উচ্চাকা্ঙ্খা হোমেন বরগোহাঞি  বাংলা অনুবাদ –বাসুদেব দাস 

উচ্চাকা্ঙ্খা হোমেন বরগোহাঞি বাংলা অনুবাদ –বাসুদেব দাস 

(৩)
বিশ্ব বিখ্যাত ইংরাজ ও ঔপন্যাসিক স্যার ওয়াল্টার স্কট মৃত্যুর মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে ছেলেকে বিছানার কাছে ডেকে এনে বলেছিলেন–’ সৎ মানুষ হবি বাবা, সদাচারী হবি, ধর্মনিষ্ঠ হবি, সৎ মানুষ হবি।’ চিরকালের জন্য চোখ বোজার আগে এটাই ছিল তার মুখ থেকে বের হওয়া শেষ কথা।
অন্যদিকে আমার শিক্ষাগুরুর  পিতামহ ছিলেন ক অক্ষরটির কয়টি  কোণ  তাও না জানা একজন নিরক্ষর দুঃখী চাষি।  অভাব অনটন এবং দারিদ্রের যন্ত্রণা ছিল তার চিরজীবনের সঙ্গী। এরকম একজন মানুষ ছেলেকে বলেছিল– ‘কেবল নিজের দুঃখের কথা চিন্তা করে থাকাটা পাপ।লোকের দুঃখ কষ্ট দেখেও তা দূর করতে চেষ্টা না করাটা আরও বেশি বড়ো পাপ।’নিজের ছেলের জন্য তিনি জীবনের একটি মাত্র লক্ষ্য ঠিক করে গিয়েছিলেন। সেটা ছিল— অন্যের মুখে হাসি  ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা কর।
যে ধরনের জ্ঞানগর্ভ কথা স্যার ওয়ালটার স্কটের মতো শিক্ষিত এবং পন্ডিত মানুষের মুখে শোভা পায় বলে মানুষ সাধারণত ভাবে, ঠিক সেই ধরনের কথা আমার শিক্ষাগুরুর পিতার মতো একজন নিরক্ষর মানুষের মুখ থেকে বের হয়ে আসাটা কীভাবে সম্ভব হল?
এই প্রশ্নের উত্তরও দিয়ে গেছেন স্বয়ং স্যার ওয়াল্টার স্কট নিজেই।
একদিন ওয়াল্টার স্কট এক জায়গায় বসে ছিলেন। তার থেকে কিছুটা দূরে অন্য কয়েকজন মানুষ  নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল।তাদের কথাবার্তা গুলি স্বাভাবিকভাবেই স্যার ওয়াল্টারের কানে এসেছিল।তখনই একজন মানুষকে এই বলে মন্তব্য করতে শুনলেন স্কট—’ যে সমস্ত মানুষের সাহিত্যিক প্রতিভা নেই এবং পাণ্ডিত্য নেই, সেরকম মানুষ সম্মানের যোগ্য নয়। আমার মতে একমাত্র সাহিত্যিক এবং বিদ্বানরাই সর্বোচ্চ সম্মানের যোগ্য।’
কথাগুলো শুনে স্কট লোকগুলির কাছে গিয়ে বললেন–’ ক্ষমা করবেন ভদ্র মহোদয়রা, আপনাদের  মধ্যে একজন এই মাত্র  যে কথাটা বললেন, সে কথার সঙ্গে একমত হতে না পেরে আমি মুখ খুলতে বাধ্য হলাম। একমাত্র পন্ডিত বা সাহিত্যিকরা সম্মানের যোগ্য– আপনাদের এই কথা সত্যি হলে আমাদের এই পৃথিবীটি  খুব দুঃখী হয়ে পড়বে। আমি নিজে অনেক বই পড়েছি বলে দাবি করি। অনেক জ্ঞানী গুণী মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করা এবং কথাবার্তা বলার আমি জীবনে অনেক সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু একটা কথা আমি আপনাদের  দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি যে অনেক দুঃখী এবং নিরক্ষর মানুষের মুখে আমি যে ধরনের জ্ঞান-গর্ভ কথা শুনেছি সেরকম কথা আমি উচ্চশিক্ষিত পন্ডিত মানুষের মুখেও শুনি নি।ভয়ংকর বিপদ এবং দুঃখ-যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়ে  অনেক নিরক্ষর মানুষ যে সমস্ত জ্ঞানের কথার  দ্বারা নিজেকে প্রবোধ দান করে  বা বিপদে পড়া অন্য মানুষকে যে ধরনের জ্ঞানের কথা শোনায়, সেই ধরনের কথা আমি এমনকি বাইবেলেও পড়িনি।গভীর জ্ঞানের কথা কেবল মানুষের মগজ থেকে বের হয় না; হৃদয় থেকেও জ্ঞানের কথা বের হতে পারে। হৃদয়ের জ্ঞানের তুলনায় অন্য সমস্ত জ্ঞানকে তুচ্ছ বলে ভাবতে না শিখলে আমরা জীবনের আসল অর্থ কখনও বুঝতে পারব না।’
