রিনি গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প

রিনি গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প

উন্‌সি 

অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছে সন্তোষ টোল্‌নাটাকে। টোল্‌নাটা মাকুন্দা। গালে দাড়ি গোঁফ তেমন নেই। হাতপাগুলো লাউডগার মতো কচি। ল্যাকপ্যাক করছে যেন! টোল্‌নাটা বাজারে ফুল বেচে। সবার সঙ্গে খুব কথা বলে। কাকি মাসি চাচি পিসি… আদিখ্যেতার শেষ নেই। গলাটা কোকিলের ফাটা আওয়াজের মতো। টোল্‌নিদের মতো যেন! আদত শালা! সন্তোষ বাজার করতে এসে টোল্‌নাটাকে দেখছে আজ ক’দিন ধরে। কম্‌লিকে একবার বলেছে টোলনাটার কথা। খোঁজখবর যদি কিছু পায়! সন্তোষ যতদূর জেনেছে বেওবা সুড্ডি ছাড়া আর কেউ নেই। তেমন বন্ধুবান্ধব আছে বলেও তো মনে হয় না। মালটাকে তোলা খুব কঠিন হবে বলে মনে হয়না! দেখা যাক কম্‌লি কি খবর আনে!

দুপুরে টাক্‌নী সেরে সন্তোষ বেরিয়ে পড়ল। ঠেকে যেতে হবে। রাতে আজ ছিন্নি আছে। মালটার খুব টোলনি হওয়ার শখ। আজ লোফা চালিয়ে দিতে হবে। কম্‌লি ডিঙ্গুরদের ব্যবস্থা করে রেখেছে। এবারে আর অল্পে হয়নি। সব সে বড় কাগজ লেগেছে। বউচরা মা সঙ্গে থাকলে বিপদকে কে ডরায়! তবু সাবধানের মার নেই! কম্‌লি থাকলে অবশ্য চিন্তা নেই। কনস্টেবল চন্দনের সঙ্গে এমন চুদুরবুদুর করেছে  যে চন্দন হাবুডুবু খায় আর খোলুয়া খায়।

আর এদিকে আকুয়া বাঁড়া! এগারো দিন ধরে খোলুয়া খেয়ে, বড়ি খেয়েও ছটফটানির শেষ নেই! এবড়োখেবড়ো হয়ে গেল খানিক! এমনিতে সন্তোষ থুড়ি ববি মাসি ছিন্নি করতে ওস্তাদ! এ শালা ছটফট করে দিল মাটি করে! নে এবার দুদিন মাটি লেপে শুয়ে থাক শালা! এবার যত্ন করো রে, ভালো ভালো খাওয়াও রে! এ দিকে শখ ষোলো আনা! এ দিকে মুরোদ নেই! শালা খানকি! ভাগ্যিস অনধেরা ছিল! বউচরা মা না থাকলে মরে টরে গেলে আবার এক ঝক্কি সামলাতে হতো! এখনো দেখো বাঁচে কি না! আরে বাবা! কাজ বাজ নেই! সেজেগুজে ঘুরঘুর করছিস আর খেতে পরতে পাচ্ছিস! এই তো ঢের! আবার ছিন্নি করার শখ! এই তো সন্তোষকেই দেখনা! থুড়ি ববি মাসি! বারবার ভুল হয়ে যায়! দুটো চরিত্তির বজায় রাখতে হয় কি না!

তখন ষোলো কি সতেরো! বিউটিকে ভালো লাগত সন্তোষের। বিউটিও এদিক ওদিক যেতে আড়চোখে চাইত। মুখ টিপে হাসত। দেখতে দেখতে বাঁড়াটা শালা টনটন করে উঠত। একদিন এলাকায় লোডশেডিং। গলির কোণে বিউটিকে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরেছিল সন্তোষ! সেই শুরু! বিউটির বাবা জুটমিলে চাকরি করত। মেয়েকে তিনি পণ্ডিত বানাবেন। নেখাপড়া করাবেন! কি আর করা! একদিন রাতে বিউটিকে নিয়ে পালালো সন্তোষ। কালীঘাটে বিয়ে ফিয়ে করে একেবারে একমাসের বাচ্চা কোলে এলাকায় ফিরল। এই একবছর সন্তোষ ইঁট খোলায় কাজ করেছে। বেড়ে কাজ রে শালা! খাটতে খাটতে জান কয়লা হয়ে গেছে! ওদিকে বিউটির এটা চাই ওটা চাই! ওষুধ ডাক্তার! আর একগাদা খাবার! ফল খাও রে। ভাত খাও রে! আরে বাবা! এতো জোগান কে দেয়! আর না দিলেই ভুড়ো পেট নিয়ে বিউটির সে কি তরপানি! আমাকে তবে এনেছিলে কেন! বাপের ঘরে একবেলা হলেও খেয়ে পরে ছিলাম! শালী! রাগের চোটে দু একদিন চড় কষিয়ে দিয়েছিল সন্তোষ! শালীর যত বড়ো মুখ নয় ততবড়ো কথা! বিয়ে করেছি, বাচ্চা দিয়েছি! এই বলে কতো! তা না শালী ফল খাবে! ফল! ধাম্‌রি শালী!

