
শিবু মণ্ডল-এর কবিতা
১।
যুদ্ধের হাওয়া
হাওয়ার বারুদ এসে কাঠের মোহে ধাক্কা দিয়ে গেল
সেই থেকে যুদ্ধের পক্ষে চিঠি ওড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যের আদিম জ্বালানীতে আগুনের আমন্ত্রণ
পুরানো অসুখের মাথায় টুপি হাসে, মজা পায়।
সাইকো টুপি অথবা ট্রাম্পেট হু হু আর ইউ?
দুপুরের বিছানায় দুপুর বহাল তবিয়তে
খেলে আমার দেশে; বহুদূর এক স্কুল
আমার চেতনায় প্রভাব বিস্তার করে।
মৃত্যুর ইশতিহার আকাশ থেকে নেমে আসে
নিষ্পাপ শিশুদের কোলে!
ধিক্কারের কোনও দেশ নেই,
মজার সংক্রমণ সবার মনে মনে
ছড়ায়, ছড়ায় কি?- নিন্দা একটি অবলুপ্ত শব্দ!
আমি হাঁটতে হাঁটতে কতটুকু রান্না, ভাবি
ভাবি রাষ্ট্রসংঘের রান্নাঘর – দোচালা টিনের
হাওয়ার উড়ে গেছে; সেখানে
কী রান্না হবে আজ রাতে, ভাবছি…
২।
জীবন ঠিক এমনই কি
হাঁটার মগ্নতা ও কুকুরের ঘেউঘেউ
সেক্টর ফোরের রাস্তা ও নক্সায়
দেখা যায় রোজ সন্ধ্যায়; যদিও
কারো নামেই কোনও সরণি নেই।
অথচ বাস্তব অন্য কথা বলে।
দূরে সরে যাওয়া মেঘের বিচিত্র ভাবনা
নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে গন্তব্যের কথা ভাবে।
মাঝে একটি বাছুর একলা বান্ধবহীন
এলোমেলো ছুটে গেল পাশ দিয়ে; আলো আঁধারিতে
ঠিক স্পষ্ট বোঝা গেল না তার রং;
জীবন ঠিক এমনই কি?-
তার নামে কোনও সরণি নেই
নেই কোনও গ্রাম ও শহর; কোনও গন্তব্য!
৩।
সঙ্গ আ-সঙ্গ
অবদমনের শাসন এক চমৎকার ইতিহাস
ঢেকে রাখে ধংসরুপ- বাড়ি; ঢালু পথে
এক্কা গাড়ির অবৈধ গতি, স্টেশন খোঁজে।
বন্ধুর পিতা, পিতার বন্ধুরতা, প্রাচীন মাত্র
রেখেছে উঠোনের স্মৃতি, কীর্তনের অনুষঙ্গ।
বংশের গোয়ালে দলিল রাখা আছে দেবতার
কণ্ঠে জেগে থাকে এক ধ্রুব কথা।
মন্দির ও প্রত্ননিদর্শনের মাঝে মিলনের ভঙ্গিমা
যেমন রাখা ছিল সযত্নে পান পাত্রের পাশে, তেমনি
আক্রমণাত্মক মাথা কামড়ে পড়ে থাকে অন্ধ কোণ!
ফ্রয়েডের আখরা থেকে এক কৌতূহল এল
পাক ঘরে অনন্ত ঘ্রাণ, স্টোভের শীৎকার
পাকা তুলসির মতো পা তুলেছে কাঁধে।
কাঁধের বাড়ন্ত ব্যথা ভাবের ঘরে চুরি করে; মিথ্যে
যতটা দায়িত্ব ঠিক ততটাই তর্কের সম্পাদনা, জীবন-
যতটা সঙ্গের ঠিক ততটাই আ-সঙ্গের!
৪।
যুদ্ধের সমাধি ছুঁয়ে
চিত্র শিল্পীর জন্য চিত্র তুলছি।
মঞ্চে আলোর ইঙ্গিত,
প্যানরমিক সম্পর্কের আয়োজন- এই
সবকিছুতে একটি জানলার প্রয়োজন।
ভালোবাসার মতো বিদ্রোহ কিছু হয় নাকি!
চোখে চোখে ছক
যুদ্ধ চলছে পারস্য জুড়ে
যুদ্ধ চলছে মনে, মনে অজস্র মনে;
মনের ভেতর নেচে চলেছে পরমাণু চুল্লি;
ভাত ও মাংস রান্না হচ্ছে আগুনের প্রতিহিংসায়
বালি ও সমুদ্রের কাম-বাসনা প্রদর্শিত হবে
আগামি সব যুদ্ধের সমাধি ছুঁয়ে…

