শিল্পীর কাজ ও শিল্পের ভূমিকা   ফাল্গুনী ঘোষ

শিল্পীর কাজ ও শিল্পের ভূমিকা ফাল্গুনী ঘোষ

শিল্পী কে? কাকে আমরা শিল্পী বলবো? তার আগে আমাদের বুঝতে হবে শিল্প কি? আমি এর সাথে “আর্ট” এই কথাটি নিয়ে আসছি আমাদের বোঝার সুবিধার জন্য | আর্ট, Art is artificial. Art is not life but life like. Art অর্থাৎ শিল্প বলতে আমরা সংগীত, চিত্রাঙ্কন, কবিতা, নাটক, নভেল , গল্প, নৃত্য, সিনেমা, ভাস্কর্য মোটামুটি এগুলিকে ধরে থাকি। জীবনকে , জীবনের বিভিন্ন দিককে , জীবনের অর্থবহ স্বপ্নকে , নান্দনিক বোধকে, বৌদ্ধিক বিকাশের সৌন্দর্যকে উপরে উল্লিখিত মাধ্যমগুলির মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা শিল্পের কাজ | শিল্প কে মোটামুটি দুরকমভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন শিল্পচিন্তকরা | অর্থাৎ “Art for art’s sake” এবং “Art for life’s sake”. বিষয়ের গভীরে আমি ঢোকার চেষ্টা করছি ধীরে ধীরে |

এই বিষয়দুটি অনেক সময় একে অপরে ওভারল্যাপ করে যায়। প্রথমত ও শেষত সব শিল্পই জীবনের জন্য, প্রাণের জন্য , মানুষের জন্য। জীবন বহুমুখী। জীবনের সত্যও যাপিত জীবনের সত্য থেকে উঠে আসে। তাকে অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান বলা হয় | এখন এই জ্ঞানকে শিল্প প্রকাশ করে কিছু কৌশলে। এই কৌশলকে আয়ত্ত করতে হয় যিনি শিল্প করেন। এই সাধনাই হলো শিল্পের সাধনা, শিল্পীর সাধনা | তা শিল্প যাই হোক না কেন। বড়ো ও মহৎ শিল্পী হয়ে উঠতে গেলে মানুষের উচ্চতর মানবিক গুণগুলিকে প্রতিদিন অভ্যাস করতে হয়। জীবন ও শিল্প অঙ্গাঙ্গী হলেও শিল্পের নির্মান ও নির্মিতিতে অনেক সময়, আবেগ, মেধা লাগে | সাধারণ সংসারী মানুষের তা বোধগম্য হতে সময় লাগে | উচ্চতর ও গভীর শিল্প করতে গেলে শিল্পীর সমগ্র সত্তা নিয়োজিত হয় তাতে |

শিল্পের জন্য শিল্প এই বিষয়টি মানুষের নান্দনিক সত্তাকে সংবেদি করে | কিন্তু নান্দনিকতা কি? মানুষের সৌন্দর্যবোধ যখন যে শিন্পের মধ্য দিয়ে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে তখন তাকে আমরা নান্দনিকতা বলতে পারি | কবি কীটসের “Beauty is truth, truth beauty” এর ধারণাটি কে আমরা এই নান্দনিকতা ও নন্দনতত্বের একটি প্রধান বিষয় হিসেবে ধরতে পারি | ধরুন আপনি সারাদিন কষ্টশীল কাজের পর কিশোর কুমারের কিংবা লতা মংগেশকরের গান শুনছেন | রাতের টিউব আলো নিভিয়ে দিয়ে নীল নাইট বাল্ব জ্বালিয়ে শুনছেন “এক বৈশাখে দেখা হোল দুজনায়, জষ্টিতে হোল পরিচয়, আসছে আষাঢ় মাস.”…..কিংবা শুনছেন “গুলাবি আঁখে যো তেরি দেখে, শরাবি ইয়ে দিল হোগেয়ি.”….! দেখুন আপনার কি দারুন লাগছে | মনে হচ্ছে স্বর্গের কাছাকাছি আপনি বিরাজিত | কিংবা আপনি শুনছেন বা বলছেন , রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি।

কবি সুকান্ত কিংবা সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর কবিতা পড়লে নান্দনিকতার ওই বোধ তৈরি না করে তা জীবনের অবদমিত ও পদদলিত মানবিকতার কথা বলে | প্রগতি সাহিত্যের গতি ও প্রকৃতিও তাই | এই প্রগতি সাহিত্য মেহনতি মানুষ, সাধারণ গায়ে গতরে খেটে খাওয়া মানুষের সমান অধিকার ও জাগতিক উন্নতির কথা বলে | নান্দনিকতা ও নন্দন সংবেদি মানুষ হতে গেলে কোথাও যেন একটা বিশেষত্বের কথা চলে আসছে | কবি সুকান্তের অমোঘ উচ্চারণ, “পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”। যার পেটে রুটির অভাব সে ওই পূর্ণিমার চাঁদকে ঝলসে যাওয়া রুটি মনে করবে | চাঁদের অনাবিল অপার্থিব সৌন্দর্য নান্দনিক সংবেদের বিষয় | কিন্তু ভুখা মানুষ তাকে ঝলসানো রুটি রূপেই দেখে | পেট ভরলে তো মানুষ মনের কথা ভাববে | এই মন জিনিসটি নান্দনিকতার আধার |