এই যখন অবস্থা তখন কিভাবে যেন যোগাযোগ হয়েছিল কম্‌লির সঙ্গে। ও দিকে বিউটি শালী ঘরে তরপাচ্ছে! এ দিকে কম্‌লি শালী বাঁড়া নিয়ে… কম্‌লিই বুদ্ধিটা দেয়। বেশি কিছু তো করতে হবে না। একটু কম্‌তিদের  মতো রঙঢঙ করবি! হাতে তালি দিবি! জেনানা বুঝিস? জেনানা রে! পয়সা দেখবি কেমন! কম্‌লির কথাতেই একমাসের বাচ্চা কোলে এলাকায় ফিরেছিল সন্তোষ। আর তারপরই শুরু হয়েছিল বড়কা চরকি করে যাওয়া আসা! কম্‌লিদের ঠেকটা সন্তোষদের এলাকা থেকে অনেক দূরে। তখন মিনতি মাসি দলের পাণ্ডা! যাকে বলে গুরু মা! যেমন রাগি তেমন শয়তান। ছিবড়ি শালী! ইচ্ছু  টানত আর সরু চোখে দেখত। তবে প্রথমেই সন্তোষ ওকে চটাতে চায়নি! কয়েকবছর লেগেছিল দলের সঙ্গে। এদের চাল চলন রপ্ত করেছিল, টোন্‌ছা শিখেছিল। ঢোল বাজিয়েছিল। বলতে কি খিদমতও খেটেছিল। আস্তে আস্তে মিনতি মাসির বিশ্বস্ত হয়ে গোপন মন্তর টন্তর জেনে নিয়েছিল। তারপর একদিন রাতে মিনতি মাসির গলায় লোফা চালিয়ে দিয়েছিল। সবাই ভেবেছিল পুরনো শত্রুতা! তারপর সন্তোষ পুরোপুরি হয়ে উঠেছিল ববি মাসি। দলের ভার নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল। সকলের সুবিধে অসুবিধে শুনেছিল। ডুঙ্গরিদের সামলেছিল। কিন্তু কাউকে ট্যাঁ ফোঁ করতে দেয়নি! জটি চেষ্টা করেছিল দল পাকাতে। এমন কড়কে দিয়েছিল যে আর মুখ খুলতে সাহস পায়নি। ববি মাসি বেশি বকে না। ওই হাঁসের মতো প্যাঁক প্যাঁক করা ববি মাসির স্বভাব নয়। কম খরচে আসল কথা বলে দেয়। শুনলে ভালো! নইলে হলাল্‌  আছে ট্যাঁকে গোঁজা! এমন গায়েব করবে যে স্বয়ং বউচরা মাও লাশ খুঁজে পাবে না! এখন ওই তিন- চার মাসে একবার বাড়ি যায়। বিউটি আরো তিনটে বিইয়েছে। চারটে কে নিয়ে বিউটি ভালোই আছে। মাসে মাসে ঝলকা পাঠায় সন্তোষ। অশান্তি যে একেবারে হয়নি তা নয়! তবে ওসব সন্তোষ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে।

বাজারের এই টোল্‌নাটাকে তুলতে হবে। দলে লোক বাড়াতে হবে। দিনকাল খারাপ! আগে লোকে বিশ্বাস করত! আশীর্বাদ চাইত। পয়সা দিত। এখন শালা সব্বাই চালাক! কি সব যেন গবেষণা টবেষণা হয়েছে! সব্বাই এখন সব কিছু জানে! আগে লোকে ভাবত ববিদের বিশেষ ক্ষমতা-টমতা আছে! এখন ভাবে আমরা খুঁতো। সমাজের বোঝা! বেশিরভাগই মুখ ফিরিয়ে নেয়! তাই লোক না বাড়ালে রোজগারপাতি ভালো হবে না। দল চালিয়ে বাড়িতে ঝলকা পাঠানো ঝক্কির কাজ!

