
মণিশংকর বিশ্বাস-এর কবিতা
সকাল
শাদা পাহাড়ের নিচে এসে দাঁড়াই।
প্রাতঃস্মরণীয় অনুশোচনা। তোমার ভালোমন্দ মনে পড়ে।
আরও নীচে অগভীর কফি ক্ষেত। সূর্য এলো।
আনুভূমিক যৌনদ্রাঘিমা।
অনিচ্ছুক মোরগ ফুটে ওঠে কাঠের দরজায়।
ফুলে ওঠা তাঁবু, মেঘের সারল্য থেকে ক্ষতস্থান ও রোদ
মুক্তি
এত কনফ্লিক্ট নিয়ে সকাল এসেছে!
চান করতে ঢুকে তোমাকে দশটা চল্লিশ মনে হয়।
আমার ভিতর ঢুকে পড়ে বৃষ্টিদিন
তোমার ক্যামোফ্লাজ, জলপাই রঙ
আমার যে কোনো লেখাই শেষমেশ এরকম তোমার হয়ে যায়
সেভাবে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা আমি পারি না—
একে আমি ঘেন্না করি ঘেন্না করতে!
কিন্তু এরকম পরপর দুটি নেগেটিভ শব্দ দিয়ে লেখা বাক্যবন্ধকে
মন সেভাবে জড়িয়ে ধরতে পারে না।
এসব নিয়েই সকাল থেকে ভেজা তোয়ালের নিচে চাপা পড়ে থাকা
একটা পিঁপড়ের মতো হয়ে আছি
এভাবেই এখন ঝুলে থাকবে বিষয়টা সাড়ে ন’টা পর্যন্ত
বকযন্ত্র
শুনি আধাসামরিক বাহিনী নেমেছে রাস্তায়।
আপাতত বাসস্টপের পিছনে পাইটের বিরাদরি
শান্তির স্বরূপখানি টাল খেতে খেতে রাস্তা পার হয়, গলির ভিতর ঢোকে।
জিপের ধোঁয়ার ভিতর আরেক কাহিনী
তৌফিক জাগে
খাদ্যাভ্যাসে ঢুকে পড়ে গোলাপি দ্রবণ, গণসংগীত
মুহূর্ত
আমার মলিন হল। দুপুরের ছায়া ঘনালো যতদূর
কিছু নেই, মালবিকা নেই, নেই কোনো নতুন যৌন ইশারা।
নাভির নিচে সেই পুরনো বাইসাইকেল পথের নির্জনতা
বইয়ের তাকে খা খা করছে গোয়েন্দা গল্প
উচ্চাশার ফলে নীল মহাকাশে জন্মাচ্ছে সুদৃশ্য কাপপ্লেট
বেদনা সকলের থাকে
তবু কেউ তারে পায়
কেউ তারে পায় না কখনো
শীৎকার
থেকে থেকে উসকে উঠছে সুলতার আগুন
কিছুটা ভালোথাকা নিয়ে সরে আসি জানালার ধারে
জানালার বাইরের পৃথিবী ছোট হয়ে আসে
গুটিয়ে আনি চিন্তা
আহা, আমগাছের ভিতর দিয়ে চলে গেছে
সুলতার নাইটি পর্যন্ত, তারপর বিস্তীর্ণ দুপুর, অসংখ্য য-ফলা
ধানক্ষেতের ভিতর নরম গ্রন্থাগার
তার প্রতিটি দেয়ালে বীজগণিত, কস থিটা
উষ্ণ ঘাসের ভিতর ইতস্তত ধাতু ও ধাতব বিকার চকচক করে ওঠে
রেডিও
এত দূরত্ব কোথায় রাখি, এত প্রেম বৃষ্টিতে ভিজে যায়
মোহন স্টেশনে আসে। বিভূতিভূষণ হল্ট।
শুকরিয়া
ব্যক্তিগত ব্যর্থতার কথা বলো চায়ের দোকান
দু’তিন ঘণ্টার ভিতর ফুল ফুটবে সারাজীবনের মতো
হেসে উঠছে গাছ স্টেশন চত্বরে
কোথাও কেউ নেই, ঠাকুরনগরে বাবার রেডিও পড়ে আছে সিঁড়ি ঘরে
ব্যাটারিহীন বিবিধভারতী আর কলকাতা-খ চিৎকার করছে নৈঃশব্দ্য
এদিকে অভ্যাসবশত রেডিওর পাশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছেন, বাবা
অ্যান্ড্রোমিডার দিকে মহাকাশযানে

