঞ্জনের কবিতায় এসেছে ভাইবোনেদের নাম পিন্টু, কিটি, বুলবুল, কবিবন্ধুর নাম এবং অবশ্যই তার মা, বাবা ঠাকুমা, ঠার্কুদার কথা। তাঁর বিশ্ববীক্ষাও মা থেকে আরম্ভ করে স্বদেশ ও বিশ্বময়ীর আঁচলে সম্প্রসারিত, যে মা হয়ে ওঠেন ‘বসুমতী মা’-এর মতোই কবির প্রতিবাৎসল্যের পাত্রী, ‘মা আজ আমার শিশু’।
‘ছৌ-কাবুকির মুখোশ’-এ কবি সকলের সঙ্গে ‘অচ্ছিন্নপ্রবাহ এক জীবনানীচ্ছায়ে’ নিজেকে খুঁজে পান :

রান্না চড়িয়ে দিল মা এসে সবার জন্য, বঁটির উপর নারকেল-কোরানি ঢেউ দেখি আমি সৈকতে চিকনপুঞ্জ ফেনা
আমরা কয়েকজন আমরা মায়ের দেবতার এলোমেলো তত্ত্বাবধানের মধ্যে আজ ভয়ানক ভালো আছি
সকলের অনন্যতা অচ্ছিন্নপ্রবাহ এক জীবনানীচ্ছায়ে। (‘ফ্রেস্কো’)

জীবন ও বনানীকে মিলিয়ে এক জীবনানী, তার ছায়ায় বেঁচে থাকা। সব মানুষের সঙ্গে বিচ্ছেদবিহীন ভাবে মিলেমিশে। তাঁর ভৃঙ্গারে ভরা থাকে ভবিষ্যবিশ্বের শুশ্রূষার শ্বাস :
ভৃঙ্গার পেয়ে গেছি আচমকা, কুমোরের হাত থেকে,
সে বলেছে এই ভৃঙ্গার শুধু তোমার। তবু আজ এ শ্রাবণমেঘে

ভৃঙ্গারে ভরে রাখি নিশ্বাস
ভৃঙ্গারে ভরে রাখি নিশ্বাস
ভৃঙ্গারে ভরে রাখি নিশ্বাস যেন ভবিষ্য ভরে
বিশ্বমানুষ নিশ্বাস নিতে পারে (সঞ্চয়ী)

(তিন)
‘আয়না যখন নিঃশ্বাস নেয়’ (১৯৯১) এবং ‘রক্তমেঘের স্কন্দপুরাণ’ (১৯৯৩) বইদুটি আলোকরঞ্জনের কবিতায় বিশ্বজোড়া যুদ্ধ এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার। আয়নার ‘দীর্ঘশ্বাসে’, আমরা দেখব, ‘চরাচর জরিপের কাজ চলছে, বিম্বনের নয়।’ যুদ্ধ, সন্ত্রাস এ গণহত্যার বিরুদ্ধে কবির প্রতিরোধও তো তাঁর শুশ্রূষাময় হৃদয়েরই অঙ্গ :
মাকে বললাম তুমি রাতারাতি সমস্ত অভ্যাস বদলিয়ে ফেলো
শেফালির মুখে বারুদ এখন, মৃত্যু দূর্বাঘাসে।
‘রক্তমেঘের স্কন্দপুরাণ’-এ দেখি কবির পথ ঢেকেছে মন্দিরে মসজিদে।
বাংলা কবিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী। যেমন আশাবাদী লিটল ম্যাগাজিন নিয়েও। ‘এখনও নামেনি, বন্ধু, নিউক্লিয়ার শীতের গোধূলি’ (১৯৯৯, আনন্দ) বইয়ের বিভাব কবিতায় যেমন দেখি :