আমার শিক্ষাগুরুর নিরক্ষর পিতামহের মুখ থেকে যে কয়েকটি অমৃতময় বাক্য বের হয়েছিল সেগুলি বেরিয়েছিল তার সৎ এবং নির্মল চরিত্রের  অন্তর থেকে। স্যার ওয়াল্টার স্কট অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই কথা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে কেবল বই পড়লেই মানুষ জ্ঞানী হতে পারে না। এই সেদিন পর্যন্ত পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই নিরক্ষর ছিলেন, অথচ পৃথিবীর বেশিরভাগ সাধু-সন্ত ,মহাত্মা এবং ধর্মগুরু বেরিয়ে ছিলেন সেই নিরক্ষর মানুষগুলির মধ্য থেকেই।অবশ্য একথা বলার অর্থ এটা নয় যে বুদ্ধি-বৃত্তির বিকাশের সঙ্গে মানুষের চরিত্র গঠনেও বইয়ের কোনো ভূমিকা নেই। মানুষের সভ্যতা- সংস্কৃতি প্রধানত গ্রন্থের সৃষ্টি। নিরক্ষর সাধু-সন্ত এবং মহাত্মাদের গভীর জ্ঞানের কথাগুলি  গ্রন্থ বদ্ধ হয়ে থাকার জন্যই যুগ যুগ ধরে মানুষ সেই সব থেকে শিক্ষা এবং প্রেরণা লাভ করতে পেরেছে। এমনকি উপরে উল্লেখ করা স্যার ওয়াল্টার স্কটের মূল্যবান কথাগুলি আমরা গ্রন্থ থেকেই জানতে পেরেছি। তথাপি এই চিরন্তন সত্যটি কেউ অস্বীকার করতে পারে না যে সৎ, দয়ালু এবং পরোপকারী হওয়ার জন্য বই পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই;নিজের হৃদয়ই  মানুষকে সেই শিক্ষা দান করে। অন্য ভাবে বলতে গেলে একটি সৎ এবং সুখী জীবন যাপন করার জন্য যতটুকু শিক্ষার প্রয়োজন সেই সমস্ত শিক্ষা কেবল বই দিতে পারে না।আমরা যে পাঠশালায় বই পড়ে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করি, সেটিই একমাত্র পাঠশালা নয়। তার বাইরেও একটি বিশাল পাঠশালা রয়েছে। সেটি হল জীবনের পাঠশালা। স্যার ওয়াল্টার স্কট যে সমস্ত অশিক্ষিত জ্ঞানী মানুষের কথা বলেছেন তারা প্রত্যেকেই জীবনের পাঠশালায় পড়াশোনা করে জ্ঞানী হওয়া মানুষ। আমার শিক্ষাগুরুর পিতামহও  সেরকম একজন জ্ঞানী মানুষ।
অনেক বছর পার হয়ে গেছে যদিও আমি আমার সেই শিক্ষাগুরুটির কথা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আমাদের শ্রেণীতে হওয়া প্রশ্নোত্তরের কথা ভুলে যাইনি ।বরং দিন যাবার সঙ্গে সঙ্গে সেই সমস্ত কথা বেশি করে আমার মনে পড়েছে।