
আলোকের সাধনা (টমাস আলভা এডিসনের জীবন কাহিনি) হোমেন বরগোহাঞি ১৭ তম পর্ব বাংলা অনুবাদ-বাসুদেব দাস
এডিসনের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকার
এডিসন ছিলেন তার সময়ে সবচেয়ে বিখ্যাত এবং প্রতিভাশালী মানুষদের মধ্যে একজন। তাই এটা খুবই স্বাভাবিক যে তার সাক্ষাৎকার নেবার জন্য সাংবাদিকরা তার পেছন পেছন ঘোরাফেরা করবে। এডিসনকে নিজের প্রয়োজনে অনেক সময় সাংবাদিকদের নিমন্ত্রণ করতে হত। কোনো একটি নতুন জিনিস আবিষ্কার বা উদ্ভাবন করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই খবরটা মানুষকে জানানোর প্রয়োজন অনুভব করতেন, এবং তখন তিনি সাংবাদিকদের নিজের বাড়িতে বা গবেষণাগারে নিমন্ত্রণ জানাতেন। একবার তিনি কথা প্রসঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিককে বলেছিলেন– ‘নিউ ইয়র্কের সাংবাদিকরা অত্যন্ত তজবজে এবং বুদ্ধিমান। তাদের সমকক্ষ প্রতিভাবান সাংবাদিক পৃথিবীতে নেই বলে আমার মনে হয়। প্রায় প্রতিটি রবিবার সকালবেলা আমি সাংবাদিকদের আমার বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে আনি এবং চা জল খাবার খেয়ে আমরা প্রত্যেকেই কথার মালা গাঁথি। তাদের কয়েকজন সারাদিন আমার সঙ্গে কাটায়। আমেরিকায় কয়েকটি অতি উৎকৃষ্ট খবরের কাগজ আছে আমি ‘টাইমস’ এবং ‘ওয়ার্ল্ড’ নামের দুটি খবরের কাগজের নিয়মিত গ্রাহক। কাগজ দুটির প্রতিটি শব্দ আমি খুঁটিয়ে পড়ি। আমরা আমেরিকায় সমস্ত সরকারি কাজকর্ম খবরের কাগজের দ্বারাই পরিচালনা করি।’
এডিসনের এই উক্তি থেকে বুঝতে পারা যায় যে খবরের কাগজ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অতি ঘনিষ্ঠ এবং মধুর।
একবার এডিসন প্যারিস গিয়েছিলেন। তিনি প্যারিসে থাকা সময় ব্রিটেনের মডিপল মল গেজেট নামের একটি বিখ্যাত খবরের কাগজের প্রতিনিধি রবার্ট শ্বেরার্ড তার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। এই সাক্ষাৎকারটিতে এডিসনের চরিত্রের কয়েকটি আকর্ষণীয় দিক তথা বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। সেই জন্য সাক্ষাৎকারটির কয়েকটি নির্বাচিত অংশের সারানুবাদ এখানে দেওয়া হল।
সাক্ষাৎকারের জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় চেয়ে রবার্ট শ্বেরার্ড লেখা চিঠির উত্তরে এডিসন তাকে জানালেন–’ ঠিক আছে। শুক্রবার সকালের দিকে প্রায় এগারোটার সময় আপনি আমার হোটেলে চলে আসবেন। তখন আমি প্রকৃতিস্থ হতে পারব বলে আশা করি ।কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে আমার মগজ নানান নতুন নতুন আবিষ্কারের চিন্তায় তোলপাড়। প্রতি মিনিটে তা ২৭৫ বার করে ঘুরছে।’
শ্বেরার্ড হোটেলে গিয়ে দেখলেন– হোটেলের সুন্দর সুসজ্জিত ঘরে এডিসন দম্পতি ছাড়াও তিনজন ভদ্রলোক বসে রয়েছেন। পরিচয় পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বেরার্ড সময় নষ্ট না করে এডিসনকে তার প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে শুরু করে দিলেন। প্রথম প্রশ্নটা ছিল এডিসন উদ্ভাবন করা একটি নতুন যন্ত্রের বিষয়ে । লোহার খনি থেকে লোহা বের করার জন্য সেই যন্ত্রটি ব্যবহার করা হত। এডিসন তার যন্ত্রটির কথা ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছেন মাত্র, ঠিক তখনই ঘরে উপস্থিত থাকা একজন ভদ্রলোক এডিসনের কথার মধ্যে বাধা দিয়ে তাকে তোষামোদ করতে শুরু করলেন। তিনি মানবতার নামে বিজ্ঞানীর সম্রাটের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চান।