
ঈশিতা ভাদুড়ী-র কবিতাগুচ্ছ
অন্ধকারে আরও
ছিল যা অন্ধকার, তার চেয়েও বেশি
অন্ধকারে ঢুকে পড়ছি আমরা
প্রতিদিন প্রত্যহ।
কোনও গুপ্ত সাংকেতিক ইশারাতে
বা প্রবল স্লোগানেও
আমরা পারিনি তমসা ভেঙে
আলো নিয়ে আসতে।
আমরা পারিনি অন্ধকার সাঁতরে
কোনও আলোকিত তরঙ্গ এনে দিতে।
আমরা আলোর বদলে
অন্ধকারে ঢুকে যাচ্ছি আরও।
প্রতিদিন প্রত্যহ।
মানুষের অন্ধ-গলি
বৃষ্টিশেষে বাঁকা সেপ্টিপিনের মাথায়
যখন চড়ুই বসে পড়ে কোনও
অথবা শালিক একটি,
ঠিক তখনই বুঝে নিতে হয়
মানুষের অন্ধ-গলি
দেখে নিতে নেই কোনও,
অথবা পড়ে থাকা বাসি ফুল
কখনও।
বা, দেখে ফেললেও সেসব
ছড়াতে নেই রাস্তায় কোনোদিন।
সাদা কুয়াশায়, ধূসর পথে
কিছু কিছু বোধ ও দৃশ্য
তুলে রাখতে হয় লকারে নিজস্ব।
সরে যাওয়া মানে
সরে যাওয়া কাকে বলে জানো?
সমুদ্রের ঢেউগুলো যেমন কাছে এসে চলে যায়,
চলে যায় মানে মিশে যায় বালিতে জলে,
যেমন যেখান থেকে আসে ফেরে না আর সেখানে,
সেইরকম।
সরে যাওয়া মানে দূরে অন্য কোথাও
ভেসে যাওয়া, মুছে যাওয়া একেবারে।
সরে যাওয়া কাকে বলে জানো?
যেমন ঘন কুয়াশার মধ্যে ভোরবেলার মাঠ লুকিয়ে পড়ে,
লুকিয়ে পড়ে মানে কোনও চোরাবালিতে ডুবে যায় যেন,
যেমন হারিয়ে যায় কিনারে কিনারে, দেখা যায় না আর,
সেইরকম।
সরে যাওয়া মানে কোনও গোলোকধাঁধাঁয়
ঢুকে যাওয়া, চিহ্ন নেই কোনও।
সরে যাওয়া কাকে বলে জানো?
যেমন রাতের স্তব্ধতায় মিলিয়ে যায় কিছু মানুষ,
মিলিয়ে যায় মানে কোনও গহ্বরে অদৃশ্য হয়ে যায় যেন,
যেমন বুদবুদ হয়ে উবে যায় পুরোপুরি, ফেরে না আর কখনও,
সেইরকম।
সরে যাওয়া মানে মহাশূন্যে কোথাও
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া, মুছে যাওয়া একেবারে।

