জন্মাষ্টমী কোনও অনুষ্ঠান হলে  <br /> শীর্ষা

জন্মাষ্টমী কোনও অনুষ্ঠান হলে
শীর্ষা

বিশিষ্ট দিনলিপিকে মুড়ে রাখছে
জন্মাষ্টমীর ধুন, ‘রাই জাগো’-র সুরে উদ্বেল
পায়েসের গন্ধ – হলুদছোপানো আঁচল থেকে
বয়ে যাচ্ছে প্রসাদ
কৃষ্ণের পায়ে রাখা রেকাবের কাঁসায়।
পাশের বস্তিশিশুটির জোরালো কান্না
টুকরো টুকরো করে ফেলছে অমৃতের হৃৎপিণ্ডকে –
‘হে জন্মাষ্টমী’, ‘ওহে জন্মাষ্টমী’ বিড়বিড় করতে করতে
খাদ্যের মধুর সুরেলা ধাবিত হচ্ছে
মাটির কৃষ্ণের দিকে। অতএব এখন বাঁশিওলা
ভক্তির প্রাবল্যে সন্তোষ মেখে খাচ্ছে।
খাচ্ছে কি?

মন্দিরের কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম থেকে
গ্রামান্তরে, পুরোহিতের মন্ত্রপূত আশীর্বাদ
এযাবৎ খরার মাটিবুকে প্লাবন ডেকে আনে।
অস্পৃশ্যকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়
প্লাবনের পাগলামি !
এরূপ কোলাহল স্থির করবার জাদুকর পাথরটির
চোখমুখ শেষ আলোয় ম্লান হয়ে ওঠে – পুরোহিত দ্যাখেন
কৃষ্ণের মেঘের শরীর থেকে ঝরে পড়ছে কান্না, অমোঘ কান্না –
এভাবেই একবাটি পায়েসের কাছে গড়াগড়ি খাচ্ছে
একটি পাথর ও অস্পৃশ্যের যৌথ অনুরাগ

নিদাঘের দিনে বৃষ্টির সন্তোষ মেখে
ভাত খেতে বসেছে মাটির শরীর –
কিশলয়ের মাথা এগিয়ে যেতে চাইছে
ট্রপিক চলনের দিকে। আর এরকম আশার মগডালে
একটি শুকনো বীজ চুষে চলেছে
একটি পাখির শাবক। চুষেই চলেছে – যতক্ষণ না মা
রাষ্ট্র থেকে জন্মাষ্টমীর দান নিয়ে ফিরতে পারে

রাত্রির বাণ নিয়ে যুদ্ধে চলেছে আকাশ;
যেন জন্ম নিয়ে কোনো আদিখ্যেতা
থাকতেই পারে না – শ্রীকৃষ্ণমেঘের শরীর জুড়ে
অভিমানের গাছ বড়ো হচ্ছে। রাত্রির প্রতি
দুঃসহ ঈর্ষায় শ্রীকৃষ্ণ মুছে ফেলছে নিজেকে
আকাশের হৃৎপিণ্ড থেকে, আলোর হ্যাজাক জ্বলে উঠছে
সকালের নাম নিয়ে – আর পাখিদের কিচিরমিচির
প্রতিবেশীর আলাপন সেজে পাগল করে তুলছে
গৃহস্থের বাগানকে – দ্যাখো পাখিটির কোল,
দ্যাখো একটি সামান্য পাখির কোল
কেমন যশোদা-যশোদা আহ্লাদ শুরু করেছে।
একাকিত্ব মুড়ে থাকা আকাশের দিকে উড়ে যাচ্ছে
কালো দেবশিশুটির মিটিমিটি চোখ,
মিটিমিটি ভ্রমরের চোখ!

CATEGORIES
TAGS
Share This

COMMENTS

Wordpress (1)
  • comment-avatar
    রবীন বসু 4 weeks

    সব কবিতাই সুন্দর। অভিনন্দন জানাই।🙏