কাঁথা-স্টিচ মেঘে মেঘে কবিতার মূল্যবোধগুলি লেগে আছে, লিট্‌ল ম্যাগাজিনের ব্রতীরা নেয়নি বেয়নেট তুলে, শুধু থেকে থেকে ত্রস্ত হায়নারা জোট বেঁধে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা করে ক্ষমতার লোভে, এবং ধ্বংসাবশেষ রেখে যায়, কবিদের কাজ সে-সব বিয়োগফল ধরে রাখা, ওরা বৈতালিক— শালবনে এখন নয়, ভাঙাচোরা নিয়তির ব্যূহে অভিমন্যুতায়, দ্যাখো, কবিতার এই তো সময়…

অভিমন্যু অলোকরঞ্জনের এক প্রিয় পুরাণপ্রতিমা। অভিমন্যুকে তিনি দ্বিতীয় বিজয়ী ভাবেন। জয়-পরাজয় বলে কিছু নেই, নিজের সত্যের কাছে সত্যবান থাকাটাই জয়।
নতুন শতাব্দীতে কবির নতুন কবিতার বই ‘শুনে এলাম সত্যপীরের হাটে (২০০১) হল এই দর্শনের অনুরণনে জঙ্গম। তবু কবি লক্ষ করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আগ্রাসনে ‘যুদ্ধ এসে গুঁড়িয়ে দিল পীরের হাটবাজার’ (‘আমার সূফী হওয়া হয় না)।

(চার)

২০০৫ সাল। চলে গেলেন তার সারাজীবনের আশ্রয় এবং তার এক বৃহৎ পরিবারের অগণন ভাইবোনের বড় বৌদি শ্রীমতী ট্রুডবার্টা দাশগুপ্ত। ২০০৬ সালে প্রকাশিত ‘ওষ্ঠে ভাসে প্রহত চুম্বন’ স্বভাবতই বিদাযবেলার বেদনায় বিধুর।
এ বইয়ে দেখব, মৃত্যুপথযাত্রী কবিপত্নীর অনুরোধ ‘তুমি বন্ধ চোখের পাতায় চুম্বন রোপণ কোরো না’ ফেলতে অপারগ কবির ওষ্ঠে ভাসে প্রহত চুম্বন। উৎসুক হন সমাধিতে সহশায়িত হতে। ‘কিন্তু কবরের প্রহরীরা/বলল এ পান্থসদনে যুগ্মশয়নের অনুমতি – নেই’।
সে-অনুমতি শেষমেষ মিলল। ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ কবির চিতাভস্ম সমাহিত হন কবিপত্নীর পাশেই।

‘আলো, আরো আলো’-র (২০০৯) বইতে আমরা দেখব, ‘সেই আমিও অলোকরঞ্জন শব্দে আলোয় যে দূরান্বয় যায়।’ দূরান্বয়ী কবি গ্যোয়টের শেষ উক্তি ‘Lich mehr licht (Light, more light) – এর অনুরণনে লেখা ‘আলো, আরো আলো’র উপান্তে শেষ পাতাটার আগের পাতায় এই প্রতীতিতে দ্রঢ়িষ্ঠ, “চোর নিয়েছে থালাবাসন, মাটি থেকে ভাত তবু খাব না।”

কবির কবিতাযাত্রায় নানা বাঁকবদল। কবিতা থেকে কবিতার সঞ্চারপথে পুনরুক্তিপ্রবণতা খারিজ করাই তাঁর কবিধর্ম।
কবি শামসুর রাহমান-কে উৎসর্গ করা বাংলাদেশের যুক্ত প্রকাশন থেকে বের হওয়া ‘নওল কিশোর এসেছে বুকের তলে’ (২০১৩) বইয়ে তাই কবি বলছেন,
চিরায়তের বিচিত্রানুষ্ঠানে
অনাথ শিশুর কান্না বাদ গেলে
একথা জেনো প্রলয় এসে গেছে। (বিচিত্রানুষ্ঠান)