অবশ্য মনে পড়ার একটি বিশেষ কারণও রয়েছে। এখন আমার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। বয়স্ক মানুষের কাছ থেকেই কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা উপদেশ চায়। তার মধ্যে আমি ছেলে মেয়েকে নানা বিষয়ে উপদেশ দিয়ে কয়েকটি বই লেখার জন্য আমার সঙ্গের অন্য অনেক মানুষের চেয়ে  আমার কাছ থেকে উপদেশ চাইবার ছেলেমেয়েদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হবে বলে মনে হয়। এভাবে উপদেশ চেয়ে আমার কাছে লেখা চিঠি গুলিতে প্রায়ই একটি কথা থাকে–’ আপনি আপনার একটি গ্রন্থে লিখেছেন যে বাঙালি কবি ডক্টর অমিয় চক্রবর্তী জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে উপদেশ চেয়ে  জর্জ  বার্নাডশকে  একটি চিঠি লিখেছিলেন এবং শ সেই চিঠির জবাব দিয়েছিলেন। শ ডঃ অমিয় চক্রবর্তীকে এই বলে উপদেশ দিয়েছিলেন যে প্রত্যেক কিশোরেরই  যৌবনের দরজায় উপনীত হয়ে জন স্টুয়ার্ট মিলের আত্মজীবনীটা পড়া উচিত;সেই বইটি তাদের আদর্শ জীবনের সন্ধান দেবে। আমরা দূর বিদেশের এত বড়ো মনীষীর কাছে চিঠি লেখতে পারি না। আপনি আমাদের কাছের মানুষ এবং অতি পরিচিত মানুষ। সেই জন্য আমরা আপনার কাছ থেকে উপদেশ চাইছিঃ  আমাদের জীবনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?জীবনটা ভালোভাবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের কী করা উচিত?কী ধরনের বই পত্র পড়া উচিত?… …যখনই ছেলেমেয়েদের এই ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হই, তখনই আমার মনে পড়ে বহু বছর আগে আমার শিক্ষাগুরু আমাকে জিজ্ঞেস করা প্রশ্নগুলির কথা এবং তার নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়ে বলা কথা।
স্যারের প্রশ্নের উত্তরে আমরা ছেলেরা বলেছিলাম যে আমরা সিপাহি হতে চাই, দোকানি হতে চাই,ডাক্তার হতে চাই …  … ইত্যাদি।  স্যার উপযাচক হয়ে আমাদের বলেছিল যে তার জীবনের একমাত্র উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল পরোপকারী হওয়া, অন্যের মুখে হাসি  ফুটিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা করা, আমার নিজের যখন কিছু বয়স হল এবং জীবন সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করতে আরম্ভ করলাম,তখন আমি এই  সিদ্ধান্তে  এলাম যে এই দুটো লক্ষের ভেতরে মাত্র যেকোনো একটি জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না; দুটো লক্ষ্যকে মিলিয়ে একটা করে নিতে পারলে মানুষের জীবনটা সার্থক হতে পারে।
  এই দুটো লক্ষ্যের ভেতরে একটি লক্ষ্য মানুষ ভেদে আলাদা  আলাদা হয়। প্রত্যেক মানুষই নিজের প্রতিভা এবং অভিরুচি  অনুসারে নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে নেয়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ ডাক্তার হতে চায়, কেউ সঙ্গীতজ্ঞ হতে চায়, কেউ প্রশাসক হতে চায়, কেউ খেলোয়াড় হতে চায়– ইত্যাদি। আমরা যখন জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা বলি, তখন আমরা সাধারণত এরকম একটি  লক্ষ্যের  কথাই  বোঝাতে চাই।