মানুষের মন যদি জাগতিক লাভ ও ক্ষতির বিষয়ে সদা সঞ্চরণশীল হয় তবে সে কখন তার মনের নান্দনিক বিষয় নিয়ে ভাববে| তাই মহান ও মহৎ শিল্পীরা খুব বেশি টাকা পয়সা ধন সম্পদ বাড়ি গাড়ি নিয়ে ভাবেন না | শিল্পীকে শিল্পের জন্য সন্ন্যাসী হতে হয় | আমরা যাদের হামেসাই দেখি শিল্প নিয়ে কাজ করতে এরা বেশিরভাগই বুদ্ধিজীবী | কবিও অবশ্যই বুদ্ধিজীবী তবে সে ধান্দাজীবী নয় | বেশিরভাগ বুদ্ধিজীবী এখন ধান্দাজীবী | ধান্দাজীবীরা সবসময় কিছু লাভের জন্য ধান্দা করে | এরা শিল্প বে্নিয়া | লাভই এদের মোক্ষ | কবি জাগতিক লাভের স্বপ্ন দেখতে অপারগ | কবিতা লিখেই তার মুক্তি | প্রকৃত কবি মানুষ ভালোবাসে | তার চাই একটু পেটের খাবার, পথ চলার জন্য যতোটুকু ততোটুকুই | একটি ছাদ আর কিছু বই |

 

কিছুদিন আগে আমার কন্যা বললো , “বাবা চলো কোথাও নিয়ে চলো” | ও ক্লাস ফোর | মেট্রো ধরে সোজা ভিক্টোরিয়া | সামনে ঘাসের লনে দু হাত পা মেলে শুয়ে পড়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি | আর তাকিয়ে আছি অদ্ভুত বিস্ময়ে ভাস্কর্যের দিকে | এ হল নান্দনিকতা | চোখ আর মন ভরে যাচ্ছে | মন্ত্রমুগ্ধ | অবাক এক নির্বাক বোধ দুটো চোখকে বিস্ময়ে আবিষ্ট করছে | এ হল শিল্প | সৌন্দর্যের পিয়াস , পাগল পাগল করা ঘোর | শিল্প হোল এই অরব ও অচিন বিস্ময়| শিল্পীর কাজ এই বিস্ময় সৃষ্টি করা।

কোলকাতায় আমাদের যে দুর্গাপুজো তাতে লক্ষ লক্ষ টাকার প্যাণ্ডেল আমরা দেখতে যাই সেতো পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্প | পুজো একটা সামাজিক মিলনের হেতু | ধর্ম কর্ম আসে পরে | বাঙালি যতোটা শিল্পপ্রেমী ততোটা অলৌকিক ভাবে ধার্মিক নয় | শিল্পের সৌন্দর্য আস্বাদন তার কাছে প্রধান ধর্ম হয়ে দাঁড়ায় | দু্র্গা মূর্তির সাজ বাহার কতোটা অভিনব ও শৈল্পিক সেটিই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় | আগ্রার তাজমহল দেখতে গিয়ে অপার্থিব এক স্পেলবাউন্ড রহস্যময়তা মনের মধ্যে কাজ করে | এইতো শিল্পের উচ্চতম রূপ |সুললিত নান্দনিকতা | শিল্পীর ভূমিকা সার্থক | যুগে যুগে মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে | আমরা কি হিসেব করতে বসি শাজাহানের লোকজন ও শিল্পীরা কতোটা ত্যাগ ও কৃচ্ছসাধন করেছিলেন ২২ বছর ধরে |

ইতালির ১৫ শতকের মহান চিত্রকর লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মোনালিসা দেখতে লক্ষ লক্ষ মানুষ আজও ভিড় করে | এইসব সৃষ্টি যুগে যুগে মানুষকে নান্দনিক বিস্ময়ে আবিষ্ট করে | একসময় ২০১২ থেকে ২০১৬ এই সময়ে কোলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত যেতাম শিল্পীদের কাজ দেখতে। একটা বিস্ময় কাজ করতো | শচীন বা লারার ব্যাটে কিংবা মারাদোনা বা মেসির পায়ের যে কাজ আমরা দেখি তা আমাদের বিহ্বল করে | এতো জীবন শিল্প | মাইকেল মধুসূদন কিংবা দান্তে যে মহাকাব্য লিখলেন তা তো আমাদের আবিষ্ট করে |

১৬ শতকের ইংরেজ কবি ও সমালোচক ফিলিপ সিডনি বললেন , “The purpose of Art is to teach and delight”. সুতরাং শিল্পের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা দেওয়া এবং আনন্দ দান করা | শিক্ষা দেওয়ার কাজটি উপদেশমূলক ভাবে পথ দেখায় | রবীন্দ্রনাথের অনেক অনেক কবিতায় নৈতিক শিক্ষার বিরাট এক অবকাশ আছে কিন্তু তার মধ্যে কাব্যছটার সুরভিত লালিমা মনোমুগ্ধ করে | তাহলে কবিগুরুর মতো মহৎ কাব্যশিল্পী একসাথে দুটি কাজ করেছেন | রবীন্দ্রনাথের মতো গীতিকার পৃথিবীতে বিরল |কী  সহজ মুখের ভাষায় উনি শিখিয়ে দিলেন, “সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরই অপমান, /সংকটের কল্পনাতে হইওনা ম্রিয়মান,/ মুক্ত করো ভয়” | এ হল শিল্পীর দায়বদ্ধতা, মানুষের প্রতি, সমাজের প্রতি, জাতির প্রতি| সে শিল্পীই তো মহান ও বিশ্বজনীন | সত্যকে বলছেন শিল্পের লালিত্যে।