সংকীর্ণ জাতিবর্গের পরিচয় মুছে ফেলে ক্রমশ তাঁর একটি পাখা প্রাচী, অন্য পাখা প্রতীচী। দেশজ আর আন্তর্জাতিক, শাশ্বত আর নৈমিত্তিক, গ্রামীণ আর নাগরিক, অস্তিত্ব আর অস্তিত্ব-অতিশায়ীর মধ্যে সেতু রচনা তাঁর ব্রত। সেতু গড়তে গড়তে সেতুর ওপর যে থাকে, তাকে তো রক্তাক্ত হয়ে যেতেই হয়। ‘ইন্দ্রধনুর সাঁকোয় কাঁটা বিছিয়ে বলো/ আমারই দায় তার উপরে সাঁতার কাটা।’ (দুধে আলতায় কুয়াশায় আঁকা ছবি, ২০০৮) সেতু গড়ার কাজ তবু জারি থাকে। কবি তাঁর সর্বশেষ বই ‘বাস্তুহারার পাহাড়তলি’ (২০২০) তে মালার্মের অনুরণনে যেমন বলবেন,

ভাষা যেরকম ঝাপটানি তুলে দূর
দিগন্তটাকে দিয়ে যায় হাতছানি
ভবিষ্যতের কবিতাও সেই মতো
গৃহকোণ থেকে মুক্তির সন্ধানী….

তাৎপর্যপূর্ণভাবে এ বইয়ের নাম ‘বাস্তুহারার পাহাড়তলি’। কবি একদা তাঁর ঠাকুর্দার রিখিয়ায় তাঁদের একান্নবর্তী ভিটেবাড়িতে শৈশব কাটিয়েছেন। জার্মানির যে শহরতলিতে ভদ্রাসন পেতেছেন, তার নাম হির্শবার্গ, অর্থ হরিণপাহাড়। প্রবাসী এই সত্তার আকুতি তাঁর নতুন বইয়ের নামকরণে।

ভাষার শুশ্রূষাও তো কবিকর্ম। কবি তার গোষ্ঠীর ভাষাকে অমলিন রাখেন। বহু ব্যবহারে জীর্ণ হতে হতে ঘষা পয়সার সঙ্গে অচল হয়ে পড়ে শব্দ, বাকবন্ধ, উপমা। সেই ভাষা কবির হাতে বুক টানটান টনকো যুবা হয়ে ওঠে। আমাদের ভাষাঞ্চলে যে-স্বল্পসংখ্যক গুণিজন গত অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আমাদের দুঃখিনী বর্ণমালার ক্ষমতাকে আরো ঋদ্ধ করে তোলবার কাজে ব্রতী, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত তাঁদের অন্যতম। নতুন নতুন শব্দের, প্রতিশব্দের নির্মাণ, নতুন নতুন সমাসবদ্ধ পদের জোড়কলম, ছন্দের বারান্দায় অক্লান্ত প্রব্রজ্যা তাঁর নিত্যকৃত্য।

আমরা এই মিতকথনের উপান্তে উপনীত। ১৭ নভেম্বর, ২০২০ কবি চলে গেছেন, রয়ে গেছে তাঁর কাব্যসম্ভার। আমাদের দৃকপাতের অপেক্ষায়। তাঁরই কবিতার চরণ দিয়ে এ লেখায় ইতি টানি :

কবিতার আয়ু নিই চিনে
যা কিনা মৃত্যুর কব্জা থেকে
কবিকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে
তাকে বলে মৃত্যুর পরেও
ভ্রুমণ্ডলে কবিতা ঘনায়
জনপ্রিয়তার দশা থেকে
তুলে আনে প্রিয়জনতায়।

 

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
demon slauer rule 34 lena the plug leak amateurtrheesome.com cumming in milfs mouth mujer haciendo el amor a un hombre, belle delphine of leaked emma watson in porn xxxamat.com big booty in public hidden cam gay sex, sit on face porn g a y f o r i t forcedpornanal.com please screw my wife female celebrity sex tapes