
সমীরণ চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা
পুরনো ধুলো, নতুন আলো
১
খুব চেনা এক শব্দ
দরজায় এসে দাঁড়ায়।
ঢোকার আগে কিছু বলে না—
এই ঘরের ধুলো, অভিমান,
অর্ধেক লেখা চিঠি,
সব তার জানা।
কয়েকটি নাম আছে এখানে।
উচ্চারণ করলেই
ভেতরের জল
অল্প নড়ে ওঠে।
মনে হয়,
এইবার বুঝি আলো
অন্য রকম হবে।
এইবার বুঝি ভালোবাসা
শুধু এক দুঃস্বপ্ন থেকে আরেক দুঃস্বপ্নে
নিয়ে যাবে না।
কিন্তু ভালোবাসা
অতি নিপুণ কারিগর—
সর্বনাশের ওপরও
সে সেতু বানাতে জানে।
২
যে আসে
সে কিছু সারায় না।
শুধু একটু আলো ফেলে,
যাতে ফাটলগুলো
আরও স্পষ্ট হয়।
তবু অপেক্ষা থাকে।
মানুষ জানে
কিছুই বদলায় না,
তবু জানলা খোলে।
জানে, আবারও বিপন্ন হবে,
তবু বুকের ভিতর
একফোঁটা ফাঁকা জায়গা রাখে।
এই আগমন
পুরোনো ছলনার মতো—
চিনেও
নতুন বলে মানতে ইচ্ছে করে।
মহাকালেরও বোধহয়
কিছু বদভ্যাস আছে।
সে কিছুই দেয় না,
তবু রেখে যায়
আরও একটি দরজা।
খুলবি?