শ্বেরার্ড অতি সূক্ষ্মভাবে এডিসনের মুখের প্রতিক্রিয়া নিরীক্ষণ করতে লাগলেন। তিনি দেখে আশ্চর্য হলেন যে এডিসনের মুখে বিরক্তির বিন্দুমাত্র আভাস নেই।তিনি যে তোষামদ শুনতে পছন্দ করছেন তাও নয়। কিন্তু তিনি ছিলেন ভদ্রতার অবতার। মধুর হাসি হেসে তিনি তোষামোদকারী ভদ্রলোকের কথাগুলি অতি মনোযোগ দিয়ে শোনার ভান করলেন। এই গ্রন্থের আগের একাধিক অধ্যায়ে একথা বলে আসা হয়েছে যে কানে দুবার আঘাত পেয়ে এডিসন শ্রবণ শক্তি বহু পরিমানে হারিয়ে ফেলেছিলেন। এডিসনকে ভালোভাবে জানা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মতে এই বধিরতা তাকে অনেক সময় সাহায্য করেছিল। তিনি কথা শোনার ভান করছিলেন কিন্তু তার মনটা মগ্ন হয়েছিল নিজের চিন্তায়। তিনি কথাগুলি শুনছেন কিনা সে কথা কেউ তাকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে পরীক্ষা করে দেখতে চাইলে তিনি সবসময় নিজের বধিরতার দোহাই দিতে পারতেন।
সে যাই হোক না কেন এডিসনের কথা কাণ্ড গুলি লক্ষ্য করে শ্বেরার্ডের মনে এরকম একটি দৃঢ় ধারণা হল যে এডিসন প্রকৃত অর্থে একজন ভদ্রলোক। তাঁর শিষ্টাচার বোধ অনুপম ।
তোষামোদকারী ভদ্রলোকের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে বসে থাকা কর্ণেল গোর্ড নামে ভদ্রলোক বলে উঠলেন – ঘরের কোণে শ্রীমতী এডিসনের সঙ্গে কথা বলতে থাকা ঐ ভদ্রলোকটিকে আপনারা লক্ষ্য করেছেন কি?তিনি শ্রীমতী এডিসনকে কী বলছেন তা হয়তো শ্রীমতী এডিসন আপনাদের কখনও বলবেন না।কিন্তু তিনি কী বলছেন সেকথা আমি জানি।ভদ্রলোকের নাম হল কেভেলিয়ের কপেলো।তিনি প্যরিসে এসেছেন কেবল মিঃএডিসনের সঙ্গে দেখা করার জন্য এবং তার সঙ্গে তিনি বহন করে এনেছেন ইটালির রাজা মিঃএডিসনকে লেখা একটি চিঠি।চিঠিটার সারমর্ম হল এই ধরনের-এডিসন আবিষ্কার করা ফনোগ্রাফ নামের যন্ত্রটি ইটালির রাজাকে পরম বিষ্ময়ে অভিভূত করেছে।রাজা এডিসনের প্রতি তাঁর সীমাহীন প্রশংসা ফনোগ্রাফ যন্ত্রটিতে বাণীবদ্ধ করেছেন। মানব জাতির উপকারের জন্য এডিসন করা মহৎ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের জন্য এডিসনের প্রতি সম্মান এবং কৃ্তজ্ঞতার চিহ্নস্বরূপ রাজা এডিসনকে ইটালির রাজমুকুটের গ্রাণ্ড অফিসার পদবীতে বিভূষিত করার বাসনা জানিয়েছেন।সেই পদের মর্যাদাসূচক চিহ্নটা এই চিঠির সঙ্গে এডিসনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইটাালির রাজা এডিসনকে ভূষিত করতে চাওয়া পদটি ‘কাউন্ট’পদের সমতূল্য।অর্থাৎ পদটি গ্রহণ করলে এডিসন এবং তাঁর পত্নী যথাক্রমে কাউন্ট এডিসন এবং কাউন্টেস এডিসন নামে পরিচিতি লাভ করবেন।কিন্তু আমেরিকা যুক্ত্ররাষ্ট্র একটি গণতান্ত্রিক দেশ।সেখানে এই ধরনের রাজতান্ত্রিক পদ এবং উপাধি একেবারে আশ্চর্যের জিনিস।
কর্ণেল গোর্ডের মুখে ইটালির চিঠিটার বক্তব্য শুনে এডিসন সংক্ষেপে মন্তব্য করলেন–’এই চিঠিটির কথা যাতে নিউইয়র্কে কেউ জানতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। নিউ ইয়র্কের মানুষ কোনো উত্তরভাবে এই চিঠির কথা জানতে পারলে হাসির প্রকোপে তাদের পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসবে; আমারও লোকের কাছে মুখ দেখানো মুশকিল হয়ে যাবে।’
এডিসনের কথাবার্তা শেষ হওয়ার পরে শ্বেরার্ড পুনরায় তার প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন –’স্যার প্যারিস শহরটা আপনার কেমন লেগেছে?’
