জলকামানের মুখোমুখি শুভবুদ্ধি : <br /> মণিশংকর বিশ্বাস

জলকামানের মুখোমুখি শুভবুদ্ধি :
মণিশংকর বিশ্বাস

নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদিকে ধন্যবাদ। তিনিই ভাঙলেন অচলায়তন। কে ভাবতে পেরেছিল? আমার পূর্বপুরুষরা চাষি ছিলেন। পূর্ববঙ্গের চাষি পরিবার। এপার বাংলায় চলে আসবার পরও আমার জ্যেষ্ঠতাতকে মাথায় টুকরি পরে নিয়মিত লাঙল নিয়ে জমিতে (ওঁর ভাষায় ‘নিচুডাঙা’) যেতে দেখেছি। অল্প বয়সে রুশ সাহিত্যের বিভিন্ন অনুবাদ পড়বার সূত্রে ‘সম্ভ্রান্ত চাষি’ শব্দ-বন্ধের সঙ্গে আমাদের অনেকের পরিচয় ছিল। না আমার পূর্বপুরুষেরা ‘সম্ভ্রান্ত চাষি’ ছিলেন না। আমার জ্যাঠা যখন মারা যান, তখন যে সামান্য জমিটুকু আমার জ্যাঠতুতো ভাইরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন, তা দিয়ে চাষবাস করে ‘সম্ভ্রান্ত চাষি’ পরিবারের তকমা তো দূর-অস্ত, ঠিকঠাক পাঁচজন মানুষের সংসার চালানোও সম্ভব না। তবে কী এই চাষির ডিএনএ-এর অহংকারই একমাত্র কারণ এই লেখার? না, আসলে তার চেয়ে বড় কথা, বর্তমান ভারতে যা ঘটছে তার গুরুত্ব অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী। স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে এই প্রথম কৃষকবিদ্রোহ, আর তার অন্তরালে গণজাগরণ। একপ্রকার। নব্য ‘ভক্ত’দের কাছে ভাতের চেয়ে রাম বড়। অথচ বহুকাল ধরেই বাংলা ভাষায় ‘রাম-পাঠা’ বলে একটি শব্দ প্রচলিত আছে।

এখন দেখা যাক কী কারণে এই বিদ্রোহ। ভারতের ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের ইকোনমির কৃষিক্ষেত্রের অবদান মাত্র ১৫ শতাংশ। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, এই কৃষিক্ষেত্রটিই প্রায় অর্ধশত কোটি মানুষকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। অবাক হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয় যে বিপুল সংখ্যক কৃষকের আয় ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। ২০১৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে, ভারতের অর্ধেকেরও বেশি রাজ্যে একটি কৃষক পরিবারের গড় বার্ষিক আয় ছিল ২০,০০০ টাকা (২৭১ ডলার)। এর থেকেও মারাত্মক পরিসংখ্যান হল, এদেশে প্রতিদিন ৩৬ জন কৃষক ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করে। বাস্তবটা নিশ্চিতভাবেই আরও মারাত্মক। শেষ দু-দশকে চার লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছে। এর পরে যদি কৃষকরা বাজারকে বিশ্বাস না করেন, সেই দোষ কৃষকের নয় কিছুতেই। যদিও নরেন্দ্র মোদীর সরকার জোর দিয়ে বলেছেন যে এই কৃষি-বিল সংস্কারগুলি কৃষকদের জন্য, কৃষকরাই লাভবান হবে। সরকার বলছে যে তারা কৃষকদের পণ্য বাজারজাত করতে সাহায্য করবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনও বাড়বে। কৃষকরা বলছেন যে এই ‘ভালো’ তাঁরা চাননি। সবচেয়ে বড় কথা, যাদের ‘ভালো’র জন্য বিল, তাদের সাথে কখনও পরামর্শ করা হয়নি।