শরৎকাল | আকাশে পেঁজা মেঘ | মাঠে সবুজ ধান | কোনো এক নদীর ধার | সাদা কাশবন | আকাশে উড়ে যাচ্ছে এক ঝাঁক সাদা বক | এক দশক আগে তোলা ছবিতে তুমি | মনে নেই কোথাকার ও ঠিক কবেকার | তুমি ভাবছো কোথায় কোন দূরের দেশের | কিন্তু তোমার গ্রামের বাড়ির কাছেই তোলা ছবি তোমার নতুন ক্যামেরাতে | এটাকে পরিভাষায় বলা হয় ডিফামিলিয়েরাইজেইশন , Defamiliarization. অর্থাৎ বাস্তবের ফ্রেম থেকে অন্য একটি ফ্রেমে শিফ্ট করে বিষয়কে অপরিচিত করে দেখানো , to make the things strange. যেটিকে বিশ শতকের রাশিয়ান তাত্বিক ভিকতর শ্কোলভসকির (Victor Shklovsky) ভাষায় “Ostranenie” এটি একটি প্রাগ (চেকোস্লোভাকিয়া) সার্কেল শব্দ | এই বিষয়টি এবার কবিতায় কিভাবে উঠে আসছে দেখুন |

কবি ওয়র্ডসওয়র্থ কেই ধরা যাক| ইংরেজ রোমান্টিক কবি | উনি নেচার লাভার | প্রকৃতি নিজের মায়ের মতো | এখন উনি ডাফোডিল নামের একটি সাধারণ ফুলকে নিয়ে কবিতা লিখলেন ..Daffodils. যে ফুলটির দিকে মানুষ চেয়েও দেখেনা | সব চোখ গোলাপের দিকে | সেই অতি সাধারণ দৃষ্টির অগোচর থেকে তুলে একটি মূক ফুলকে মহিমাণ্বিত করলেন তাঁর কবিতায় | পাঠক অন্য একটি ফ্রেমে ডাফোডিলের প্রেমে পড়ে গেলো| তাহলে Wordsworth defamiliarizes the familiar things. এই হোল মহৎ শিল্পীর কাজ | এই কবির “The Solitary Reaper” যারা পড়েছেন তারা জানেন | তিনি কীভাবে একটি স্কটল্যান্ডের পাহাড়ি ট্রাইবাল কিশোরী কে কবিতায় তুলে ধরেছেন | কিংবা তাঁরই কবিতায় দেখি কাম্বারল্যান্ডের সেই ভিখিরির কথা | যার দিকে মানুষ বাস্তবে না তাকালেও কবিতার লাইনে তাকে পড়ে ফেলছেন পাঠক | এই তো কবির মহিমা, শিল্পের মহত্ততা …Art for Life’s sake.

এর ঠিক প্রতিপদে আমরা দেখি কবি ওয়র্ডসওয়র্থের বন্ধু কবি কোলরিজ…Coleridge কিভাবে দূরের অপরিচিত সমুদ্র কে তুলে আনছেন শব্দের যাদুতে, অনুভবের বিস্মিত বিহ্বলতায় তাঁর “Rime of the Ancient Mariner”কবিতায় | কবি কোলরিজ কী করলেন এখানে| He familiarizes the defamiliar. আমরা কী এক মায়ালীন মাধুর্যে পড়ে ফেলছি ..Water water everywhere/ All the boards did shrink/ Water water everywhere/ Nor any drop to drink. কবির “Christabel” কবিতাটি পড়লে সেই অপরিচিত অতিপ্রাকৃতিক জগৎ আমাদের চোখের সামনে, মননের মাটিতে এসে উপস্হিত হয় | রাতের, গভীর রাতের আধিভৌতিক এক জগতে একটি তন্বী মেয়ে ক্রিসটাবেল অপেক্ষায় গাছের নিচে, তার প্রেমিক আসবে ঘোড়ায় চড়ে |কবির “Kubla Khan” কবিতা তাই পড়তে হবে অদ্ভুত এই জগৎ থেকে দূরে অন্য একটি জগতে অবগাহনের জন্য।

১৮৯৩ খৃষ্টাব্দ আমাদের কাছে স্মরণীয় বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার জন্য | কিন্তু এই একই বছরে উত্তর ইউরোপের নরওয়েতে বসে একজন শিল্পী এঁকেছিলেন “The Scream” অর্থাৎ আর্তনাদ ছবিটি | তিনি বিবেকানন্দেরই প্রায় সমবয়সী | নাম এডভার্ড মুন্ক | কিন্তু কেন এই ছবি | কেন এই ছবিটি জগৎ বিখ্যাত হোল | মানুষের কাছে এ পৃথিবী প্রতিদিন একটু একটু করে সংকটময় হয়ে উঠছে | তার অস্তিত্বের সংকট বহুধা ও বহুমুখি।

