
পার্বতী রায়-এর গুচ্ছ কবিতা
গুচ্ছ কবিতা
—
১. পন্থা
ভাবছি ভুলে যাবো, পাতা-ফল সব গুটিয়ে রাখবো। এ বেলা নদীতে নামা হবে না আর, নিজেকে নিজের ভেতর গুটিয়ে রাখা— এও এক পন্থা।
—
২. মিউজিক
এসো, পাশবালিশের সঙ্গে কথা বলি, গভীর হয়ে ফুটে থাকা দুঃখের ফুলগুলোর দিকে তাকাই। মৃদু হাসি নকল করতে করতে তুমি কোথায় গেলে? আমি বেপরোয়া মিউজিক মানি না, যন্ত্রাংশের দৌড় মানি না।
—
৩. রাতের পোশাক
এখনই ফিরে যাবে— এ অহংকার ভালো না, এত অধ্যবসায় ভালো না। তার চেয়ে বরং এসো, দেখি উপহারগুলো। দেখি, নদী এখনও কেন এত চঞ্চল, পূর্বের বারিধারা অতিক্রম করে রাত এখনও কেন ছুটছে— রাতের পোশাক কোথায়?
—
৪. গোপন
না, আমি বলতেই পারি— এই ভাবনা থেকে কুঁড়িরা এলো, ফুলেরা এলো, এলোমেলো খাম। কথাটি গোপন রাখবো কী করে!
—
৫. কণ্ঠ
এই সুর, মূর্ছনা— এই সংগীত আমার জন্য নয়। আমি উঠোন ভালোবাসি বলে পর্দা কিনেছো। আমি কণ্ঠ ভালোবাসি বলে গান এখন ঊর্ধ্বসীমায়। বেশ তো, নেচে নেচে মন হালকা করছো!
—
৬. তিল
আলো ও জ্যোৎস্নার মধ্যে কতটুকু ফারাক? আমি তিল গুনেছি— ঠোঁটের কাছে, চোখের কাছে। এরা কেমন ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গিমা দখল করে, ঠিক যেন আমাদের পাহাড়, নদী, চাঁদ।
—
কোথাও একটা
#
আমরা কোথাও একটা বেড়াতে যাবো ভেবেছি,
তারপর শূন্য হয়ে গেছে চোখের পাতা—
বিভাগীয় ঘুম।
এখন আমরা উত্তম কোনো ঘরের অপেক্ষায় জেগে আছি।
আমাদের অন্তর সন্দিহান,
আমরা হাওয়ার কাছে এসে বসেছি গুটি গুটি।
কোনো এক পর্ণমোচী দুঃখের গায়ে প্রলেপ লাগাচ্ছি,
এখন আমরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছি— বলতে পারবে না!
ফিরে দেখা
#
অসুখকে আমরা বিদায় দিতেই পারতাম,
চতুর্দিকে ভাঙা আয়না
ও কিছু সামগ্রিক যুদ্ধের প্রতিফলন দেখছি।
আমরা এখন ঝুঁকে নিচে নেমে আসবো— এমনটাও নয়;
পার্থিব আলোটুকু ছাড়া আমরা আর কী নিচ্ছি!
ফিরে দেখি গমখেত, ধানখেতে
শস্যের বাহার।
এত কিছুর মধ্যে রোগও বেশ প্রবল।
আমাকে ফিরে দেখার ইঙ্গিত কেন দিলে?
রোগ ও পরম্পরায় আমরা আর পিছিয়ে নেই।