একটা কথা আমাদের সবাইকেই স্বীকার করে নিতে হবে, কৃষকদের এই দুরবস্থা আজকের নয়। মোদীর আগে থেকেই, আমাদের পিতৃপুরুষেরা ধারাবাহিক অব্যবস্থা ও নির্যাতনের শিকার। পৃথিবীর কোন সভ্য দেশেই কৃষকদের এইরকম দুরবস্থা ভাবা যায় না। বহুদিন ধরেই ভারতে কৃষিক্ষেত্রের সংস্কার করা একটি চূড়ান্ত জটিল কিন্তু অবশ্য করণীয় টাস্ক। একদিকে, জনসংখ্যার একটি বড় অংশ চাষবাসের উপর নির্ভরশীল, আবার এর মধ্যে একটা বড় অংশ, ভাগচাষী এবং ভূমিহীন বা জন-দেওয়া চাষি। সরকারের সংস্কারের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল, প্রতিটি চাষির একটা উপযুক্ত আয় সুনিশ্চিত করা। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে অন্য আরেকটি দিক হল, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং পরিবেশের উপর কৃষিকাজের যাতে বিরূপ প্রভাব না-পড়ে সে বিষয়ে সতর্কতা ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা। একটা উদাহরণ দিই। পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে কৃষকরা প্রচুর পরিমাণে ভূগর্ভস্থ জল দ্রুত কমিয়ে দেয়, এমন সব খাদ্য শস্য, যেমন গম, ধান এবং আখ চাষ করে। চাষিদের প্রচুর পরিমাণে এইসব ফসল উৎপাদন করার একটা কারণ হল, সরকার এইসব চাষে ভর্তুকি দেয়। ফলত এইসব ফসলে কৃষকের মজুদ গোলা শুধু উপচে পড়ছে তা নয়, ভূগর্ভস্থ জলও এইসব অঞ্চলগুলিতে শেষ হয়ে আসছে বিপজ্জনক ভাবে এবং পরিবেশের উপর যার প্রভাব পড়ছে মারাত্মক। এসব নিয়েও সরকারকে মাথা-ঘামাতে হবে, সমাধান সূত্র খুঁজে পেতে হবে।
আগেই বলেছি, ভারতের অর্ধেকের বেশি কর্মজীবী মানুষ, কৃষক বা কৃষিজীবী, কিন্তু যেহেতু কৃষিক্ষেত্রে এই টালমাটাল অবস্থা আবার অন্যদিকে কৃষিক্ষেত্রের বাইরেও কাজ নেই, মানুষের দুরবস্থা চরমে পৌঁছেছে। শস্যখেতগুলি থেকে সবজিমান্ডিগুলি বহুদিন ধরেই ভরে উঠেছে শিশুদের খিদে আর কীটনাশকের গন্ধে। গত মার্চে মোদি সরকার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধ করতে যখন চার ঘণ্টার নোটিশে লকডাউন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন, তখন কয়েক মিলিয়ন বেকার শ্রমিক শহর থেকে বেরিয়ে এসে আবার ক্ষেতি-বাড়ির কাজে ফিরে এসেছিল। স্বল্প উৎপাদনশীলতা সত্ত্বেও, অনেক ভারতীয়ের জন্য জমিই হল শেষ আশ্রয়, অবলম্বন। দীর্ঘদিনের গভীর বৈষম্য ও সামন্ততন্ত্র, তদুপরি স্বাধীনতার পরও সরকারের সদর্থক অর্থনৈতিক প্রচেষ্টার অভাবে আমাদের কৃষি-অর্থনীতি আগেই ভেঙ্গে পড়েছিল। তাই কৃষিব্যবস্থায় আমূল সংস্কার তো প্রয়োজন ছিলই কিন্তু সরকার ঠিক উল্টোদিকে হাঁটল। হায়েনা-ফড়েদের নির্মূল করতে গিয়ে অসহায় কৃষকদেরকে কর্পোরেট শ্বাপদের দিকে ঠেলে দিয়ে সরকার দাবি করছে, এই হিংস্র শ্বাপদরাই বাজারকে বলিয়ান বা তেজি করে তুলবে। যারা এই আইন-সংস্কারের কিছুই বোঝেননি, তারাও অন্তত এ টুকু বুঝবেন, এতদিন চাল-গম-ডাল-তেল-পেঁয়াজ-আলু এসব যে একটা নির্ধারিত পরিমাণের বেশি মজুত করা যেত না, করলে সেটা কালোবাজারি বলে গণ্য হত এবং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ত, এখন থেকে তেমন কোনো আর বাধ্যবাধকতা থাকল না, যত ইচ্ছে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য মজুত করা যাবে [The Essential Commodities (Amendment) Bill, 2020]
অর্থাৎ জনগণ মুখের অন্ন, কর্পোরেট বাজার বিনা বাধায় মজুত করতে পারবে। সোজা কথায় মনোপলিতে বাধা দেবার আর কোনো উপায় থাকল না। সরকার অবশ্য বলেছে এক্সট্রিম সিচুয়েশানে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারবে, আইনে সে প্রভিশন আছে। মোদি বলছেন তার উদ্দেশ্য “গঙ্গা জলের মতো সাফসুতরা”। কিন্তু প্রত্যেকেই এই সাদা-জলে আম্বানি, আদানির কাদা মিশবার আশঙ্কা করছেন! মোদ্দা কথা, সরকারের কথা চাষিরা আর বিশ্বাস করে না। এতদিন পর্যন্ত বাজার সুনিয়ন্ত্রিত ছিল, “ফসলের সুষম বণ্টন” হয়েছে তা একবারও বলছি না। ইনফ্যাক্ট, দেশে ৬ হাজার ৯০০ টি মান্ডি, বেঁধে দেওয়া এম এস পি স্বত্বেও ফসলের দাম না পাওয়ার অভিযোগ ছিল বিস্তর। কিন্তু এতদিন লড়াইটা ছিল স্থানীয় ফড়ে- আড়তদারদের সাথে ছোট জোতের কৃষকের। এবং তাতেই ডাহা ফেল করেছে কৃষকরা, আমাদের পিতৃপুরুষেরা। তবু বেশির ভাগ চাষিই যে দুবেলা দু মুঠো খেতে পেয়েছেন তার জন্য কিছুটা হলেও সরকারের বেধে দেওয়া দামে (এমএসপি) খাদ্যশস্য বিক্রির একটা ছোট করে হলেও ভূমিকা থেকে গেছে। নয়া-কৃষি-বিলে সরকার এবার লড়াইটা ঢাল-তলোয়ারহীন কৃষকদের, বহুজাতিক সাথে লড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।
টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সের (টিআইআইএস) অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ আর রামকুমার সম্প্রতি হাফিংটন পোস্ট ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে এককথায় বলতে গেলে এই তিনটে কৃষি রিফর্ম বিলের তাৎপর্য হল ‘Throw The Baby Out With The Bathwater,’ – জন্মজল ফেলতে গিয়ে শিশুটিকেও ছুঁড়ে দেওয়া।
অধ্যাপক রামকুমারের মতে “এপিএমসি এবং মন্ডি-সিস্টেমের দুর্বলতার সংস্কার প্রয়োজন, ওসব প্রাইভেট সেক্টরকে প্রশ্রয় দেয়া আইন নয়।…এখানে আরেকটা সংশয় হ’ল, এই সংস্কারের ফলে বেসরকারি বাজারগুলি সত্যিই বাজার ধরতে উঠে আসবে কিনা। বিহার, কেরল বা মহারাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা, এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট আশাবাদ জাগায় না এবং পুরনো আইন বিহার কেরালার বা মহারাষ্ট্রে লাগু না থাকায়, কৃষিতে দেশি বিদেশি পুঁজি-নিবেশ এবং আধুনিকীকরণের বন্যাও বয়ে যায়নি।”
কৃষি অর্থনীতিবিদ এবং খাদ্য ও বাণিজ্যনীতি বিশ্লেষক দেভিন্দার শর্মা সম্প্রতি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলছেন – “এই কৃষির খোলাবাজারের মডেলটি নতুন কিছু নয় বরং ইউরোপ আমেরিকায় অনেক আগে থেকেই পরীক্ষিত একটি ব্যর্থ মডেল। এর ফলে ওসব অনেক দেশেই কৃষকদের আমদানি বছরের পর বছর সমানে কমে গেছে, এমনকি কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে।” এখান থেকেই সহজেই অনুমেয়, প্রথম বিশ্বে, যেখানে একর প্রতি উৎপাদন, ভারতের কয়েকগুণ বেশি সেখানে যদি এমনটা ঘটতে পারে, ভারতের মতো একটা দেশ, যেখানে কৃষিক্ষেত্রে বৈষম্য প্রকট, সরকারের প্রত্যক্ষ অনুপস্থিতি কী ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে!
দেভিন্দার শর্মা আরও বলছেন যে “নির্ধারিত পাইকারি বাজারকে দূরে সরিয়ে না দেওয়ার পরিবর্তে দেশের প্রত্যেকটি কোণে কোণে সরকারের তত্ত্বাবধানে বরং আরও এরকম বাজার হওয়া উচিৎ। গ্যারান্টিযুক্ত সহায়ক মূল্য কৃষকদের জন্য একটি আইনগত অধিকার হওয়া উচিত এবং এই আওতায় আরও অনেক বেশি ফসলের আসা উচিত।” অথচ হল তার ঠিক উলটো।
শেষ করব বাংলার চাষি-বন্ধুদের কথা দিয়ে। অনেকেই ভাবছেন, এই যে দেশ এখন একটা ক্রান্তিলগ্নে পৌঁছেছে, এই সময় আমাদের বাংলা চাষিরা কী করছে? আসুন একজন সত্যিকারের কৃষকের মুখ থেকেই শোনা যাক ‘তাহাদের কথা’: “বাংলার চাষিরা এখন ভীষণ ব্যস্ত। পুরোদমে চলছে ধানকাটার মরশুম। আমনধান বাংলার প্রধান ফসল। জঙ্গলমহল সহ বিস্তীর্ণ এলাকা আজো বৃষ্টি নির্ভর চাষ। কেন বলুন তো? জানেন সব, তবে ঐ বারান্দা থেকে নামবেন না। এই অংশের চাষিরা সবচেয়ে কম আর্থিক সম্পন্ন। সোজাসুজি বলা যায় এই অংশের চাষিরা কোনরকম খেয়ে পরে বাঁচে।
তারপর জঙ্গলমহলে আছে হাতির উপদ্রব।তাড়াতাড়ি ফসল না তুলতে পারলে সারা বছর সপরিবারে পথে বসতে হবে।
এরপর সেচ এলাকাতে তাড়াতাড়ি ধান তুলে আলু বসানো, সরষে,গম নানা সবজির জন্য মাটি তৈরি করা বীজ বোনা সে এক চরম ব্যস্ততা। চাষির খাওয়ার সময় নেই।
এখন তাদের পক্ষে দিল্লী বহুত দূর। অন্যকিছু নিয়ে ভাবার সময় তাদের নেই এটাই চরম সত্য।
পঃবঙ্গে বর্তমানে কারোই ১৫/২০ বিঘার চাষের জমি নেই। বেশীর ভাগ প্রায় ৫/৭ বিঘা বা তারও কম জমি চাষ করে। বামেদের ভূমি সংস্কারের ফলে ছোট ও প্রান্তিক চাষির সংখ্যা বেশী। তাদের পক্ষে বর্তমান সংকটকালে দিল্লী যাওয়ার মতো আর্থিক ক্ষমতা কজনের আছে।”(তপন কুমার মাহাতো, চাষি, জঙ্গলমহল)

