
সায়ন রায়ের কবিতা
বিড়াল
একটা ছবি আঁকতে চাইছি
শ্রয়ডিঙ্গারের বিড়াল।
তার মাথাটি লেজের দিকে
আর লেজটি গলার ওপর সুচারু
দু-টি পা পিঠের ওপর ঊর্ধ্ববাহু ;
দু-টি পা ডানার মতো দুলছে
তাহলে এই বিড়াল হেঁটে বেড়াবে কীভাবে ?
এক মন থেকে আরেক মনে,
এক সময় থেকে অন্য সময়ে তার যাত্রা
রহস্য জটিল আর কুহক ভরা পথে
আমারই আশ্রয়ে আজ নরম হয়েছে ;
সুচতুর গল্প বলে চলে
আমি তাকে হুইস্কির সাথে মাছভাজা দিই
সে শুধু হুইস্কিটুকু গলায় ঢকঢক ঢেলে
পাড়ি দেয় দূর কোনো দার্শনিক দ্বীপে।
দারুব্রহ্ম
জোড় বেয়ে ভেসে এসেছে এই কাঠ
আমি তার বেদনাকে দেখি
কল্পনায় চোখ আঁকি, খর্ব দুটি হাত
গোধূলিবেলায় সেই ফুল্ল চোখে আলো এসে পড়ে
অনন্ত হয়ে এই কাঠ মিশে যায় ঘাসে
শুদ্ধ এক চেতনা জেগে থাকে বিশ্বচরাচর জুড়ে
নতুন অবতারে নেমে আসে প্রেম, দয়া
নবনব রূপে লালসা ও লোভ আর রক্তলিপ্সা
ঘনীভূত হয় পশ্চিমি আকাশ জুড়ে ঝঞ্ঝার মতো
শতশত চোখ থেকে নেমে আসে জল, হীন মানুষের
তখনই দারুব্রহ্ম অগাধ আশ্রয় হয়ে, প্রেম হয়ে
ঊর্ধ্ববাহু দৌড়ে যান করুণার নীলাচল জুড়ে।