  জীবনের এই লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য মানুষকে ক্রমাগত চেষ্টার দ্বারা নিজের বুদ্ধি বিকাশের সাধনা করা ছাড়া ধৈর্য একাগ্রতা ইচ্ছা শক্তি এবং শ্রম সহিষ্ণুতার মতো কিছু বিশেষ গুণ আয়ত্ত করতে হয়। কিন্তু কেবল খ্যাতি ধন-ঐশ্বর্য বা জ্ঞানের সাধনায় মানুষকে সম্পূর্ণভাবে সুখী করতে পারে না। সেই সব তাকে সম্পূর্ণ মানুষও করে তুলতে পারে না। প্রত্যেক মানুষ এই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এই কথা জানে যে কারও কিছু ভালোবাসা মানুষকে যতটা আনন্দ দেয় অতি মূল্যবান উপহারও ততটা আনন্দ দিতে পারে না। একটা ভালো কবিতা পড়ে, গান শুনে বা একটি সুন্দর চিত্র দেখে আমরা যে ধরনের আনন্দ অনুভব করি সেরকম আনন্দ কোনো ধরনের সুখাদ্য বিলাশ সামগ্রী বা উত্তেজনাপূর্ণ  আমোদ প্রমোদ  দিতে পারে না।
একজন চরিত্রবান দরিদ্র মানুষের প্রতি আমরা যে শ্রদ্ধা অনুভব করি ,একজন চরিত্রহীন ধনী মানুষের প্রতি সেই ধরনের শ্রদ্ধা কখনও অনুভব করি না। বিশ্ববিজয়ী মহাবীর আলেকজান্ডার উলঙ্গ সন্ন্যাসী ডায়োজিনিসের সঙ্গে দুই একটি কথা বলার পরে বলেছিলেন যে তিনি যদি আলেকজান্ডার না হতেন,তাহলে তিনি ডায়োজিনিস  হতে পারলে খুশি হতেন। বিশ্ববিজয়ী মহাবীরের চেয়ে একজন দরিদ্র সন্ন্যাসীকে আলেকজান্ডার কেন ওপরে স্থান দিয়েছিলেন?কারণ আলেকজান্ডার পৃথিবী জয় করলেও  নিজেকে জয় করতে পারেননি–যে কাজটা ডায়োজিনিস করতে পেরেছিলেন। অর্থাৎ মহাবীর আলেকজান্ডার এ কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে বাহুবলে বিশ্ব জয় করার চেয়ে মনোবলে নিজেকে– অর্থাৎ নিজের কু-প্রবৃত্তি গুলিকে –জয় করা বেশি শক্ত। যুগ যুগ ধরে মানুষের একটা প্রধান সাধনা হল নিজেকে জয় করার সাধনা।
মাত্র এই কয়েকটি উদাহরণ থেকেই আমরা বুঝতে পারি যে কেবল জ্ঞানী মানী এবং ধনী হওয়াটাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। জীবনের অন্য একটি লক্ষ্য হতে হবে দয়া,মমতা,পরহিতৈষণা,সৌন্দর্য-প্রীতি আদি হৃদয়বৃত্তি গুলি এবং সততা,সত্যবাদিতা এবং আত্ম সংযম আদি নৈতিক গুণগুলির বিকাশ সাধন করে সম্পূর্ণ মানুষ হওয়ার চেষ্টা করা। এই দুটো লক্ষ্যকে মিলিয়ে নিয়ে এক করে কেউ যদি সেই লক্ষ্যে উপনীত হতে পারে তাহলে  তার চেয়ে ভাগ্যবান মানুষ  আর কেউ হতে পারে না। প্রত্যেকের পক্ষে জ্ঞানী মানে এবং ধনী হওয়াটা সম্ভব নাও হতে পারে, কারণ তার জন্য প্রকৃতি দত্ত প্রতিভা ছাড়া অনেক সময় ভাগ্যের সহায় এবং সুযোগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সৎ সংযমী এবং শিষ্টাচারী হওয়ার জন্য একমাত্র নিজের সংকল্প ছাড়া অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই।
আজকের যুগের মানুষ সৎ হওয়ার চেয়ে ধনী হওয়ার ওপরে বেশি গুরুত্ব দেয়। আধুনিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিবিদ্যা গত একশত  বছরে অজস্র ভোগ বিলাসের সামগ্রী উদ্ভাবন করেছে।  এরকম একটি দিন নেই– যে দিনটিতে নতুন নতুন  ভোগ-বিলাসের সামগ্রী বাজারে এসে উপস্থিত না হয়। সেই সামগ্রী গুলি আহরণ করার জন্য ধনের প্রয়োজন  হয়। সেই জন্য ধনী হওয়াটাকেই  আধুনিক মানুষ জীবনের প্রধান লক্ষ্য তথা উচ্চাকাঙ্ক্ষা হিসেবে ঠিক করে নিয়েছে।  কিন্তু ধন-ঐশ্বর্য মানুষকে প্রকৃত সুখী করতে পেরেছে কি?