এডিসন উত্তর দিলেন–’প্যারিস? প্যারিসের কথা আমি আর কী বলব। সত্যি কথা বলতে আমি একেবারে হতবুদ্ধি হয়ে গেছি। আমার মাথা কাজ করছে না। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পেতে আমাকে হয়তো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। আমি এখন ভাবছি যে আমি গবেষণাগারে কাজ করার সময় যে সমস্ত সাজ পোষাক পরি, সেই সাজ পোশাক পরে এখানে এলে বেশি ভালো হত। তখন আমাকে কেউ চিনতে পারত না, আর আমার যেখানে যেতে ইচ্ছে করে নিজের ইচ্ছামত নানা ধরনের জিনিস দেখতে পারতাম। আমি যে প্রদর্শনী দেখতে এখানে এসেছিলাম সেটি একটি বিশাল প্রদর্শনী। আমাদের ফিলাডেলফিয়ায় সংঘটিত প্রদর্শনীর চেয়ে অনেক বড়ো। আমি কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রদর্শনীর একটি সামান্য অংশ দেখতে পেরেছি।
প্রদর্শনীটার বিষয়ে আরও কিছু কথা বলার পরে এডিসন ফরাসিদের সম্পর্কে মন্তব্য করলেন–’ফরাসিদের একটি কথা কিন্তু আমাকে অবাক করেছে। মানুষগুলি অত্যন্ত অলস। এত অলস মানুষ আমি এর আগে কখনও দেখিনি। এখানকার মানুষ কাজ করে কখন? কোথায় কাজ করে? আসার দিন থেকে আমি এখানে আজ পর্যন্ত একটি মাত্র গাড়ি বোঝাই মাল দেখিনি। এখানে মানুষ বুদ্ধি খাটিয়ে এরকম কিছু উপায় বের করে নিয়েছে–যাতে কাজকর্ম না করে ঘুরে ফিরে বা আড্ডা মেরে সময় নষ্ট করলেও জীবনটা চলে যায়। আমার সঙ্গে দেখা করতে আসা কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ারের আদব কায়দা দেখে আমি সত্যিই অবাক হলাম। পরনে নানা ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ কোট প্যান্ট, হাতে হাঁটার জন্য লাঠি। তারা কাজ করে কখন? আমি সত্যি কিছু বুঝতে পারি না।’
এডিসনের কথা শুনে সাংবাদিক বললেন–’এখানে আমরা আপনার পরিশ্রম শক্তির বিষয়ে অত্যন্ত বিস্ময়কর অনেক কাহিনি শুনতে পেয়েছি। আপনি নাকি দিনের পর দিন ধরে প্রতিদিন চব্বিশ ঘন্টা করে কাজ করতে পারেন।
সাংবাদিককে কথাটা শেষ করতে না দিয়ে এডিসন মাঝখানে বলে উঠলেন–’চব্বিশ ঘন্টা কেন? আমি কখনও একদিনে তার চেয়েও বেশি সময় কাজ করেছি।’
তারপরে রসিকতা ছেড়ে তিনি পুনরায় বললেন–’আসলে আমি প্রতিদিন কুড়ি ঘন্টা করে কাজ করি। মাত্র চার ঘন্টা সময় ঘুমোই। স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য চার ঘন্টার চেয়ে বেশি সময় ঘুমোনোর কোনো প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি।’
অনেক মানুষ ‘প্রার্থনা’ আর ‘ধর্ম’–এই দুটো শব্দ যেভাবে উচ্চারণ করে, এডিসন ঠিক সেই ভাবে উচ্চারণ করলেন ’কাজ’ এবং ‘কাজ করা’এই শব্দ দুটি। অবশ্য এই কথাও সত্য যে কর্মও এক প্রকারের ধর্ম।
এভাবে কথাবার্তা বলার সময় দুপুরের আহার করার সময় হল।শ্বেরার্ডকে নিয়ে উপস্থিত প্রতিটি ভদ্রলোককে শ্রীমতী এডিসন তাদের সঙ্গে একত্রে দুপুরের আহার করার জন্য অনুরোধ জানালেন। এক পদ এক পদ করে আহারগুলি আসতে লাগল। এইবার আলোচনার বিষয় হল আহার। দেখা গেল যে তথাকথিত সু-স্বাদু আহারের প্রতি এডিসনের বিশেষ কোনো দুর্বলতা নেই। বরং তিনি মনে করেন যে অত্যধিক আহার প্রীতি মানুষের শরীরে নানা ধরনের ব্যাধির সৃষ্টি করে।শ্বেরার্ড এই কথাও লক্ষ্য করলেন যে এডিসন খাবার দ্রব্য গুলি ছুঁয়ে দেখলেন না বলা যেতে পারে। এডিসন নিজেই বললেন–’আমি যখন কাজ করি তখন সারাদিন আমার এক পাউন্ড মাত্র ওজনের আহারের প্রয়োজন। কিন্তু এখন আমি কাজ করছি না, তাই আহারের ও কোনো প্রয়োজন নেই।’
