
গুচ্ছ কবিতা – ধীমান দাস
১. গার্হস্থ্য
বৃষ্টিতে ভিজলে
রোজ রাতে জ্বর আসে
কপালে দাউদাউ করে উনান জ্বলে
ভাত হয়ে গেলে কতকগুলি শালিক
এসে বারান্দায় বসে
ওরা অবৈধ নাগরিক
ভরপেট খেয়ে উড়ে যায়
যেভাবে ওড়ে একটি যুদ্ধ বিমান…
২. বাণপ্রস্থ
সূর্যাস্তের পর ক্রমশঃ বয়স বাড়ে
যুবতী কাজল
বিছানা পাতে
মধুর কৃষ্ণপ্রেমে
নামে সপ্তদশী রাত
গর্ভবতী হয় গণতন্ত্র
ডাহুকের নিঃশেষ প্রজনন
সম্পর্ক মুছে বয়ে চলে অলীক রাধানাম…
৩. সন্ন্যাস
যুদ্ধ থেমে গেলে
অজস্র প্রেমের বিচ্ছেদ ঘটে
অকাল বিবাহযোগ
ফিরে আসে কিশোরী মেয়েবেলা
চোখ বুজে এলে
সাবালক হয় সমস্ত রাশিফল
সমীকরণ ক্রমশঃ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
মৃত্যুই মুক্তি ঈশ্বর চিরায়ত শ্মশানবন্ধু…
৪. জলছোঁয়া
হঠাৎ একটি সাদা পায়রা
হৃৎপিন্ডের একপাশে এসে বসলো
সারা শরীর ছুঁয়ে
ব্রহ্মকমল ফুটিয়ে উড়ে যায়
তোমার জলে ভিজতে চাই
ময়ূরাক্ষী
স্নান সেরে প্রেমিক হয়ে উঠ
হে প্রিয়তম সাধক…
৫. নাগলিঙ্গম
হে বৃক্ষদেবতা!
তোমার ছায়াতলে বেড়ে ওঠা
যুবক সন্ন্যাসী
মিলিত হয় অজানা স্রোতের সাথে
শিশুর মতো জড়িয়ে ধরে পথিক জ্যোৎস্না
যদি ধার্মিক হয়ে উঠি
এভাবেই ঘ্রাণ ছড়িয়ে বিদ্রোহ প্রেম আঁকবো…
৬. চাঁদ ও চন্ডাল
ঈশ্বর একটি মোহফুল
হাত বাড়ালেই দেখি
অবৈধ চাঁদ ও প্রান্তিক ডোম যুবক
ওরা অশৌচ
শত শত যুবতী উর্বর শরীর বিছিয়ে দেয়
জ্যোৎস্না ফোটে সমস্ত ভূলোকে
সন্ন্যাসীর পথে নিমাই
কত দেহ উড়ছে, কত দেহ পুড়ছে
ওরা চন্ডাল
সাধকের বেশে ছাইয়ের দর্শনে ঢাকে উলঙ্গ যাপনকাল…
৭. সম্পর্ক
কোনো সময় দুটি বালিশের দূরত্ব বাড়ে
ভিন্ন হয় দুটি দেশ
মাঝে শান্তিচুক্তির পতাকা নিয়ে
ভেসে ওঠে
দোতারার সান্ধ্য উপকূল…
৮. শোষক
জন্ম অথবা জ্বর
দুটোই সাংবিধানিক
শরীর পুড়লে চাহিদা সমতল হয়
তথাপি তোমার সামনে গেলে
ভূস্বামী হয়ে উঠি…
৯. পরিপাক
হাঁড়ির তলার কালি যতটা পুরু
ততটা মেঘলা মায়ের গায়ের রং
সুতো কাটা ঘুড়ি হয়ে যা উড়ে যায়
তা অংশত উপহাসের নাম
পৈতৃক ভিটা এখন মোহহীন
দুটি চড়ুই আসে যায়, ঠোঁটে সন্ন্যাসযোগ…
১০. সাময়িকী
আমার শহরে বরফ জমলে
অষ্টাদশী ভূখণ্ড ভিজে যায়
অগোছালো তরুণী অক্ষর
টিশার্ট খোলা ছাপোষা প্রেম
আমি অনুপ্রবেশকারী পাখি
ঠোঁটে রাষ্ট্র ধরি আর চোখে সহবাস…
CATEGORIES কবিতা