পৃথিবীর ভেতরে সবচেয়ে ধনী দেশ হল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ।অন্য সমস্ত দেশের চেয়ে সেই দেশে ধনী মানুষের সংখ্যা বেশি। যদি কেবল ধন-ঐশ্বর্য মানুষকে সুখী করতে পারত বা ধন-ঐশ্বর্য বৃদ্ধি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুখের পরিমাণও বৃদ্ধি পেত তাহলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মানুষই হত পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। কিন্তু সে কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। ডেভিড মেয়ার্স  নামের একজন আমেরিকান  মনস্তত্ত্ববিদ ‘ সুখের অন্বেষণ’  নামে একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ লিখেছেন।  বইটির শীর্ষক বলে দিচ্ছে যে সুখের সন্ধানে মানুষেরা প্রকৃত সুখ পেয়েছে কিনা  বা পেলেও কতটুকু পেয়েছে সেই সমস্ত কথা বিচার করে দেখাটাই হল বইটির মূল উদ্দেশ্য। ধন-ঐশ্বর্যের সঙ্গে যে সুখের বিশেষ সম্পর্ক নেই ,লেখক সেই বিষয়ে বইটিতে প্রমাণ তুলে ধরেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের অপঘাত মৃত্যুর তিনটি প্রধান কারণের মধ্যে তৃতীয় স্থান দখল করেছে আত্মহত্যা। সুখী এবং আশাবাদী মানুষ আত্মহত্যা করে কি?  পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশটির অসংখ্য মানুষ যে নিজের জীবন শেষ করার জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, কেবল এই কথাটাই একথা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে কেবল ধন-ঐশ্বর্য মানুষকে সুখী করতে পারে না। দরিদ্রতা মানুষের একটি প্রধান শত্রু।  দরিদ্রতা তিল তিল করে মানুষের শরীর এবং আত্মার ধ্বংস করে কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে দরিদ্রতার বিপরীতে যতই মানুষের ধনসম্পত্তি বাড়বে ততই বেশি করে তারা সুখী হবে।  উপরে উল্লেখ করা বইটিতে মনস্তত্ত্ববিদ একথা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে ১৯৫৭ সনে আমেরিকানদের বার্ষিক উপার্জন  যত ছিল  সেই উপার্জন ক্রমান্বয়ে  বৃদ্ধি পেতে পেতে ১৯৯০ সনে দ্বিগুণ হয়েছে। কেবল ধনসম্পত্তি মানুষকে সুখী করতে পারলে আমেরিকায় সুখী মানুষের সংখ্যা ১৯৫৭  সালের তুলনায় ১৯৯০ সনে দ্বিগুণ হওয়াটা উচিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে  চলতে থাকা একটি সমীক্ষা থেকে দেখা গিয়েছে যে আমেরিকায় ধনী মানুষের সংখ্যা এবং তাদের আর্থিক উপার্জন ১৯৫৭ সনের  তুলনায়  ১৯৯০ সনে দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে ঘোষণা করা অসুখী মানুষের সংখ্যা ১৯৫৭ সালে যত ছিল  ১৯৯০ সনে ঠিক ততই রইল। ১৯৫৭ সনে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের  মোট জনসংখ্যার  এক তৃতীয়াংশ মানুষ ঘোষণা করেছিল যে তাঁরা মনে মনে খুব অসুখী।
কেবল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নয়, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চালানো ব্যাপক সমীক্ষায় এই কথা প্রমাণ করেছে যে ইউরোপ আমেরিকার কয়েকটি উন্নত শিল্পপ্রধান দেশে মানুষের হতাশা এবং বিষন্নতা প্রতি দশ বছর  পরে পরে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের বেশিরভাগই  নানাবিধ  মানসিক রোগের  দ্বারা আক্রান্ত।
এই সমস্ত তথ্য থেকে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যে কেবল ধনী হওয়াটাই  বা ভোগ বিলাসের সামগ্রী আহরণ করাটাই মানুষের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।  কোন জিনিসগুলি  মানুষকে প্রকৃত সুখ-শান্তি দিতে পারে সেই সমস্ত জিনিসের সন্ধান করাটাই জীবনের একটি লক্ষ্য হওয়া উচিত। উপনিষদের একটি অমর কাহিনি থেকে আমরা এই কথা জানতে পারি যে ঋষি যাজ্ঞবল্কের একজন পত্নী তাকে দেওয়া অজস্র ধন-সোনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কেন? তার যুক্তি ছিল যে, যে সমস্ত জিনিস দিয়ে অমৃতের সন্ধান পাওয়া যায় না, সেসব নিয়ে তিনি কী করবেন? বাইবেলেও বলা হয়েছে— Man cannot live by bread alone–-মানুষ কেবল রুটি খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে না। এখানে রুটি শব্দটি মানুষের সমস্ত শারীরিক এবং বৈষয়িক প্রয়োজনের প্রতীক। কথাটার অর্থ এই যে মানুষের সমস্ত শারীরিক এবং বৈষয়িক প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পরেও এমন কিছু প্রয়োজন থেকে যায়– যেসব পূরণ না হলে মানুষ প্রকৃত শান্তি পেতে পারেনা; অথচ সে সমস্ত প্রয়োজন ধন-ঐশ্বর্য পূরণ করতে পারেনা । যে জিনিস মানুষের দেহাতীত প্রয়োজন পূরণ করতে পারে  তাকেই উপনিষদের ঋষি বলেছেন ‘ অমৃত’। বাইবেলে পুনরায় বলা হয়েছে— What is  a man profited if she  shall gain the whole world and lose his own soul? (Mathew 16:24-21)মানুষ সসাগরা পৃথিবীর মালিক হল, কিন্তু সে নিজের আত্মাটাকে হারাল; তাহলে মানুষের কী লাভ হল?