তবে একদিক দিয়ে ভাবলে এসব হওয়া ভালো! যত বেশি বাইরে থেকে খোল্‌পি খাবে তত শালী টোন্‌ছাগুলা দলের ভেতর মুখ গুঁজে থাকতে চাইবে! বউচরা মায়ের পায়ে পড়বে আর ববি মাসির শেল্টার নেবে। এদের বোকা বানিয়ে রাখতে না পারলে দল চলবে কেমন করে!

কম্‌লিই প্রথম ফুল কেনার অছিলায় টোল্‌নাটার সঙ্গে আলাপ জমালো। কি গো ছেলে! ফুল দাও দেখি!

কি ফুল নেবে মাসি?

দাও গো ভালো দেখে! তোমার পছন্দ দেখি কেমন!

ছেলেটা কম্‌লির হাতে লাল গোলাপ ধরিয়ে দিয়েছে।

ও বাবা গো! এ ছেলে বুড়ো কম্‌তিকে লাল গোলাপ দেয় গো! মা গো মা! তুমি তো বাপু কম নও গো!

ছেলেটা হাসছে।

চার পাঁচদিন পরপর যেতেই ছেলেটা কথা বলতে শুরু করল। ওর বাবা ইঁটখোলায় কাজ করত। শ্বাস কষ্ট হয়ে মরে গেছে। ওর মা অসুস্থ। তার চিকিৎসের জন্যও মেলা টাকা খরচ হয়।

তা বাপু তুমি এখানে বাজারে কি করছ! আমাদের সঙ্গে চলো! দেখবেখন পয়সা কাকে বলে!

কিন্তু আমি তো তোমাদের মতো নই মাসি!

ওমা গো! তাতে কি! তুমি পাহারা দেবে। আমাদের দলে তোমার মত ছেলেও থাকে তো! আমাদের মা… আহা মা গো! বউচরা মা গো! সক্কলকে ঠাঁই দেন!

ছেলেটা হাঁ করে শোনে কম্‌লির কথা।

বাড়িতে ওর অসুস্থ মা বারণ করে কম্‌লিদের সঙ্গে মিশতে। বলে ওরা ভালো হয় না। মন্তর তন্তর করে!

ছেলেটা ভাবে কত টাকা ইনকাম হবে পাহারা দিয়ে?

আরে বাবু! সে তুমি গিয়েই দেখোনা! আমরা এই যে আছি! ঘরে বাপ মা আছে! বুড়ো হয়েছে। তাদেরও তো দেখতে হয় না কি গো!

ছেলেটা অবাক হয়ে যায়। বাচ্চা নাচিয়ে এতো টাকা পাওয়া যায়!

বেশিদিন আর সময় নেয় না ছেলেটা। কম্‌লির সঙ্গে ঠেকে এসে উপস্থিত হয়।

ববি মাসি প্রথমে ওকে পাহারাদারের কাজই দেয়। আস্তে আস্তে রাজি করাতে হবে। তাড়াহুড়ো করলে পাখি ফুরুৎ হয়ে যেতে পারে!

ছেলেটা সবার সঙ্গে কথা বলে। সমন্দী, রুনু, গঙ্গা মাসি, খালু চাচি, সবার সঙ্গে তার ভাব। রুনু কর্কশ গলায় জিজ্ঞেস করে, তা ভাই তোমার ছিবড়ি আছে না কি গো?

ছিবড়ি মানে? ছেলেটি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে!

ও গো আমার বালগোপাল গো! কিচ্ছুটি জানে না গো! রুনু গান ধরে,

নাগর আমার হাবা গো

হাতে ধরা লিকাম্ গো!

কট্ কট্ কট্ ঘ্যাচাং ফু

নাগর হবে টোন্‌লি টু…

বলে রুনু জোরে জোরে ঢোল বাজায়। বলে কেমন ইনজিরি টোন্‌ছা গাইলাম বলো! খুব একচোট হাসির ছর্‌রা ওঠে।

সেদিন সব গিয়েছে বাচ্চা নাচাতে। সমন্দী কেবল ঘরে। সমন্দীর জ্বর হয়েছে। ছেলেটাকে রেখে গেছে ববি মাসি। বিশ্বস্ত কি না তাও তো দেখতে হবে। ঝালার রোগ থাকলে! তাছাড়া সমন্দির কাছেও কারো থাকা দরকার!