পৃথিবীর এক শ্রেণীর মানুষ কিভাবে লুট করে নিচ্ছে ধন ও সম্পদ | বহু মানুষকে দাস বানিয়ে কিভাবে শোষণ ও শাসন চালাচ্ছে আজকের দিনেও তা খুব বেশি করে প্রযোজ্য | বেনে সাম্রাজ্য কিভাবে প্রশাসনকে চালিত করে | কিভাবে মানুষ একা হয়ে পড়ে | কিভাবে চুরি হয় মানুষের স্বপ্ন | এই ২০২৩ , ৮ জুন আজকের অভিশাপ জর্জর পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোট যে রক্তের বানে ভাসলো, আজকেও খুব বেশি করে রেলেভান্ট এই ছবি | শিল্পের ভূমিকা মানুষকে তার চেতনায় ঘা দিয়ে , চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া সংঘাতময় হিংসার হলোকাস্ট।

১৯৩৭ , জুন মাসের ৪ তারিখে পারি তে (Paris) বসে তাঁর স্টুডিওতে ফিনিসিং টাচ দেওয়া স্পেনীয় চিত্রকর পাবলো পিকাসো | ছবির নাম গেরনিকা (Guernica) | হিটলারের নাৎসি বাহিনী ১৯৩৭ এর এপ্রিল মাসের ২৬ তারিখে বোম্ব ফেলছে স্পেনের এই একটি শান্ত ছোট শহরে | মারকেট প্লেসে | সময় বিকেল চারটে | টানা ২ ঘন্টা বম্বিং | কি বর্বর| মানুষের কী ভীষন হত্যালীলা | নারী ও শিশু কত কত খুন| পিকাসোর এই ছবিটি অমর করে রাখলো গেরনিকা শহরের মৃত্যুর মহোৎসব | শিল্প, মহৎ শিল্প অমর। শিল্পী চিরকালীন |

গেরনিকা ছবিতে অনিঃশেষ ভায়োলেন্স ও কেওস দেখাতে গিয়ে পিকাসো আঁকলেন একটি বলদ গরু, একজন মহিলা, একটি মৃত শিশু, একটি রক্তাক্ত ঘোড়া | প্রত্যেকের ছিন্ন ভিন্ন অবয়ব কী নিষ্ঠুর এক পরিণতির সংবাহক | বিভৎস এই মানবিকতার চরমতম অবক্ষয় মানুষকে কিভাবে সর্বশ্রান্ত করে, নিঃস্ব করে তারই নগ্নরূপ আমরা দেখি আর ভাবতে থাকি আজকের ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার বম্বিং | সময় কে, সময়ের বিকৃত ব্যাধিকে, নৃশংস বর্বরতাকে কি নিদারুণ ফ্রেমে চিরন্তনতায় বন্দি করে শিল্পমোদি দর্শকের কাছে সপ্রাণ করে রাখা মহান পিকাসোর মতো কেউ কেউ করেছেন | কিন্তু এই অভিনব চিন্তন আর কজনের | ছবিকে এরকম কিউবিক টুইস্ট আর কার কাজেই বা দেখি |

১৯০৫ , মনে পড়ছে ভারত ইতিহাসের নিদারুণ পটভূমিকা | বাংলা কেঁপে উঠছে | বিদেশী বৃটিশ ভাঙতে চাইছে বাংলাকে | বৃটিশ বিরোধী হিন্দু মুসলমানের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথ আন্দোলনকে দমিয়ে দেবার জন্য এই ভাঙনের অপচেষ্টা | রাস্তায় কবি রবীন্দ্রনাথ | না তখনো উনি আন্তর্জাতিক ফিগার নন | রবি ঠাকুরের ভাইপো তরুণ অবনীন্দ্র আঁকলেন ভারতমাতা | গেরুয়া কাপড় পরে এক নারীমূর্তি | হাতে ধানের শিস, বই, রুদ্রাক্ষমালা আর এক ফালি সাদাকাপড় | রবি আর অবন ঠাকুর ভেবেছিলেন যে এমন একটি মূর্ত মূর্তি সমগ্র ভারতবাসী তথা বাংলার জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে যার ফলে তারা ভাবতে শুরু করে যে তাদের দেশের অপমান মানে তাদের মায়ের অপমান | অবন ঠাকুরের এই মহান সৃষ্টি সেই সময়ের আপামর স্বদেশি আন্দোলনের বিপ্লবীদের প্রেরণা ও উন্মাদনা জাগিয়েছিলো | মহান শিল্পীর কাজ হোল দেশকে সাংস্কৃতিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়া | দেশকে জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করা |