যারা এই সমস্ত জটিল এবং গভীর কথা চিন্তা করে মাথা ঘামাতে চায়না, তারা গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের একটা কথা সবসময় মনে রাখলেই জীবনের একটি বড়ো সমস্যার সমাধান করতে পারবে। একদিন সক্রেটিস কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে গিয়েছিলেন। বাজারের দোকানপাট  বিচিত্র সব মনোহর  জিনিসপত্রে একেবারে ঠাসা। জিনিসগুলি এক দিক থেকে দেখে যাবার সময় তাঁর মুখে কৌতুকের হাসি ছড়িয়ে পড়তে লাগল। তার মুখের দিকে তাকিয়ে কৌতূহলের বশবর্তী  হয়ে বন্ধুরা  তাকে জিজ্ঞেস  করল—’ আপনি কিছু একটা কথায় খুব রস পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।  আপনি মনে মনে কী ভাবছেন? সক্রেটিস উত্তরে বললেন– ‘বাজারের এই বিচিত্র মনোহারী জিনিসগুলি  দেখামাত্র আমার একটা কথাই মনে পড়ছে– এই সমস্ত জিনিসগুলি ছাড়াই আমার জীবন কত সুন্দরভাবে চলে যাচ্ছে  আর ভবিষ্যতেও চলে যাবে। জিনিসগুলি আমাকে কেবল এই কথাটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে যে আমি আমার জীবনে এই সমস্ত জিনিস গুলির  কোনো প্রয়োজন অনুভব করি না।’
চার
উপরে যে কথাগুলো আলোচনা করা হল  তার থেকে মোটামুটি ভাবে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি  যে প্রত্যেক মানুষের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি নয়– দুটি। প্রথম লক্ষ্য হল  নিজের সহজাত প্রতিভা এবং অভিরুচির সঙ্গে  দেখে কি কর্মক্ষেত্র বেছে নিয়ে তাতে কৃতকার্য হতে চেষ্টা করা। নৈতিক চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন করে  জীবনে  সুখ শান্তি এবং আনন্দ পেতে চেষ্টা করা। আমাদের যেভাবে হাঁটার জন্য দুটি পা ,কাজ করার জন্য  দুটি হাত  দেখার জন্য দুটি চোখ এবং শোনার জন্য দুটি কান আছে, চিন্তা করার জন্য মস্তিষ্ক এবং অনুভব করার জন্য হৃদয় আছে, ঠিক সেভাবে জীবনটাকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করার জন্য আমাদের দুটো লক্ষ্য থাকা উচিত।
সমস্ত পিতা মাতাই নিজের সন্তানদের বড় হয়ে জ্ঞানী মানি ধনী এবং  সুখী হওয়াটা চান। কিন্তু সন্তানকে পথ দেখানোর জন্য সমস্ত পিতা-মাতার যোগ্যতা থাকে না। আমরা  আগে বৃদ্ধ দার্শনিক সক্রেটিসের কথা উল্লেখ করেছি। পুনরায় একবার তাদের নাম স্মরণ করতে হচ্ছে।  এথেন্সের যুবকদের ভুল পথে পরিচালনা করার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ের এথেন্সের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য দণ্ডিত ব্যক্তিকে হেমলক নামের কালান্তক বিষ খেতে দেওয়া হয়েছিল। বিষ পান করার আগে সক্রেটিস বিচারক মন্ডলীর সামনে নিজের শেষ ইচ্ছা ব্যক্ত করে বলেছিলেন–’ বন্ধুরা, আপনাদের কাছে আমার একটি শেষ অনুরোধ আছে। আমার পুত্ররা যদি চরিত্রের সাধনার চেয়ে ধনসম্পদ থেকে বেশি মূল্য দান করে বা নিজে কিছু না জেনেও অনেক কিছু জানে বলে গর্ব করে বেড়ায়, তাহলে আপনারা যেন তাদেরকে কঠোর শাস্তি দান করেন।’ এই ধরনের পিতা কোটি কোটি মানুষের মধ্যে একজন বের হবে কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহ আছে।
