
স্বপ্না বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা
কুলুঙ্গি- ১
————-
১.
মেঘ চাদর
বাতাসের থমকিভাব
বারান্দার থুতনি বরাবর
ঘূর্ণি চুলের গুছিতে শার্সি ঝলসানো
মাটি ভেপে টেরাকোটা
আহ পোড়া গন্ধ ভাসছে একা একা
কী একা! শালিকের হলুদ নাতিজা
ও দারুণ ও প্রখর শির ছিঁড়ে
গলে যাও পৃথিবীর ঘন অবয়ব
২.
চুলকে উঠছে লাল দাগ
গুঁড়ো গুঁড়ো পরাগ
বন্দরে গোল গোল বসে আছে
মথেদের নির্লিপ্ত ভ্রমণ
তুমি হাত দিলে ঘেঁটে যাবে
ওই রঙ ওই রক্তপ্রবাহ
সরতে সরতে প্রিয়তম ঠোঁটে
তুমি হাত না দিলে আয়নার
ডানা স্তব্ধ চাপ চাপ
মুখের ভেতরে থাকা মুখ গিলে খাবে
কুলুঙ্গি-২
———-
১.
আয়োজন ধরে রাখি
যা কিছু প্রদীপের বুক পুড়ে
আলো গন্ধ ও দহন
শব্দ ছিটেছাটা
আর কিছু বয়সের ভারে
ফলন্ত দু:খের মতো কিছু
জমা খাতায় এসে মেশে
২. তোমাকেই
শূন্যের হিসেব দিতে যাই
রুলটানা খাতা লাল কালি
আঁচড় স্কেলের বাইরে বেদাগ
শূন্যের ফলাফল শূন্য লেখো তুমি
অন্তত ছটা শূন্যের পর জুড়ে জুড়ে
আরও কয়েকশো শূন্যে আমি
নিজেই এঁকে নিই চোখ নাক ঠোঁট
এই জীবন
এই নশ্বর
তোমাকে
একটানা গুছিয়ে রাখি