ছেলেটা উঠোনে ছিল। সমন্দীর ঘরে থাকতে থাকতে অসহ্য লাগছিল। এইটুকু ঘর। জিনিসে ঠাসা। এঁদো গলির মধ্যে হাওয়া বাতাস রোদ কিছু নেই! সমন্দী এসে উঠোনের একধারে বসল। আজ তার মন ভালো নেই। যত জ্বর বাড়ছে তত মায়ের মুখখানা চোখের সামনে জ্বল জ্বল করছে। বাপটা তাকে তাড়িয়ে দিল। মার সে কি কান্না! আছাড়িবিছাড়ি কান্না! বাপটা তবু শুনল না। দরজা বন্ধ করে দিল মুখের ওপর। সমন্দী এসব ভাবছে আর চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছে। পালান বুড়ি, এ দলের পুরনো আকুয়া। একখান গান সে গাইত মাঝে মাঝে…

জীবন লিয়ে গান লেহিছি

সে গান শুনতি ভয় পায় জীবন

যত কাছে মরণ চাইলে

তত দূরই যায় রে মরণ

মানুষ আমি বৃক্ষ তো লয়

মাটি ফাইটে গজাইনে

আমারও তো বাপ মা ছিল

পাশে কহনো পাইনে

সমন্দিকে কাঁদতে দেখে ছেলেটা এগিয়ে এসে ওর পাশে বসে। সমন্দি আস্তে আস্তে মাথাটা হেলিয়ে দেয় ছেলেটার কাঁধে। ছেলেটা সারাদিন সমন্দিকে জড়িয়ে বসে থাকে। সমন্দি গুনগুন করে গান গায়। সমন্দি বাপ মার কথা বলে। ছেলেটা শোনে! সমন্দি একটা বাচ্চা চায়! বাচ্চা পেলে সে সব ছেড়ে চলে যাবে! নতুন করে জীবন শুরু করবে! কিন্তু সেসব মেলা খরচের রে! কি সব গোলমাল আছে শরীরে! মাসিকের রক্তের স্বাদই পেলাম না জীবনে! ছেলেটা শোনে। সমন্দিকে তার আদর করে দিতে ইচ্ছে করে। পারে না। মাথায় হাত বুলোতে থাকে!

আর সমন্দির মনে হয় সেই কতকাল আগে জ্বর হলে মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিত। বহুকাল পর আবার যেন তেমনই… আরাম ছড়িয়ে পড়ে তার শরীর জুড়ে!

কদিন ধরেই দলের মধ্যে গুজগুজ ফুসফুস চলছে। সমন্দি জানে এই ছেলেটার এবার ছিন্নি হবে। ছেলেটাকে বলবে এক-দুবার! বোঝাবে হয়তো বা! তারপর না শুনলে খোলুয়া খাওয়াবে। নেশার বড়ি দেবে। তারপর এগারো দিনের রাতে জোর করে ছিন্নি করে দেবে! সমন্দির ছেলেটার জন্য বড়ো ভাবনা হয়! আহা রে বোকা ছেলেটা! ও জানেও না ওকে নিয়ে কী চলছে দলে! সমন্দির বুক কাঁপে। ভাবে ছেলেটাকে সব বলে দেবে! ওকে বলবে পালিয়ে যেতে! কিন্তু ও যদি বিশ্বাস না করে! যদি কম্‌লিকে বলে দেয়! সমন্দি চিন্তায় পড়ে যায়! এতো দুশ্চিন্তা হচ্ছে কেন এই ছেলেটার জন্য! কি যেন নাম ওর! নামটাও তো জানা নেই! তবে! এতো চিন্তা কেন হচ্ছে! কেন মনে হচ্ছে ও খুব নিজের জন! আপন কেউ! ওকে নিয়ে ঘর বাঁধতে… ভাবনাটা মাথায় আসতেই উড়িয়ে দিল সমন্দি।

