
শিবালোক দাসের কবিতা
তুমি
তুমি তোমার একমাত্র ছায়া ভেঙে
ফেলো হাজার ইঙ্গিতে
পাতো অদৃশ্য বিন্দু, যার অন্তিম
অনুভবে কেউ তোমাকেই আবার
খুলে দিক
শূন্যতায় কেউ কালো হতে চায়না
তবুও যদি বলি আজ নিবিড় হতে
ব্যবধান ছুঁয়ে যাও কেন
সুদূরে এক অনাবৃত রেখা জুড়ে
শুধু তোমার প্রত্যঙ্গ পড়ে থাকে বাড়ন্ত
সততায়…
২
ক্ষুধা
ক্ষুদ্র হতে হতে সমস্ত
কুপিত অতল মুছে গেছে।
যে প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে
গুল্মপ্রবণতা, তার গোপনে
কেউ একবার মনে করেনা
তোমায়, ছিন্ন হবার আগে…
তোমার অবশেষে দেখো দুর্বার
মতো লেগে আছে ক্ষুধা,
অসম করবে বলে একাধিক
নাভির অন্তরে সে ক্ষীণ করে
দিল তারা-প্রবর জন্ম !
৩
কবি
কেউ তো অপরাধশূন্যতায় তোমাকে
ডেকে নিক।
ডেকে নিক অপার সম্ভাবনায়, তারাযুগলে
ভেসে যাচ্ছে কঙ্কাল, ছুঁয়ে দেখো
তার উদ্ধারে কত ঘূর্ণি পেরিয়ে গেছে
ধাতব সঙ্গীত…
জন্মরোগ, তোমাকে কেউ অক্ষরে অক্ষরে
অভিশপ্ত করেনি
৪
ছায়ামানব
উন্মুক্ত নও
বেনামী যুগলের পাশে নীরবে
ছুঁয়ে দাও স্রোতস্বিনী নীল,
যাকে ভুল ভেবে এখনো কেটে ফেলি
শেষ তলোয়ার—মুছে ফেলেছি প্রহসন।
তবুও যদি ছিঁড়ে ফেলো অতলান্ত পোশাক
কখনো দাঁড়াব না নিঃশব্দে, চাইব না ক্ষমা
আজ তোমার কৃষ্ণকলির কাছে, ছায়ামানব..
এতকাল তার কিঞ্চিৎ সত্যে পরিণত হতে চেয়ে
তোমার একান্ত মরুদেশ বারবার ছুঁয়ে ফেলেছি
যাবতীয় প্রলাপে, নিঃস্তব্ধ ক্ষরণে…

