
রাধাবল্লভ চক্রবর্তীর কবিতা
গণকৌতুক
বাড়িয়ে দেওয়া ঐ দু’হাতে তোমার কিছু নেই
কিন্তু যে-হাত তারও নিচে আজও খেলা
ক’রে যায়, তাতে অজ্ঞাত ভাপ, রয়েছে অজানা
কত কী — কখনও খুঁজিনি আমি, এবং দেখিনি —
ফলত বুঝিনি আমি; অথচ প্রশ্ন করেছি:
‘কে এসেছিল আগে? আমায় জানাও —
কে বয়ে এনেছিল মানুষের ভিড়ে এত বেহিসেবি
প্রেত?’ — এখানে প্রতিটি পূর্ণতা অর্থ রাখে;
এখানে প্রতিটি শূন্যতা যেন আরও বেশি কিছু
দিয়ে যেতে চায়… আমারই ভেতর আমি বাঁচি;
আমারই ভেতর এত মরে যাই যে, ভুলেছি
নিজের দেশ, গণকৌতুক আর শস্য ফলনের ক্ষেত —
ভুলে ভুলে যাই আমি… ক্রমে ভুলে যাই:
কে পুড়েছিল এত, মানুষ নাকি তার অসঙ্গতির ক্ষত, প্রেত…
ঈশ্বর
সম্বল নিয়ে, তুমি, কাঁটা-ছড়ানো পথ পেরিয়ে
চলে যাচ্ছ দূরে — এটুকুই শেষতম দৃশ্য
হ’তে পারত, যদি-না, পুনর্বাসনও এত জরুরি
ও দামি হয়ে উঠত এই জীবনে — এখানে
রক্ত দেখে মাদকের স্মৃতি ভেসে ওঠে;
এখানে, গণিকাগৃহে, ট্র্যাজেডি ও রক্তবমি শুরু হয় —
এইসব ইমেজারি যেন এর চেয়ে আর সহজ
হ’ত না — এইসব ইমেজারি নদীর পাথর-জল
সমান-সমান ক’রে দিতে পারে আজও! আমার
অশ্রুজলে কে যেন নৌকা ভাসায় — কে যেন
নৌকাডুবি হবে বলে, আজও ঠিক কাউকেই
ভালবাসেনি… নিজের কাছেই নিজে অচেনা হয়ে
পড়ছি কি তবে? আয়নায় নিজেরই মুখ দেখে
ঘোর লাগে, প্রশ্ন করি: ‘এই ভেসে ওঠা
মুখ আমি কি আগে থেকে চিনি?’
যাকে মুহূর্ত আগেও জন্ম দিলাম আমি, তাকে
কেন এখন মনে হয় আমার ঈশ্বর, গর্ভধারিণী?
দেবী
এই কি মুহূর্ত সেই? যখন গরাদ ভাঙা হয় —
এই কি মুহূর্ত সেই? যখন বাসরঘরে কালসাপ
ঢোকে — এসব প্রশ্ন আমি কাকে করি,
কাকে না-ই করি? তুমি তো সাপের দেবী,
এই ছল, তোমার অজানা কি? এখানে
পথ খুঁড়ে পাতাল টেনে এনেছ, এখানে মান্দাস
একা ভেসে যায় জলে পুরাণের দেশে —
প্রতিকার জানা নেই; বিশল্যকরণী পুড়ে ছাই!
বুঝিনি, আলিঙ্গনে এত দাবানল, এত সর্বনেশে
চোরাটান! কেবল ঘুম পায় মৃত্যুর আগে
হাতে কাজ নেই বা কাজে হাত ছোঁয়াতে
পারি না। দীর্ঘ যাত্রাপথ — আমাদের একা যেতে হবে —
সঙ্গে নিচ্ছি তাই, অনাহার, অপরাধ, ঘৃণা!
হয়তো মুহূর্ত এ-ই, যখন উভয়ই তুমি:
সাপ আর সাপের দেবী — আমার অভাবে আজও
বরদা হয়েছ; গোপনে সুর দিয়ে কীভাবে আড়ালে
সরে যাও! আমাকেই দংশনে মেরে দিলে যদি,
তুমিও তো তাহলে বিরহে মরেটরে যাও…