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম গান কিভাবে আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের আনথেম হয়ে উঠলো তা আমরা বিলক্ষন জানি | কবি ও নাটককার রবিঠাকুরের সমবয়সী দ্বিজেন্দ্রলাল রায় যে গান লিখলেন ..”.ধনধান্যে পুষ্পেভরা আমাদের এই বসুন্ধরা ,/ তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা”। গীতিকারদের শিল্পময়তা দেশকে ভালোবেসে যুগে যুগে অমর | শিল্পের ভূমিকা মানুষকে , দেশকে, জাতিকে তার নিজস্ব পরিচয়ের স্বাভিমানে চিনিয়ে দেওয়া | ভারতবাসী বিদেশী শাসনের দাসত্ব করতে করতে নিজের অস্মিতা ও আত্মসম্মান কে হারাতে বসেছিলো| আমাদের এইসব মহৎ লেখকরা জনগণের চিন্তায় ও চেতনায় ঘা দিয়ে শিখিয়ে দিতে পেরেছিলো যে আমরা একটি স্বাধীন দেশ ও জাতি |

নোবেল লরেট কবি উইলিয়ম বাটলার ইয়েটস | রবি ঠাকুরের গীতাঞ্জলি র যিনি ভূমিকা লিখেছিলেন | সেই আয়ারল্যান্ডের জাতীয় কবি ইয়েটস লিখলেন নাটক “দ্য কাউন্টেস ক্যাথলিন”, “The Countess Cathleen”. যে নাটকটি আয়ারল্যান্ডের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে আগুন জ্বালিয়েছিলো | আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্পিয়ারহেড মহতি মহিলা আনি বেসান্তের দেশের মিলিটারি হিরোইন কবি ইয়েটস প্রেয়সী মডগন অবতীর্ন হয়েছিলেন নাটকের প্রধান চরিত্র কাউন্টেসের ভূমিকায় | ইয়েটস বন্ধু লেডি গ্রেগরীর নাটক “The Rising of the Moon” বিপ্লবীদের কিভাবে প্রেরণা জুগিয়েছিলো তা আমরা জানি | যুগে যুগে শিল্পী অমর, শিল্পেই তার দুরন্ত অবস্হান | লেখায় ও আঁকায় |

আমাদের এ পৃথিবী যতো বেশি বেশি করে আধুনিক হয়ে উঠছে, প্রতিদিন ততো বেশি করে আমরা সুপারবিষ্ট হয়ে পড়ছি | মারপিট ও রক্তপাত , খুন ও পাল্টা খুন কারা করে?
কুকুরদের প্রতিদিন দেখি খাবারের জন্য খেয়োখেয়ি করতে | মানুষতো বুদ্ধিমান ও বিবেকবান জীব | হিংসাকে নিবৃত্ত করার জন্য মানুষ হতে লাগে | মানুষ করার দায় বাবা মার আর সরকারের | দেশ কে যাদের ভালবাসার কথা তারা কি খুব ভালোবাসে? বোধহয় না | তারা কারা| তারা আমাদের মতো শিক্ষিত ও আলোক প্রাপ্ত মানুষ |

আমাদের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত
শ্রেণি শুধু আমাদের ছোট্ট এই সংসারটুকু নিয়ে ভাবি | আমরা শুধু ভাবি আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে | আমরা ভাবি আমাদের ছেলেমেয়েগুলোকে কিভাবে বড়ো বড়ো মোটা অঙ্কের টাকা রোজগারের যন্ত্র বানাতে | লেখাপড়া কি শুধু আমাদের টাকা রোজগারের যন্ত্র হতে শেখায় | বিবেক দিয়ে কি আমরা রবীন্দ্রনাথ , বিবেকানন্দ পড়িনি | আমাদের ছোট আমিকে কেন আমরা পারিনা বড়ো আমিতে রূপান্তর ঘটাতে |
কিছু মানুষ পারেন | তাঁরা আমাদের পথ দেখান | তাঁরা হতে পারেন শিল্পী | হতে পারেন মহামানব |

১৯২০ র সময়ে পৃথিবীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর ইংরেজি ভাষার আইরিশ কবি উইলিয়ম বাটলার ইয়েটস লিখলেন সেইসব বিখ্যাত লাইন….
“Turning and Turning in the widening gyre/The falcon cannot hear the falconer/ Things fall apart, centre cannot hold ; /Mere anarchy is loosed upon the world/ The blood dimmed tide is loosed ; and everywhere / The ceremony of innocence is drowned/ The best lack all conviction, while the worst/ Are full of passionate intensity” .( “The Second Coming” ).. সমগ্র ইউরোপের লক্ষ লক্ষ মানুষের খুন ও রক্তপাত দেখে শিউরে উঠে কবি লিখলেন এ এক অমর কাব্য। এই কাব্য শিল্পী ইয়েটস কিভাবে মানুষের সংবেদকে নাড়া দিচ্ছেন “Easter 1916 ” কবিতা লিখে। যে কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন বৃটিশ মিলিটারি পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন আইরিশ জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীর মৃত্যুতে |