সক্রেটিক্সের মতো মহৎ আদর্শের দ্বারা উদ্বুদ্ধ  অন্য একজন পিতা ছিলেন আব্রাহাম লিংকন। তিনি ছিলেন আমেরিকান যুক্তরাষ্ট ষোড়শ রাষ্ট্রপতি(১৮৬১-৬৫)। তার ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবন পরিচালিত হয়েছিল উচ্চ নৈতিক আদর্শের দ্বারা । সেই জন্য মহাত্মা গান্ধী ভারতীয়দের হৃদয়ে যে ধরনের শ্রদ্ধার আসন লাভ করেছেন– সেই একই শ্রদ্ধার আসন আমেরিকানদের হৃদয়ে দখল করেছেন আব্রাহাম লিংকন। মহাত্মা গান গান্ধীর মত তিনি নিহত হয়েছিলেন আততায়ীর  হাতে। সেই সময়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল। ১৮৬১ সনে যখন আব্রাহাম লিংকন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি তখন দাস প্রথার বিলোপ সাধন করার জন্য সেই দেশের শাসন সভায় একটি বিধেয়ক  প্রস্তাব করা হল। তার প্রতিবাদে দক্ষিণের এগারোটি রাজ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে গিয়ে একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠন করার সংকল্প ঘোষণা করল। রাষ্ট্রপতি নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার জয়লাভ; আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য এবং অখন্ডতা রক্ষা পড়ল। তার চেয়েও বড় কথা– দাস প্রথার বিলোপ সাধন করাটা সম্ভব হল। কিন্তু তার জন্য চরম মূল্য দিতে হল আব্রাহাম লিংকনকে। যুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের ভিতরে ১৮৬৫ সনের ১৪ এপ্রিলের দিন গুপ্তঘাতক তাকে হত্যা করল। কিন্তু মরেও অমর হওয়া মানুষের তালিকায়  যুক্ত হল আরো একটি নাম আব্রাহাম লিংকন।
পৃথিবীর সমস্ত দেশের পিতামাতা– সঙ্গে তাদের ছেলেমেয়েরাও– আব্রাহাম লিংকনের ঘটনাবুল জীবনের অন্য অনেক কথা না জানলেও একটা কথা বিশেষভাবে জানা উচিত। সেটা হল শৈশবে ছেলেমেয়েদের কি ধরনের শিক্ষা দেওয়া উচিত সেই সম্পর্কে আব্রাহাম লিংকনের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা।, তার বড় ছেলে যখন পাঠশালায় ভর্তি হলো তখন তিনি ছেলেটির শিক্ষককে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ছেলেকে লেখাপড়া শেখানো ছাড়াও তাকে জীবনের জন্য প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে আরও কি কি শেখানো উচিত সেই বিষয়ে উপদেশ দিয়ে আব্রাহাম লিংকন শিক্ষককে একটি চিঠি লিখেছিলেন–
‘সমস্ত মানুষই যে সত্যবাদী এবং ন্যায়পরায়ণ নয় সে কথা আমার ছেলেটিকে জানতে হবে। সেই কথা আমি জানি। কিন্তুআপনি আমার ছেলেকে এ কোথাও জানাতে হবে যে এই পৃথিবীতে যত বদমাশ আছে ঠিক ততই ভালো মানুষও আছে; যত স্বার্থপর রাজনীতিক  আছে– ঠিক ততই আছে মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা নেতা।
‘ আপনি তাকে এ কথা শেখাতে হবে যে প্রত্যেক মানুষের একজন যদি  শত্রু থাকে, ঠিক সেভাবেই তার একজন বন্ধুও আছে। যদি পারেন তাহলে আপনি তাকে আরও একটি কথা শেখাবেন। সেই কথাটি তার মনে গভীরভাবে ঢুকিয়ে দিতে কিছু সময় লাগবে , কথা আমি জানি সে কথা আমি জানি। কিন্তু আপনি চেষ্টা   না করে থাকবেন না । আপনি তাকে এই শিক্ষা দেবেন যে হারিয়ে পাওয়া বা বকশিস হিসেবে পাওয়া পাঁচ ডলার চেয়ে নিজে কষ্ট করে অর্জন করা এক ডলারের মূল্য অনেক বেশি।
  আপনি তাকে  হারাতে  এবং হারতে শিক্ষা দেবেন। সঙ্গে জয়ের আনন্দ উপভোগ করার জন্য  সাক্ষাতে ভুলবেন না।