আহার-পর্ব শেষ হওয়ার পরে কেভেলিয়ের এডিসনকে ইটালিতে আসার জন্য পুনরায় নিমন্ত্রণ জানালেন। ইটালিতে স্বয়ং রাজা তাকে সম্মান সহকারে অভ্যর্থনা জানাবে, বিজ্ঞান কলা এবং নাগরিকবৃন্দ সম্মিলিতভাবে তাকে সম্মান জ্ঞাপন করবে। কিন্তু এডিসন এই সমস্ত প্রলোভনে ভুলে যাবার মানুষ নন। তিনি খুব জোরে জোরে মাথা নেড়ে বলতে লাগলেন যে ইটালিতে যাওয়াটা তার পক্ষে কোনোমতেই সম্ভব নয়; তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বদেশে ফিরে গিয়ে নিজের কাজে লাগতে চান।
সাক্ষাৎকারটার শেষে রবার্ট শ্বেরার্ড লিখেছেন–’কয়েক মিনিট পরে আমি রাস্তায় বেরিয়ে এলাম। আমার সঙ্গে সঙ্গে এডিসন ও বেরিয়ে এলেন। আমরা রাস্তায় কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ইফেল টাওয়ারের কাছে পৌঁছে গেলাম। প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু স্তম্ভটার পাদদেশে দাঁড়িয়ে রয়েছে টমাস আলভা এডিসন। আমি একবার সেই অত্যুচ্চ স্তম্ভটার দিকে তাকালাম, পরেরমুহূর্তে তাকালাম এডিসনের দিকে। দেখলাম–ইফেল টাওয়ারের চেয়ে এডিসন বহু গুণে বেশি উচ্চ।’
লেখক পরিচিতি-১৯৩২ সনে লক্ষ্মীমপুর জেলার ঢকুয়াখনায় হোমেন বরগোহাঞির জন্ম হয়। ১৯৫৪ সনে কটন কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যের স্নাতক। সাময়িকভাবে সরকারি চাকরি করে সাহিত্যচর্চা এবং পরবর্তীকালে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ‘নীলাচল’, ‘জনক্রান্তি’, ‘নাগরিক’,’অসম বাণী’ইত্যাদি কাগজের সম্পাদনা করেন। ‘পিতাপুত্র’ উপন্যাসের জন্য ১৯৭৭ সনে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ‘আত্মানুসন্ধান’,‘বিভিন্ন নরক’,‘সুবালা’, ‘মৎস্য গন্ধা’, ‘সাউদর পুতেকে নাও মেলি যায়’ লেখকের অন্যতম গ্রন্থ। লেখকের ছোট গল্প উপন্যাস প্রবন্ধ এবং আত্মজীবনী মূলক রচনা অসমিয়া সাহিত্যকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। ১২ মে ২০২১ সনে এই মহান লেখকের মৃত্যু হয়।
অনুবাদক পরিচিতি- ১৯৫৮ সনে অসমের নগাঁও জেলার যমুনামুখে বাসুদেব দাসের জন্ম হয়।১৯৮২ সনে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও ভাষাতত্ত্বে এম এ করেন। আজ পর্যন্ত অসমিয়া অনূদিত গল্পের সংখ্যা পাঁচশত পঞ্চাশটির ও বেশি।সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে নিয়মিত ভাবে অসমিয়া গল্প,কবিতা,প্রবন্ধ এবং উপন্যাস অনুবাদ করে চলেছেন।গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপরিচিত সংস্থা NEINADএর পক্ষ থেকে অসমিয়া ভাষা-সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের জন্য Distinguished Life Membership এর দ্বারা সম্মানিত করা হয়।প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ছেচল্লিশটি।হোমেন বরগোহাঞির অসমিয়া উপন্যাস ‘সাউদর পুতেকে নাও মেলি যায়’(সওদাগরের পুত্র নৌকা বেয়ে যায়) বাংলা অনুবাদের জন্য ২০২৪ সনের সাহিত্য আকাদেমি অনুবাদ পুরস্কারে সম্মানিত হন।