আমাদের বাংলার কবি নজরুলকে দেখি “কান্ডারী হুঁশিয়ার” নামের কবিতায় কিভাবে তিনি জাতিকে জাগাচ্ছেন | লিখছেন গান, ” কারার ওই লৌহ কপাট , ভেঙে ফেল কররে লোপাট” | লিখছেন, “চল চল চল উর্ধগগনে বাজে মাদল” | শিল্পীর দায় বড়ো হয়ে দাঁড়ায় এইভাবে| কবি জীবনানন্দ তাঁর “১৯৪৬…৪৭ “কবিতায় কিভাবে তৎকালীন হিন্দু মুসলমান দাঙ্গাকে তুলে ধরেছেন আমরা তা জানি | ইতিহাস কিভাবে কবিতার পাতায় শব্দবদ্ধ হতে পারে | কালের কলস কিভাবে পূর্ণ হয় কবিতার ভাষায় শিল্পীত রূপে তা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন কবিরা | কবি শেলী কে কি ভুলতে পারি তাঁর “England 1819” কবিতায়। ভুলতে কি পারি নিদারুণ দীর্ঘ কবিতা রূপকের আশ্রয়ে লেখা “The Mask of Anarchy ” কে। যার শেষের লাইনগুলিতে কবি উচ্চারণ করেন , “Rise like lions after slumber/ In unvanquishable number/ Shake your chains to earth like dew / which in sleep had fallen on you./ Ye are many they are few.”

.
গ্রীক নাটকে দেখা যায় Character is destiny , অর্থাৎ চরিত্র নিজেই পরিণতি | গ্রীক নাটক বলতে আমি বলতে চাইছি প্রাচীন কালের গ্রীক ট্রাজেডি | ৪৫০ থেকে ৩৫০ খৃ় পূ এর নাটককার এসকাইলাস , সোফোক্লিস এবং ইউরিপিদেস এর নাটকের কথা বলতে চাইছি | এই সব মহান শিল্পীরা মানুষের জীবনের পরিণতি কে দেখাতে চেয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় বাস্তবতা ও পরিস্হিতি কে কেন্দ্র করে | তার সাথে তাঁরা জুড়ে দিয়েছেন অলৌকিক রহস্যময়তা | নাটকের চরিত্ররা রাজা রাণী ও সমাজের অভিজাত শ্রেণির | গ্রীকেদের বিশ্বাস ছিলো ঈশ্বরে | ভারতীয় পুরানের মতো গ্রীক ট্রাজেডিতেও গ্রীক দেবতাদের উপস্হিতি ছিলো উল্লেখযোগ্য। আপলো, জিউস প্রভৃতি নাম আমরা হামেশাই পেয়ে থাকি |

মানুষ সারা জীবন ধরে এক অদৃশ্য অদৃষ্টের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে করতে এগিয়ে চলে | শেষে জীবনকে আহুতি দেয় inscrutable power of Fate , অর্থাৎ রহস্যরঞ্জিত ভাগ্য এর শক্তির কাছে। মানুষের Free Will অর্থাৎ নিজের মুক্ত ইচ্ছে সর্বদাই সংগ্রামে উদ্যত এই অদৃষ্ট শক্তির সাথে | শেষে নেমে আসে মানুষের পরাজয় | মানুষের এই পরিণতি নির্দেশিত পরাজয় তাকে নিঃশেষ করে, উদ্বাস্তু করে, শেষত ঠেলে দেয় মৃত্যুর দিকে। গ্রীক নাটকে এই পরাজয় অনিবার্য ও অবশ্যম্ভাবী| সোফোক্লিসের “কিং অয়েদিপাউস” ও অন্যান্য নাটকে তাই দেখি |

ভারতীয় প্রাচীন নাটকে অর্থাৎ সংস্কৃত নাটকে ট্রাজেডি নেই | সব নাটকেই মানুষে মানুষে মিলনের কথাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে | মহাকবি কালিদাসে দেখি , “অভিজ্ঞান শকুন্তলম” নাটকে শকুন্তলার বিচ্ছেদ তাঁর বর রাজা দুষ্মন্তের সাথে অবশেষে মিলনকে রসসিক্ত করে | শিল্পীর কাজ দেশে দেশে যুগে যুগে মানুষের সংবেদে সেই সময়কার রাজনীতি , ইতিহাস , সমাজ কে তুলে ধরা | মানুষ যেন দেখতে পায় একটি আয়না তার চোখের সামনে তুলে ধরা হয়েছে | সে আয়না ঘটমান জীবনের ও সময়ের | শিল্পীর কাজ ও শিল্পের ভূমিকা পরবর্তী সময়ের মানুষের কাছে তাঁর যাপিত জীবনকে পৌঁছে দেওয়া শৈল্পিক মহিমা ও সৌন্দর্যে |

১৬০০ এর সময়কালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শেক্সপীয়র যেসব নাটকগুলি লিখে বিখাত হলেন সেগুলি ট্রাজেডি |” হ্যামলেট,” “ওথেলো” , “কিং লিয়ার” , “ম্যাকবেথ” , “এন্টনি ও ক্লিওপেট্রা” , “জুলিয়াস সিজার” , “রোমিও আন্ড জুলিয়েট” এই নাটকগুলি কবিকে অমরত্ব দিয়েছে| কিন্তু কেন?


