
ঋজুরেখ চক্রবর্তী-র কবিতাগুচ্ছ
প্রত্ননির্মাণ’ সিরিজ থেকে তিনটি কবিতা
হীনযান
জামবাটি উল্টে দিয়ে যে বালক ছুট দিল ফুটবল মাঠে,
কিশোরবেলায় তার ক্রিকেটের সরঞ্জাম ডিকিবন্দি করে
একটি বিদেশি গাড়ি সেই কবে মহাশূন্যে মিলিয়ে গিয়েছে!
কাল এক মহাযান, বৃহৎ বাহন, যার এন্জিন নম্বর আর তুমি
ক্রমাগত স্থান পাল্টাপাল্টি করে নিতে নিতে তুমি আজ একা।
একা সেও, সেই যার বুকে গোঁজা রোদচশমার কাচে তুমি
ক্যালিডোস্কোপের মায়া দেখেছিলে পুনর্বার বাঁচিবার সাধে।
তারও যে কিশোরী ক্ষুধা ছিল, তুমি অক্লেশে মেনেছ।
নিজেকে অরূপ করে তোলা তবু, মহাথের, আজও বাকি আছে?
ইস্তাহার
ভালোবাসা মরে গেলে শিকড়ে জরার দাগ ধরে যায়, যেন
কোনও বনস্পতি তার মুখাপেক্ষী স্মৃতিগুচ্ছ নিজে
একা একা অস্বীকার করেনি, আবার ঠিক মেনেও নেয়নি।
হরধনু ভাঙা হলে পর এক এমনই বাসররাত রচা হয়েছিল।
যে ক্ষুধা অরণ্যে, তার তিলমাত্র সংক্রমণ পুরুষশরীরে
ঘটে যদি থেকে থাকে, ক্ষমা কোরো হে প্রজারঞ্জক।
সন্তানের মুখ ধরে চুমো খেতে চান যদি বিদায়সম্মত মহারাজ,
আমি তাঁর কণামাত্র পেলে, জেনো, নিরঞ্জন পায়সান্নে তাঁকে
কাঙালের মতো এনে বসাব অরূপ এই শিকড় সমীপে, চুপিচুপি
বলে যাব এই ক্ষতচিহ্নগুলি জন্মদাগ ছাড়া কিছু ছিল না বস্তুত।
নির্মোক
অরণ্যে একাকী ফেলে রেখে চলে যাব না কোথাও─
হয়তো স্মরণে আছে, সেই যে ললাটে তুমি আরজন্মে কোনও
বল্কলের টিপ পরে নিতে নিতে এই পাপ দীর্ঘজীবী হোক
বলেছিলে আর ঠিক পরের মুহূর্তে বৃষ্টি নেমেছিল মনোগত লয়ে।
এ ভূমি কর্ষিত মাটি, এই সুর দেবতার আজ্ঞা-অনুসারী।
এও তো তোমারই প্রমা, আমি তো নিমিত্তমাত্র, বলো!
প্রেরণা তোমাকে বলি, অভিশাপ তাও তো তোমারই!
আমি যদি পরজন্মে বনস্পতি হয়ে আসি, তোমাকে না চিনি,
তুমি কি আবারও সেই বল্কলের টিপ পরে পাপ চেনাবে না?