‘ যদি পারেন, কপটতা কুচুটেপনা  ইত্যাদি কুপ্রবৃত্তি থেকে তার মনটাকে মুক্ত করতে  চেষ্টা করবেন। মানুষের মুখে সন্তোষের নীরব হাসি ছড়িয়ে পড়ার রহস্য কি, সে কথা আপনি তাকে শেখাবেন। যদি পারেন আপনি তাকে বইয়ের বিস্ময়ের আভাস দিতে চেষ্টা করবেন। কিন্তু সেই যাতে মাঝেমধ্যে  নিরালায় আকাশে উড়ে বেড়ানো পাখি গুলির , রোধে ঘুরে বেড়ানো মৌমাছি গুলির এবং সবুজ পাহাড়ে  ঝিলমিল করতে থাকা ফুলগুলির অনন্ত রহস্যের  ধ্যান করতে পারে  তার জন্য তাকে কিছুটা  সময় দেবেন।
 পাঠশালায় তাকে এই শিক্ষা দেবেন যে প্রতারণা করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়াটা বেশি সম্মানজনক।  সে নিজে যে সমস্ত কথা চিন্তা করে বা সত্য বলে ভাবে সেই সমস্ত বিশ্বাস করার জন্য তাকে শিক্ষা দেবেন; তাকেই শিক্ষা দেবেন  যে অন্য সবাই তার কথা ভুল বলে বললেও সে যেন সহজে বিচলিত না হয়। ভদ্র মানুষের সঙ্গে ভদ্র হওয়ার জন্য এবং অভদ্রের প্রতি কঠোর হওয়ার জন্য তাকে শিক্ষা দান করবেন।
‘ অন্যের প্রচারে ভুলে না গিয়ে দল বেঁধে চিৎকার চেঁচামেচি করা মানুষকে অনুসরণ না করার জন্য আপনি আমার ছেলেকে মনোবল জোগাবেন। সমস্ত মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য আপনি তাকে শিক্ষা দেবেন; কিন্তু এইসঙ্গে তাকে এই শিক্ষাও দেবেন যে যাতে সে শোনা কথাগুলির সত্যতা নিজের বিচার বুদ্ধি দিয়ে ভালো করে বিচার করে মঙ্গলজনক কথাগুলি গ্রহণ করতে পারে।
‘ যদি পারেন, বিষাদ তাকে গ্রাস করার সময়ও তাকে হাসতে শেখাবেন; তাকে এই কথা শেখাবেন যে কাঁদার জন্য মানুষ যেন লজ্জা না পায়।
‘ নিন্দুককে নিন্দা করার জন্য আর  ছলনা কারীর কথায়  যাতে ভোলে না যায় তাকে সেই শিক্ষা দেবেন। সবচেয়ে বেশি দাম দেবেন  কাঙ্খিত জনকে তার শরীর  এবং মগজের শক্তি  বিক্রি করেন তাকে শিক্ষা দান করবেন; কিন্তু সঙ্গে তাকে এই শিক্ষা দেবেন যাতে সে কখনো তার হৃদয়ে এবং আত্মা বিক্রি করতে রাজি না হয়।
‘ উন্মত্ত জনতার নিন্দাবাদকে উপেক্ষা করে নিজের মতে অটল হয়ে থাকার জন্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আপনি তাকে শিক্ষা দান করবেন। তাকে আপনি আদর করবেন; কিন্তু সেই বলে তাকে  প্রশ্রয় দেবেন না। এ কথা মনে রাখবেন যে আগুনের লোখা ভালোভাবে গলার পরে তা  স্টিলে পরিণত হয়। আপনি তাকে এই শিক্ষা দেবেন যে ধৈর্য না হারানোর জন্য এবং সাহসী হওয়ার জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন। নিজেকে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করার জন্য আপনি তাকে শিক্ষা দান করবেন, কারণ কেবল তখনই সে মানবজাতিকে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে পারবে।
‘ আপনাকে আমি একটা বিরাট দায়িত্ব দিলাম। কতটা করা আপনার  দ্বারা সম্ভব হবে সে কথা আপনি জানবেন। আপনি চেষ্টা করবেন  …   … সে এত ভালো একটি ছোট্ট শিশু, আমার ছেলে!’
CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
demon slauer rule 34 lena the plug leak amateurtrheesome.com cumming in milfs mouth mujer haciendo el amor a un hombre, belle delphine of leaked emma watson in porn xxxamat.com big booty in public hidden cam gay sex, sit on face porn g a y f o r i t forcedpornanal.com please screw my wife female celebrity sex tapes