A little water is suffice to erase the mark of blood from the hand….অর্থাৎ একটুখানি জলই যথেষ্ঠ হাত থেকে রক্তের দাগ মুছে ফেলার জন্য | এই কথাগুলি লেডি ম্যাকবেথ অতি সাবলীলতায় ভাবনাহীন ভ্রূক্ষেপে শেক্সপীয়রের “ম্যাকবেথ” নাটকের প্রথমের দিকে বলে ফেললেন | ১৬০৫ এ লেখা এই নাটক আজ প্রায় ৪২০ বছর পর কতখানি প্রাসঙ্গিক তা আমাদের বাংলায় গত ১১ জুন, ২০২৩ পঞ্চায়েত ভোট দেখে বুঝতে পারি | নাটকে খুন হচ্ছে রাজা ডানকান যিনি ম্যাকবেথ কে নিজের পরম আত্মীয় ভেবে যুদ্ধ জয়ের পর বুকে জড়িয়ে ধরছেন। সেই পিতৃপ্রতিম রাজা যিনি রাজ্যের রক্ষক, প্রজাপালক, কল্যাণকামী |

আমাদের ভারতীয় গণতন্ত্র হোল রাজা ডানকানের মতো | যে গণতন্ত্র বারবার খুন হচ্ছে ম্যাকবেথ ও লেডি ম্যাকবেথদের হাতে | লেখক শিল্পী নাটককার কতোটা প্রাসঙ্গিক বোঝা যায়| কাল ভেঙে যাঁর নাটক কালান্তরের কথা বলে।
কিন্তু নীতিভ্রষ্ট খুনের অবৈধ এই ক্ষমতার দৈত্যদের , পিশাচদের কি পরিণতি হয় আমরা তা জানি | তার বর্তমান উল্লাস একদিন নিদারুণ করুণ একাকিত্বের অন্তিমে স্হিত হয় | সময়ের বিচারক কাউকে ছেড়ে দেয়না| পাপের সাম্রাজ্য একদিন মারি শেলীর ফ্রানকেনস্টাইন দৈত্যের মতো, অতি হিংস্র ভুজংগের মতো জড়িয়ে ধরে | অবশেষে কোলোসাস পতন | ট্রাজেডির ডেসটিনি তাই | Hubris অর্থাৎ অতিদর্প হিরো বা হিরোইন এর পতনকে তরাণ্বিত করে | আমরা জানি সেসব…..অতিদর্পে হতা লংকা….অতি মানে চ কৌরবা…| শিল্পী হিসেবে শেক্সপীয়রের প্রাসংগিকতা হোল ট্রাজেডিগুলিতে তাঁর মানুষের চরিত্রের বহুমাত্রিকতাকে অমর কাব্যে রূপ দেওয়া | অসাধারন ও অপূর্ব শব্দচয়ন | গতিময় উপস্হাপন | আগুনে মেধার সংলাপ | রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতা, সৃষ্টিময়তার দার্শনিক সত্যে যা অবগাহিত।


গ্রীক সংস্কৃতিতে মদের দেবী হলেন ডাইয়োনিসাস | আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে মদের দেবী কে আমরা তা জানি | নিশ্চয় তাঁর অধিষ্ঠান কালীঘাটে | মদের আকন্ঠ কুশীলবেরা এই দেবীর পুজো করে গ্রীসে | আমাদের মদের মহোৎসব কালিকা দেবীকে নিয়ে | মহামাতালেরা নাচানাচি করে সারারাত নিশি যাপনের ফূর্তি ফোয়ারায় | ভোর হোলে শুরু হয় ছাগ বধের রক্তলীলা | ঢাকের উদ্দাম বাদ্যে বধ হয় নিরীহ ছাগল| আমাদের দুপেয়ে ছাগলগুলিকে সারা বছর খাবার খাইয়ে বলির যূপকাঠে তোলা হয় ভোট এলে | এই আমাদের ট্রাজেডি।
ট্রাজেডি কথাটি এল এই goat song থেকে। ছাগল বলি দেবার সময় চারিদিকে একটা করুণ সুরের পরিবেশ রচিত হয় | গ্রীক ভাষায় এই goat song কে “ট্রাগোস” বলে। এই ট্রাগোস থেকেই উৎপত্তি ট্রাজেডির। গ্রীক ট্রাজেডির সাথে শেক্সপীরীয় ট্রাজেডির তফাৎ আছে | সোফোক্লিসের অয়েদিপাউস এর নিজস্ব চয়েজ নেই | সে ডেসটিনির হাতে পরিচালিত | সে তার বাবাকে খুঁজতে বেরিয়ে বাবাকে চিনতে পারে না | নিজের অজান্তে বাবার সাথে যুদ্ধে বুড়ো বাবা রাজা লাইউস কে মেরে ফেলে | শুরু হয় তার অঘোষিত নিশ্চিত পতনের পথ | সে ভাগ্যতাড়িত এক পুতুল| He is more sinned than sinning.

অন্যদিকে ম্যাকবেথ কিছুটা অদৃষ্টের হাতে পরিচালিত হলেও তার নিজের overvaulting ambition দ্বারা পরিচালিত। তার ছিল রাজা হবার উদগ্র বাসনা। যেন তেন প্রকারেন সে রাজা হবেই হবে। ডানকান কে খুন করতে গিয়ে তার হাত কাঁপলেও , পরের খুনগুলোতে সে দাগী ঘাতক, a seasoned criminal. তার একটা Free Will আছে। যেটা অয়েদিপাউসের নেই | তাকে রাজা হতে হোল এবং নিজের অজান্তে পুরোনো গ্রীক প্রথা অনুযায়ী তার মাকে বিয়ে করতে হোল | এই পাপের কাজ তার কাছে পুরোপুরি অজ্ঞাত | ফল বিষময় | ব়াজ্যে নেমে এলো মহামারী | কিন্তু ম্যাকবেথএর যা কিছু তার নিজের লোভ ও পাপের ফসল | Macbeth is a man with a capital M.