আজ এগারো দিন হলো ছেলেটাকে খোলুয়া খাইয়ে খাইয়ে বেহুঁশ করে রেখেছে। আজ রাতে ওর ছিন্নি হবে। গুরু মা তৈরি হয়ে আছে। সঠিক সময়ের অপেক্ষা। সমন্দি আজ বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে। তাকে বারবার নড়তে দেখে রুনু বলে ওঠে, আর মলো যা! অতো নড়ছিস কেন লা! ঘুম আসছে না বুঝি! নাগর পাতিয়েছিস বুঝি! সমন্দি সঙ্গে সঙ্গে কাঠ হয়ে যায়। তবে কি ছেলেটাকে তার ভালো লাগে একথা সবাই বুঝে নিয়েছে! সমন্দি সাবধান হয়ে যায়!

অনেক রাতে রুনু ঘুমিয়ে পড়লে সমন্দি উঠে বাইরে আসে। এ বাড়িতে একটা লুকনো ঘর আছে। খালু চাচি তাকে একদিন দেখিয়েছিল গুরু মার ঘরের মেঝেতে একটা লুকনো সিঁড়ি আছে। সমন্দি আস্তে আস্তে গুরু মার ঘরের মেঝের ঢাকনা সরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে একটা গলি পথে নামে। সামনে তাকিয়ে তার মাথায় চক্কর লেগে যায়। অসংখ্য লুক্কোড় গল্লি, তার ভেতর গলি… এ তো পুরো গোলোকধাঁধা! এখানে সে কোথায় খুঁজবে ছেলেটাকে! এমন সময় ছেলেটার চিৎকারের আওয়াজ আসে। সমন্দি সেই আওয়াজ লক্ষ করে ছুটতে ছুটতে খুঁজতে থাকে ছেলেটাকে। শেষপর্যন্ত নানা গলি ঘুরে সমন্দি একটা ঘরের সামনে পৌঁছোয়। ঘরের সামনেটা আবর্জনা, জঞ্জালে ঢাকা। সেখান থেকে একটা ভাঙা কাঠের তক্তা হাতে করে সমন্দি দরজায় লাথি মারে! দরজাটা হাট করে খুলে যায়। সমন্দি এগিয়ে গুরুমার মাথায় তক্তাটা মারতে গেলে গুরুমা হাতের হলাল্‌টা চালিয়ে দেয় সমন্দির গলায়। আড়াই সেকেন্ড থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে সমন্দি স্থির হয়ে যায়। কম্‌লি ঘটনার আকস্মিকতায় চিৎকার করে ফেলে। গুরু মা দাঁতে দাঁত চেপে বলে হিল্‌কর! ওদিকে ছেলেটাও ততক্ষণে রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে গোঙাতে থাকে। ববি মাসি ওরফে সন্তোষ ওরফে গুরুমা কম্‌লিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।

 

গল্পে ব্যবহৃত বিশেষ কয়েকটি শব্দের অর্থ

 

উন্‌সি – ঐ লোক

টোল্‌না – ছেলে

টোল্‌নি – মেয়ে

আদত – যে সব পুরুষের হিজড়েদের মতো চালচলন

বেওবা সুড্ডি – বিধবা মা

টাক্‌নী – খাওয়া

ছিন্নি – লিঙ্গচ্ছেদ

লোফা – ব্লেড

ডিঙ্গুর – পুলিশ

সব সে বড় কাগজ – এক লক্ষ টাকা

খোলুয়া – মদ

আকুয়া – যেসব হিজড়ে পুরুষ মেয়ে হতে চায়

অনধেরা – অমাবস্যা

ধাম্‌রি – গর্ভবতী

কম্‌তিদের – হিজড়ে

চরকি – ট্রেন

ইচ্ছু – বিড়ি

টোন্‌ছা – গান/অশ্লীল গালি

ছিবড়ি – সুস্থ পরিপূর্ণ নারী

হলাল্‌ – ছুরি

ঝলকা – টাকা

খোল্‌পি – জুতো

লিকাম্ – লিঙ্গ

ঝালার – চুরি

লুক্কোড় গল্লি – গলি

হিল্‌কর – চুপকর

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
demon slauer rule 34 lena the plug leak amateurtrheesome.com cumming in milfs mouth mujer haciendo el amor a un hombre, belle delphine of leaked emma watson in porn xxxamat.com big booty in public hidden cam gay sex, sit on face porn g a y f o r i t forcedpornanal.com please screw my wife female celebrity sex tapes