
চারটি অপ্রকাশিত কবিতা প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী
সতর্ক
বালিতে কাঁকড়া হাঁটে ঘুরে ঘুরে, সমুদ্র পাড়ে।
হাওয়া দেয়, বৃষ্টি নামে। সারি সারি কাঁকড়ার ঝাঁক
তখনও বেরিয়ে পড়ে..
এদিকে ওদিকে আসে যায়
শুধু যে মুহূর্তে কোনও মানুষের পদচারণায়
সামান্য কম্পন হয়, বালুকণাতটে
তাতেই সতর্ক হয়ে ছুটে ছুটে ঢুকে পড়ে নিজের ডেরায়
আমিও তেমন করে ঘুরে ঘুরে জলে ও বালিতে
নেচেছি আমোদে কত, বৃষ্টি এলে, আষাঢ়ে, শ্রাবণে
তোমার ফেরার শব্দে ভয়ার্ত ছুটে প্রাণপণে
পড়েছি লুকিয়ে দ্যাখো এই
পৃথিবীর কোনও প্রেমে আর সে শক্তি নেই
আমাকে ফেরায়!
অনুতাপ
বেশ তো ছেড়েছিলাম, যেদিন প্রথম বুঝি, তার অভিপ্রায়
তারপর দিন যায়। সময় গড়ায়
বিরহের জল তুলে সমুদ্র বিছানো হলো..
হঠাৎ একদিন,
সে তার সমস্ত ভুল নিয়ে এসে রেখে দিল, পায়ের তলায়
আমিও বেআক্কেলে!তখুনি মঞ্জুর করে মোমের মতন বসি, আমাকে গলায়
সামান্য উত্তাপে তার। অসামান্য বাক্যের খেলায়…
পার্বণ
এভাবেই দিন কেটে যাবে? সেই চৈত্রে এসেছিলে তুমি
এরপর কেটে গেল শ্রাবণে শ্রাবণে কত কাল!
কার্তিক মাসের মাঠে, সকলের ঘরে ঘরে চাল
নবান্নে তুলে দেয়, অন্নপূর্ণা, বালক উল্লাসে
মেতে ওঠে রোদ মেখে ফুটে ওঠে আমনের ধান
পিঠে বা পুলির সাজ গড়নের মাঝে মনে পড়ে
সেই যে চৈত্র গেল। রবি শস্য, বোরো ধান কাটা
দুপুরে ঝড়ের মুখে এসেছিলে, চৈত্রের মাস
উৎসবের দিনে আজ, কার্তিকের নবান্ন রন্ধনে
বিরহ বিষাদ বুক কেঁপে ওঠে কেঁপে কেঁপে ওঠে,
বছরের যেকোনো পার্বণে..
সাড়া
বিষাদ কে আহ্বান আমিই করেছি কোনোকালে
এখন বিষাদ যদি
রাত্রি হলে নিঝঝুম শয্যায় আরাম করে বসে
ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ে আমার বালিশে মাথা রেখে
আবার সূর্যোদয় আবারও নতুন কোনও ভোরে
জেগে উঠে চুপচাপ, চায়ের পাতার সঙ্গে মেশে
আর সারাদিনমান নাছোড় লতানে গাছ হয়ে
আমার পায়ের থেকে ধীরে ধীরে সমগ্র শরীরে
চারিয়ে চারিয়ে ওঠে, আমার পরম হয়ে থাকে
তার কোনও দোষ নেই।
কত শত কাজ ছিল তার –
আমারই কাতর ডাকে কোনোকালে সাড়া দিলো,
এখন রাস্তা নেই তারও তো ফেরার…


কী অপূর্ব! চারটি কবিতাই ভীষণ ভালো লাগলো।
কী অপূর্ব সব লেখা!