
তনুশ্রী কার্তিক-এর কবিতাগুচ্ছ
জল- হাওয়ার ধ্বনি
১.
উঁচু নীল চূড়ায় ওড়ে পতিতপাবন ধ্বজা।
উত্তাল সমুদ্র,দারুদেবতা—
হাতহীন, চরণহীন, শুধু দুটো গোল অতল চোখ।
প্রদীপে গভীর শূন্যতা জ্বলে—
ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই সম্পূর্ণ হওয়ার।
২.
বালিতে লিখেছিলাম— ফিরব।
জোয়ার এসে মুছে দিল।
জল জানে—
মানুষের প্রতিশ্রুতির চেয়ে
ফিরে আসার নিয়তি বড়।
৩.
ভোরের আগে দেখি, সমুদ্র নিকশ কালো।
অনিবার্য আলো ফেরার আগে বুঝি—
সবাইকে একবার
নিজের মুখোমুখি হতে হয়!
৪.
আজকের হাওয়া বড় শান্ত
নোনা জল কিছুটা নরম
হয়তো কোনো একলা মেঘ ভালোবেসে
শেষরাতে ঝরেছিল
কিছু অভিমান সমুদ্রের মতোই অগাধ—
কেবলই নোনা ব্যবধান
কাছে গিয়ে দেখো,
কূলগুণে থেমে আছে আস্ত প্লাবন ।
৫.
আজ তোমার একবারও জ্বর আসেনি—
সমুদ্রের পাশে বসে একথা ভেবেছি যখন
হাওয়া বইছিল খুব—
ঢেউ আছড়ে পড়ছিল মাঝের সামান্য দূরত্বে।
তুমি আমার নিঃশ্বাসের খুব কাছে
একটি নীরব আলোর মতো থেকে গেছ।
৬.
শেষবার সমুদ্রের কাছে ফিরি
বাতাসের স্বাদ পুরোনো জামার মতো চেনা
ঢেউ আসে ঢেউ ফিরে যায়
যেভাবে আলো-ছায়া বয়ে গেছে এতকাল
জীবনজুড়ে কত-না আঁধার আলোড়িত হল,তবুও আমার সমস্ত প্রাপ্তি আর ভুল
বুকের ভিতর ঢালে সামান্য ওম
কিছুটা নৈঃশব্দ্যে বাজো।
শান্ত আদর মাখে সমুদ্র। আজ।

