
অনুপম নিয়োগী-র কবিতা
১
নিজেকেই পাল্টে পাল্টে দেখি। ক্ষীণ সম্ভাবনার ভিতর এই জন্ম, এই ছায়াবাজি খেলা নিয়ে এল জীবন নামক অদ্ভূত কারবারের ভিতর। অচেনা পথ সহসা হয়ে উঠল প্রতিষেধক।তারপর বাকিটা সময় শুধু লিখে ফেলা আর লিখে ফেলা ক্ষতের অপর পাশে পড়ে থাকা ইতিহাস।
২
বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বীজ। আয়ুতে আয়ুতে ঠোক্কর লেগে বেজে উঠছে গান। এ জীবন পেরিয়ে যে রাস্তা চলে গেছে অন্য কোনো পারে তাকে প্রণাম জানিয়ে ঘরে ফিরছে সন্ধ্যের পাখিরা। তাদের ফেরার শব্দ শুনি এখন। রাতের নক্ষত্র জাগে। হাজার অপচয়ের পর চোখে নেমে আসে ঘুম।
৩
নিরাকার হয়ে কষ্ট দিচ্ছে কেউ । তাকে খুঁজি,তাকে বোঝার চেষ্টা করি । খুঁটে খুঁটে খাই জীবনের অন্ন। অনিশ্চয়তার সাথে লড়তে লড়তে বদলে যাচ্ছে মন, ভাবনা ও মনন। দোল খেতে খেতে ঘূর্ণাকারে ঘুরে চলেছে এই কাল ,এই নশ্বর শরীর। জানি না পরবর্তী কোন স্টপেজে গিয়ে থামবে বাস। চলো প্রস্তুত হই।
৪
ব্যক্ত হও জীবন তুমি।আমাদের ফুঁপিয়ে কান্না তোমাকে মরমী করে তুলছে আরও। তুমি জানো শেষমেশ প্রতিটি লেখাই আমাদের পৌঁছে দেবে এক গ্লাস জল ও একটি বাতাসার কাছে। লড়াইয়ের জমিতে দাঁতে দাঁত চেপে এখন আমরা পেরিয়ে যাব সামনের এক বিস্তীর্ণ সেতু। জেনে রেখ বেলা গড়াতে গড়াতে ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠবে আমাদের বোঝাবুঝি। আপাতত ঘোষণা হোক বিরতি।
৫
লেখা ছাড়া কোনো নিয়তি নেই আর। লিখে চলি। কখনও থেমে যাই। চেষ্টা করি কতটা বেঁচে আছি তা নির্ণয় করার। এই ব্যপ্ত পরিসরে গর্ভগৃহের মতো শূন্য লাগে পৃথিবীর পথ। ভারহীন হয়ে সে পথে এখন এসে দাঁড়ান ঈশ্বর।কথার প্রান্ত জুড়ে মেঘ করে আসে সময়ের অবয়ব হয়ে। লিখিত হয় অক্ষর,যাপনও…