১০

গ্রীক নাটকের সাথে শেক্সপীরীয় নাটক , এ নিয়ে আর আলোচনা করার বোধ করছি না | এই লেখার একেবারে শেষে আমি কিছু কথা বলি | “জুলিয়াস সিজার ” নাটকের ২য় অঙ্ক, ২য় দৃশ্যে শেক কবি বলছেন…”Cowards die many times before their death;/ The valiant never tastes of death but once”. শিল্পীরা তাদের কাজে হবে নির্ভীক | ঘটমান বিশ্বকে তারা তাদের শিল্পমাধ্যম দিয়ে তুলে ধরবে।

এই মুহূর্তে গত ১০ বছর যাবৎ আমাদের গণতান্ত্রিক ভারত তথা বাংলায় শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমগুলি একটা অদ্ভূত স্হবির অবস্হার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে | আমাদের মতো কোন কোন কবি সাহিত্যিক , হাতে গোনা শিল্পী সংস্কৃতির মাধ্যমে সরকারের দানবীয় কাজের বিপক্ষে কথা বলে | বাকি সবাই বেশিরভাগ ইয়েসম্যান | মেরুদন্ড বিকিয়ে দিয়ে সরকারি পদ ও পুরস্কার হাতিয়ে নিয়েছে | এই দাসস্য দাসেদের হাজার হাজার অনুগামী | সবযুগেই এসব ছিলো| তবে আগে এতোটা ইতরদের জায়গা ছিল না | প্রতিবাদী মানুষ ছিলো | নীতিহীন লুম্পেনদের জায়গা হয়ে উঠেছে এই সংস্কৃতি মঞ্চগুলি গত ১০ বছরে যতো দিন গেছে ততোই | বিবেকবান মানুষেরা, সেনসিটিভ কবি, লেখক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ বর্তমান সরকারের অক্টোপাস হ্যান্ড থেকে দূরে সরে গেছে | নিম্নমেধার ছাগল এবং সেই ছাগলগুলির অভিভাবক হিসেবে কিছু তৈলনিষিক্ত বুদ্ধিমানও থেকে গেছে।

শিল্পে সাহিত্যে নাটকে সিনেমায় যদি সরকারের নিপীড়ন, খামখেয়ালি নীতি গ্রহণ যা যুবসম্প্রদায়ের উন্নতির অন্তরায় তা নিয়ে যদি লেখকরা না লেখে, নাটককাররা নাটক না মঞ্চস্হ করে , সিনেমাকাররা যদি সিনেমা না বানায় তাহলে সমাজ ও সংস্ক়ৃতি স্হবির, জড়, ও মৃতবৎ হয়ে পড়বে। যার পরিণতি শাসকের আরও বেশি করে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা | যা এখন ঘটে চলেছে | টাকা দিয়ে তথাকথিত সাধনাহীন শিল্পীরা সম্মান কিনছে | সম্মান কি এতোই ঠুনকো জিনিস| সৎ মানুষের মতো যাপন থেকে শিল্পীরা সরে যাচ্ছে| তারা আশ্রয় নিচ্ছে শর্টকার্টে কিকরে মঞ্চ পাবে | কিকরে কবিরা মিথ্যা ও অর্ধমিথ্যা দিয়ে সাময়িক নাম কিনে বিখ্যাত হতে চাইছে| আমার অন্তরনিহিত চোখগুলো অভিজ্ঞতা দিয়ে এসব ভালো চেনে | নারীর বাইরের সৌন্দর্য কিভাবে পুরুষের মন জিতে নিয়ে তাকে মঞ্চে তুলে দুদিনের চটজলদি হিরোইন বানিয়ে দিচ্ছে এসব বেশ সার্কাসের মতো লাগে।

সুতরাং শিল্প এক অমর যাত্রা, অনন্ত সময়ের সাক্ষী, সময়ের আয়না হয়েও তা হতে পারে প্রাসংগিক | শিল্পীকে হতে হবে নির্লোভ , নির্ভীক | তাকে কোন উৎকোচ দিয়ে সরকার যেন কিনে নিতে না পারে | সে সাধনায় বীর, চিন্তনে মানবিক | তার মন ও মননের মাটিতে জ্বলতে থাকবে আগুন| আলো হবে তার গন্তব্য এবং এই আলোর ছটাতে আলোকিত হতে থাকবে তামাম জগতের মানুষ। সভ্য পৃথিবীর অংগীকার হবে মানুষের আগামী।

 

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
demon slauer rule 34 lena the plug leak amateurtrheesome.com cumming in milfs mouth mujer haciendo el amor a un hombre, belle delphine of leaked emma watson in porn xxxamat.com big booty in public hidden cam gay sex, sit on face porn g a y f o r i t forcedpornanal.com please screw my wife female celebrity sex tapes