তো প্রথমে যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। তাৎপর্য। হ্যাঁ স্বাধীন ভারতে এই প্রথম এমন এক যুদ্ধ, এমন এক বিদ্রোহ, এমন এক প্রতিবাদ যা ধর্ম বা রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত নয়, মোটিভেটেড নয়।
দীর্ঘদিনের গভীর বৈষম্য, সামন্ততন্ত্র, ঔপনিবেশিক শোষণ, স্বাধীনতার পরও সদর্থক অর্থনৈতিক প্রচেষ্টার অভাবে আমাদের কৃষি অর্থনীতি যখন সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে, সিস্টেম যখন সম্পূর্ণভাবে কৃষক আর কৃষিশ্রমিকের বিপক্ষে চলে গেছে, তখন এই গণপ্রতিবাদ, এই প্রতিরোধ ভারতীয় জনমানসকে অভূতপূর্ব এক সন্ধিক্ষণে এনে দাঁড় করিয়েছে। শুধু ভারতবর্ষ কেন, মানবসভ্যতার আকার ও প্রাকার সম্পূর্ণই কৃষক নির্মিত। যেভাবে সূর্যই পৃথিবীর সকল শক্তির উৎস, ঠিক তেমনি মানব সভ্যতা যেহেতু খাদ্যের প্রয়োজনে কৃষকের কাছেই হাত পাততে বাধ্য, তাই যত শিল্প-কৃষ্টি-সংস্কৃতি, এমনকি অন্য শিল্প-বিপ্লবও কৃষকেরই অবদান। আর ঐতিহাসিকভাবে সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুজলা সুফলা অঞ্চল হল গাঙ্গেয় উপত্যকা, তাই আদিম যুগ থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষরা ভূমিপূজা করে আসছে, মাটিকে মা বলে ডেকেছে। আমরা যারা তেভাগা-তেলেঙ্গানা-খাদ্য আন্দোলন প্রত্যক্ষ করিনি তাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছে কৃষকদের সমর্থন করে সেই মা-কে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম জানাবার। স্বভাবতই জনবিরোধী ও কর্পোরেট দালাল সরকার কৃষকদের সঙ্গে একসময়কার ঔপনিবেশিক প্রভুদের মতো আচরণ করছে। কিন্তু প্রবল ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে জলকামানের মুখোমুখি আজ আমাদের শুভবুদ্ধি। এটাও তো এর আগে কখনো ঘটেনি। সাম্প্রতিক কালে তাই এর থেকে আশাব্যঞ্জক আর কিছু আমার জানা নেই। ধন্যবাদ নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি।

CATEGORIES
TAGS
Share This

COMMENTS

Wordpress (2)
  • comment-avatar
    Soma 6 months

    আসলে সমস্ত বিদ্রোহেরও বোধহয় একটা আলাদা নবজাগরণের যুগ থাকে। তার অপেক্ষা চলে আবহমান কাল ধরে। লেখাটি ভালো লাগলো

  • comment-avatar
    Anup Sengupta 6 months

    ঠিকই, এই কৃষক আন্দোলন প্রকৃতপক্ষে গণজাগরণ। এই লেখা আন্দোলনের প্রকৃত প্রেক্ষাপটটি উন্মোচন করেছে।